শনিবার ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইন

সিদ্দিক জনি॥ শিশুর সুস্থভাবে বেঁচে থাকা- স্বাভাবিক বৃদ্ধি এবং শক্তির জন্য ভিটামিন ‘এ’ সবচেয়ে গুরুত্ব বহন করে থাকে। সেই লক্ষ্যে আগামী ১৪ নভেম্বর শনিবার সারা বাংলাদেশে একযোগে ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। তারই ধারাবাহিকতায় বরিশাল বিভাগের ৬টি জেলায় ৬-১১ মাস বয়সী ১ লাখ ৩৩ হাজার ৭৩৯ জন শিশু এবং ১২-৫৯ মাস বয়সী ১০ লক্ষ ৯৯ হাজার ৯১৯ জন শিশুকে এই ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। এই বছর ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের দ্বিতীয় পর্যায়ে বিভাগের ৪১টি উপজেলায় ৩৭০টি ইউনিয়ন/ওয়ার্ড, স্থায়ী ক্যাম্প ৪৪টি, অস্থায়ী ক্যাম্প ৭ হাজার ৬০৩টি, মোবাইল টিম ১৪৯টি, অতিরিক্ত ৩৯৭টি এবং দুর্গম এলাকায় ২৩৯টিসহ মোট ৯ হাজার ৪৭টি ক্যাম্পের মাধ্যমে এই ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানাগেছে, ৬-১১ মাস বয়সী শিশুকে ১টি নীল রঙের ভিটামিন-এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। এছাড়াও ১২-৫৯ মাস বয়সী শিশুকে ১টি লাল রঙের ভিটামিন-এ খাওয়ানো হবে। এই ভিটামিন এ ক্যাপসুল শুধুমাত্র ১৪ নভেম্বর খাওয়ানো হবে বলে স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে জানা যায়। এছাড়াও এই ক্যাপসুল খাওয়ানো ক্যাম্পেইনে সেবা প্রদান করবেন এইচএ ১ হাজার ৫৩২জন, এফডব্লিউএ ১ হাজার ৬৬০জন, সিএইচসিপি ১ হাজার ৫৩ ও স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে ২৩ হাজার ৩৩৭ জন। সূত্র থেকে আরও জানা যায়, গত বছর এই বিভাগে ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী ১ লক্ষ ২৬ হাজার ৮৫৭ শিশুর মধ্যে ১ লক্ষ ২৫ হাজার ৮১১ জন শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়েছে। এছাড়াও ১১ থেকে ৫৯ মাস বয়সী ১০ লাখ ৮০ হাজার ৩৪৫ জন শিশুর মধ্যে থেকে ১০ লক্ষ ৬৮ হাজার ৮০৪ জন শিশুকে এই ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়েছিল। এদিকে জাতীয় ভিটামিন-এ প্লাস ক্যাম্পেইন পালন উপলক্ষে বিভাগীয় অরিয়েন্টশন ও কর্ম পরিকল্পনা কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সোমবার সকাল ১০টায় নগরীর ব্রাউন কম্পাউন্ড স্বাস্থ্য বিভাগীয় ট্রেনিং সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয়। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান মন্ত্রনালয়ের আয়োজনে বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডাঃ বিনয় কৃষ্ণ বিশ^াসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার মোঃ গাউস। বিশেষ অতিথি ছিলেন ডিআইজি হুমায়ন কবির পিপিএমবার, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের (স্বাস্থ্য) পরিচালক রবিউল হক যুগ্ম সচিব, প্রোগ্রাম ম্যানেজার ডাঃ তাহেরুল ইসলাম খান প্রমুখ। কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য দেয় স্বাস্থ্য বিভাগের সহকারী পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রন) ডাঃ জসিম উদ্দিন হাওলাদার। ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন বিষয়ে বিভাগীয় তথ্য উপস্থাপন করেন সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডাঃ বাসদেব কুমার দাস। এতে বক্তারা বলেন, ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের প্রথম পর্যায়ে শতকরা ৯৯ ভাগ শিশুকে ক্যাপসুল খাওয়ানো সম্ভব হয়েছে। তাই এই দ্বিতীয় পর্যায়ে শতকরা ১০০ ভাগ শিশুকেই এই ভিটামিন ক্যাপসুল খাওয়ানো সম্ভব। সেই লক্ষ্যে জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন পর্যায়ে ব্যাপক প্রচার প্রচারণা বৃদ্ধি করতে হবে। এছাড়াও বিভিন্ন স্থানে এ্যাডভোকেসি সভা ও মাইকিং এর মাধ্যমে সবাইকে সচেতন করা যেতে পারে। কারণ যেহেতু ১ দিনই এই ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। সেক্ষেত্রে সব শিশুকে যাতে খাওয়ানো সম্ভব হয় সেই লক্ষ্যে কাজ করে যেতে হবে। কর্মশালায় বিভাগের বিভিন্ন দপ্তরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।