শত্রুতা উদ্ধারে শিশুদের ব্যবহার বাড়ছে

পরিবর্তন ডেস্ক ॥ বর্তমানে মিডিয়া শিশু হত্যা ও নির্যাতন প্রতিরোধে সোচ্ছার হয়েছে। মিডিয়ার কঠোর ভূমিকায় নানা সংস্থা রাজপথে আন্দোলনসহ প্রতিরোধ কর্মসূচী পালন করছে। তাই শিশু রক্ষায় বর্তমান সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। যার কারনে শিশুদের উপর সামান্য নির্যাতন হলেই আইনশৃংখলারক্ষাকারী বাহিনী এক চুলও ছাড় দিচ্ছে না। আর এই সুযোগ নিচ্ছে লালসায় থেকে জন্মা নেয়া প্রতিশোধের নেশায় আসক্ত মানুষরুপী পিশাচরা। পিশাচরা শিশুদের ব্যবহার করে শত্রু দমনের মিশন শুরু করেছে। মমতাময়ী মা থেকে শুরু করে বাবা, দাদা-দাদী ও চাচারাও জড়িয়ে পড়ছেন।
শিশু সন্তান নিয়ে শত্রুতা উদ্ধারের আরো একটি ঘটনা ফাঁস হয়ে গেছে। রাজাপুর উপজেলায় শিশু কন্যাকে অপহরণের অভিযোগ এনে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে গিয়ে পুলিশী নজরদারীতে রয়েছে বাবা-মা। বুধবার গভীর রাতে শিশুকে উদ্ধারের পর অপহরণ নাটক ফাঁস হয়।
এর আগে ওই একই দিনে উজিরপুরে শত্রুতা উদ্ধারে ৮ মাসের কন্যাকে হত্যার অভিযোগে আপন ও চাচাতো দুই দাদাসহ দাদী এবং চাচাকে আটক করেছে পুলিশ।
আমাদের রাজাপুর প্রতিবেদক জানান, উপজেলার পুটিয়াখালি গ্রামের আনোয়ার হোসেনের কন্যা সনিয়া আক্তার নিখোঁজ দাবী করে থানায় জিডি ও এলাকায় মাইকিং করা হয়। সনিয়া আদাখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেনীতে পড়ে।
রাজাপুর থানার পরিদর্শক (ওসি) শেখ মুনীর উল গিয়াস ও এস আই বিপ্লব মিন্ত্রী জানান, বুধবার গভীর রাতে ওই স্কুল ছাত্রীকে তার নানা বাড়ি ভান্ডারিয়ার চরখালি থেকে স্থানীয়দের সহযোগিতায় উদ্ধার করেছে পুলিশ।
অভিযোগ রয়েছে, ছাত্রীর মা মারুফা বেগম তার দেবর শামিম হোসেনকে ফাঁসানোর জন্য তাকে লুকিয়ে রেখে অপহরণের নাটক করেছে। কালো গ্লাস লাগানো মাইক্রোবাসে উঠিয়ে অপহরণ করা হয়েছে বলে অপপ্রচার চালিয়ে আইনশৃঙ্গলা বাহিনীসহ সকলকে হয়রানি করেছে। তাই বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত শিশু ছাত্রী ও তার মা এবং বাবাকে পুটিয়াখালি বাজার কমিটির সভাপতি দবির মিরার জিম্মায় দেয়া হয়েছে।
অপরদিকে মঙ্গলবার গভীর রাতে উজিরপুর উপজেলার হস্তিশুন্ড গ্রামে ঘুমন্ত আট মাসের কন্যা শিশু মরিয়ম আক্তার পুকুরে নিক্ষেপ করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ নিহত শিশুর দাদা নজরুল বেপারী, দাদি রোকসানা পারভীন, চাচা আবু সুফিয়ানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে।
পুলিশের প্রাথমিক ধারনা জমি ও টাকা চুরি নিয়ে জ্ঞাতী স্বজন মাদ্রাসা শিক্ষক আবু বক্কর সেলিমকে ফাঁসাতে শিশু কন্যাকে হত্যা করা হয়েছে। এ অভিযোগ শিশুর পরিবার অস্বীকার করেছে। তাই ওই হত্যার ঘটনায় শিশুর বাবা ইমরান হোসেন বেপারী কাউকে আসামী না করে মামলা করেছে।