লো-ভোজে অকেজো যন্ত্র

জুবায়ের হোসেন ॥ নগরীতে লো ভোল্টেজের বিদ্যুতে প্রতিদিন অকেজো করছে লক্ষ টাকার ইলেকট্রনিক্স পন্য। এছাড়াও রয়েছে হঠাৎ করে বেড়ে আবার মূহুর্তে ভোল্টেজ কমে যাওয়ার সমস্যা।
এই দুয়ে শুধু ইলেকট্রনিক্স পন্য অকেজো করে না, প্রতিরোধী ব্যবস্থা নিয়েও কোনভাবে পেরে উঠছে না নগরবাসী। তাদের শখের ও রক্ত পানি করা অর্থে কেনা পন্যের স্থায়িত্ব কমিয়ে দিচ্ছে। ত্রুটিপূর্ন করছে পন্য সামগ্রী। যার কারনে ইলেকট্রনিক্স পন্য মেরামতকারীর কাছে নগরবাসীর যাতায়াত নিয়মিত করে দিয়েছে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী দপ্তর।
নগরবাসীর অভিযোগ দপ্তরের উচু থেকে নিচু সব পদবীধারীরা দুর্নীতিতে নিমজ্জিত। তাদের অনৈতিক অর্থ আয়ের খেসারত দিচ্ছে নগরবাসী। কষ্টে অর্জিত অর্থের, ব্যস্ত জীবনের সময় ও শখে ক্রয় করা পন্য হারিয়ে বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে দীর্ঘশ্বাস ছাড়ছে।
অসাধু বিদ্যুতের পদবীধারীদের অনৈতিক অর্থ প্রাপ্তিতে অবৈধভাবে বিদ্যুতের ব্যবহার, অটোরিক্সা চার্জ দেয়া ও মান্ধাতা আমলের যন্ত্রপাতির ব্যবহার অব্যাহত রাখা নগরবাসীর ভোগান্তিতে ফেলছে। বিদ্যুৎ দপ্তরের এই সমস্যার সমাধান দেয়ার বা কোন ব্যবস্থা নেয়ার কর্মকর্তার সন্ধান নেই।
সমস্যা সমাধানের অভিযোগ শিয়ালের কাছে মুরগী দেয়ার মতো অবস্থা হয় বলে জানায় ভুক্তোভোগি বাসিন্দারা।
তাদের বিস্তারিত অভিযোগ ও তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, নগরীতে বিদ্যুত সরবরাহকারী ওয়েস্টজোন পাওয়ার ডিস্টিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো) ১ এবং ২ এর সকল এলাকার গ্রাহকরা এই সমস্যা ভোগ করে। তবে ওজোপাডিকো-২ এর গ্রাহকরা মোটামুটি সন্তুষ্ট থাকলেও মহা ভোগান্তি পোহাচ্ছে ১ এলাকার হাজারো গ্রাহক। তারা প্রাথমিকভাবে ব্যক্তিগত সংযোগে সমস্যা ভেবে মেরামত করে। কিন্তু সমাধান পান না। কিন্তু মেরামতে আসা ওজোপাডিকো-১ এর কর্মীদের মোটা অংকের চা-পানির খরচ গুনতে হয়।
অন্যদিকে ভোর ৭টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত এবং সন্ধ্যা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত হওয়া এমন ভোল্টেজের ওঠানামার কারনে প্রতিদিনই দু একটি পরিবারের ইলেকট্রনিক্স সরঞ্জাম যেমন- টিভি, ফ্রিজ, ওয়াসিং মেশিন, কম্পিউটার অকেজো হচ্ছে। যার প্রমাণ মিলেছে ইলেকট্রনিক্স সরঞ্জামাদি মেরামত কর্মী ইভা ইলেকট্রনিক্স এর সত্ত্বাধিকারী আউয়াল হোসেন এর সাথে কথা বলে। তিনি জানান, প্রতিদিন কেউ না কেউ তাদের গৃহের ইলেকট্রনিক্স এর যেকোন পণ্য নিয়ে আসছেন। এদের মধ্যে বেশিরভাগই অনিয়মিত ও অসামঞ্জস্য পূর্ণ বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য বিকল হয়েছে। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, একটি ফ্রিজে যদি হঠাৎ বিদ্যুৎ সরবরাহ কমে যায় আবার যদি ক্ষনেই তা বেড়ে কয়েকগুণ হয় তবে বিকল না হওয়াটাই অস্বাভাবিক। লো ভোল্টেজ এর কারন জানিয়ে ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্টিবিউশন কোম্পানির একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, নগরীর ট্রান্সফর্মার থেকে বৈদ্যুতিক, তার ও যন্ত্রাংশ প্রায় সবই মান্ধাতা আমলের। এগুলোর এমনই অবস্থা যার জন্য অতিরিক্ত রোদ বা বৃষ্টি দুই ক্ষতিকর। নগরীতে মোট ৩৮৭টি ট্রান্সফর্মারের ২৩৫ টিই কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে। ওজোপাডিকো-১ এর আছে ১৮০টি ট্রান্সফর্মার যার ৪৪টি বিকল। বাদ বাকিদেরও অবস্থা শোচনীয়। বিগত কয়েকদিনের টানা বর্ষনে এগুলো কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলার উপক্রম। এখন তারা অতিরিক্ত বিদ্যুৎ সরবরাহের চাপ নিয়ে তা যথাস্থানে প্রয়োজন অনুসারে সরবরাহ করতে পারছে না বিধায় হচ্ছে ভোল্টেজের এ ওঠানামা। যে সকল এলাকায় বিদ্যুতের চাহিদা বেশি তুলনায় সরঞ্জামের অবস্থা খারাপ সে সকল এলাকাগুলোতেই সমস্যা প্রকটে দাড়িয়েছে। অবশ্য এ থেকে অবৈধ ব্যবহারের বিষয়টিও বেড়িয়ে এসেছে। কারণ পূর্বে ওই এলাকাগুলোর তার ও ট্রান্সফর্মার যখন মোটামুটি ভাল ছিল তখন অতিরিক্ত ও অবৈধ ব্যবহারকারীরা পার পেয়ে যেত। কিন্তু এখন তার হয়ে গেছে সমস্যা। অবৈধ বৈদ্যুতিক ব্যবহারের তথ্যানুসন্ধানে জানাগেছে, যে সমস্ত এলাকায় বা যে সমস্ত ফিডারে এমন সমস্যা হচ্ছে ওই সকল এলাকায় রয়েছে একাধিক ব্যাটারি চালিত রিক্সা চার্জের স্থান। যে সকল স্থানে প্রতিদিন চার্জ দেয়া শত শত অটো রিক্সা। তাদের জন্য বিদ্যুৎ বিভাগের চার্জ দেয়ার নিয়ম থাকলেও প্রভাবশালীদের এ সকল স্থানগুলোতে তা চার্জ দেয়া হচ্ছে দিনের সিংহভাগ সময়ে। অটো চালক ও মালিকদের দাবী অনুযায়ী নগরীতে এখন বৈধ অবৈধ মিলিয়ে ১০ হাজারের ওপর হলুদ অটো ও বোড়াক আছে। চার ও পাঁচ ব্যাটারি বিশিষ্ট এই গাড়িগুলো চার্জ দেয়া হয় নগরীর বিভিন্ন এলাকায়। প্রতিটি অটো একদিন চার্জের জন্য দিতে হয় ১২০ টাকা করে। যার লাভ রেখে ঘর মালিকদের বিদ্যুৎ বিলই দিতে প্রতি অটোতে ৭০/৮০ টাকা প্রতিদিন। আর যে সকল এলাকায় অটো চার্জ দেয়া হয় সে সমস্ত এলাকায় লো ভোল্টেজের সমস্যা অনেক পুরোনো বিষয় বলেও জানান তারা। এ বিষয়ে ওজোপাডিকো-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী এটিএম তরিকুল ইসলাম এর সাথে আলাপকালে তিনি কিছু জানেনই না বলেন। এমনকি তাকে এখন পর্যন্ত কেউ কিছু জানায়ওনি বলেন তিনি। তবে ব্যাটারী চালিত অটো চার্জের বিষয়টি লো ভোল্টেজের কারন এই বিষয় স্বীকার করে তিনি জানান, চালকদের বা যাদের স্থানে ব্যাটারী চালিত অটো রিক্সা চার্জ দেয়া হয় তাদের যানবাহনের ব্যাটারীগুলো চার্জের জন্য নির্ধারিত সময়সীমা বেধে দেয়া হয়েছে। তবে কেউ যদি তা না মানে তবে সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে তিনি ব্যবস্থা নেবেন।