শংকপাশা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন ও ক্লাস বর্জন

ঝালকাঠি প্রতিবেদক॥ চরম দূনীতি ও বিধি লঙ্ঘণ করে বেআইনিভাবে নির্বাচিত করার অভিযোগে ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার শংকরপাশা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি গোলাম জাফর খোকনের অপসারনের দাবীতে মানববন্ধন ও ক্লাস বর্জন কর্মসূচি পালন করেছে শিক্ষার্থীরা। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১১ টায় বিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ঘন্টাব্যাপী এ মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা সভাপতি খোকনের বিভিন্ন অপকর্ম লেখা ফ্যাস্টুন ও ব্যানার নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। এসময় তারা ক্লাস বর্জন করে বিদ্যালয়ের মাঠে অবস্থান নেন। অবিলম্বে তারা খোকনকে ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতির পদ থেকে অপসারণ না করা হলে টানা ক্লাস বর্জনসহ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে জানায়, খোকনের গ্রামের বাড়ি নলছিটির শংকরপাশা এলাকায় হলেও তিনি ঢাকায় বসবাস করেন। সেখানে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে গোপনে আতাত করে বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। তার ভয়ে কেউ স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে কথা বলছে না। তাই তাকে দ্রুত এ পদ থেকে অপসরনের দাবী জানানো হয়।
বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য মোঃ সেলিম জানান, গোলাম জাফর খোকন ক্ষমতাসীন মস্তান বাহিনী দ্বারা অপর সদস্যদের ও প্রধান শিক্ষককে ভয়ভীতি দেখিয়ে গোপনে ১ মে বন্ধের দিন ৪ জন সদস্যকে নিয়ে নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সভাকক্ষে সভা দেখিয়ে বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে সভাপতির নাম প্রস্তাব দাখিল করেন। যা আইন পরিপন্থি। এছাড়া ভোট গ্রহনেও চরম অনিয়ম ও দূনীতির আশ্রয় নেয় প্রধান শিক্ষক ও খোকন। এ ব্যাপারে বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক বরাবর লিখত অভিযোগ দেয়া হয়েছে।
বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক ও ব্যবস্থাপনা কমিটির শিক্ষক প্রতিনিধি সদস্য দেবভ্রত দাস জানান, ১ মে শুক্রবার বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় আমি বরিশালে বাসায় ছিলাম। কমিটির মিটিংয়ে উপস্থিত ছিলাম না।পরে আমার বাসায় গিয়ে প্রধান শিক্ষক আমার স্বাক্ষর আনেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মৌলভি আবদুর রশিদ শিক্ষার্থীদের মানবন্ধন ও ক্লাস বর্জনের কথা স্বীকার করে বলেন, বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা স্থানীয় পৌর কাউন্সিলর জামাল হোসেন খানকে ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি পদে চাইছে। তাই শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছে। শিক্ষার্থীরা এমন দাবীই জানিয়েছে।
নলছিটি পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জামাল হোসেন খান বলেন, গোলাম জাফর খোকনের অবৈধ আয়ের টাকা দিয়ে গোপনে বন্ধের দিন ১ মে বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির নির্বাচন দেখিয়ে সভাপতি হয়েছেন। ওই পদে আমিও একজন প্রার্থী ছিলাম। বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষার্থীরা আমাকে চাইলেও ষড়যন্ত্রের কারণে তাদের মনের ইচ্ছে পূরণ হয়নি।
বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি গোলাম জাফর খান বলেন, স্থনীয় একটি কুচক্রী মহল আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে এসব করছে।