লোডশেডিং ও গরমে নাকাল নগরবাসী একের পর এক বিকল হচ্ছে ট্রান্সফর্মার ॥ বিকল্প ট্রলি দিয়ে ২৪ ঘন্টা পর বিদ্যুৎ সরবরাহ

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ নগরীর মাত্র ৬০ হাজার গ্রাহকের চাপ নিতে পারছেনা বিদ্যুৎ বিভাগ। লোডশেডিং এর পাশাপাশি একের পর এক বিকল হচ্ছে ট্রান্সফর্মার। এক দিকে শরীর পোড়ানো গরম অন্য দিকে ঘন্টার পর ঘন্টা বিদ্যুৎবিহীন থাকায় পুরো অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীবন। বিরুপ প্রকৃতির উপরে রয়েছে আবার ২০/২৫ বছরের পুরনো ট্রান্স ফর্মারের যন্ত্রনা। গেল ৫০ বছরেও বরিশালবাসী এভাবে একটানা বৃষ্টি বিহীন আবহাওয়া লক্ষ্য করেননি। তবে প্রকৃতির চেয়েও এখন বিরুপ হয়েছে বিদ্যুৎ। যদিও বিদ্যুৎ বিভাগ বলেছে ট্রান্সফর্মার বিকল হচ্ছে অতিরিক্ত লোড নিতে গিয়ে। এখানো পুরনো ট্রান্সফর্মার কোন বিষয় নয়। বিদ্যুতের সঠিক ব্যবহার হলে ট্রান্সফর্মার বিকল হবার কোন প্রশ্ন আসেনা। গত কয়েক দিনে এই নগরীতে তাপমাত্রা বাড়ার চেয়েও বেড়েছে বিদ্যুতের যাওয়া-আসা। অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ গেছে কিন্তু আসেনি। বাইরেই রাত কাটাতে হয়েছে অনেককে। পুরুষরা বাইরে গিয়ে একটু প্রকৃৃতির বাতাসের স্বাদ পেলেও মহিলাদের ক্ষেত্রে তাও সম্ভব হয়নি। মহিলা আর শিশুদের ঘরেই সেদ্ধ হতে হয়েছে। নগরীর আমির কুটির ও পলিটেকনিক এলাকায় গেল পরশু বিদ্যুৎ গিয়ে এসেছে গতকাল। পুরো ২৪ ঘন্টা ওই এলাকা ছিলো অন্ধকারে। গতকাল একই পরিস্থিতির শিকার হতে হয়েছে নগরীর করিম কুটির, আমির কুটির, অক্সফোর্ড মিশন রোড, বটতলা এলাকার বাসিন্দাদের। পুরো একদিন সেখানে কোন বিদ্যুৎ ছিলোনা। এর পরে গতকাল একবার এসে আবার চলে যায়। অক্সফোর্ড মিশন রোড এলাকায় গতকাল বিদ্যুৎ গিয়ে চার ঘন্টা পরে এসে স্থায়ী ছিলো ৩০ মিনিট। এর পর বিকেলের দিকে বিদ্যুৎ আসে। বিদ্যুৎ কখন আসে আর কখন যায় এ নিয়ে গ্রাহকদের সর্বদা আতংকিত থাকতে হয়। বরিশালের দুটি ডিভিশনের আওতায় গ্রাহক রয়েছে মোট ৬০ হাজার। আর ৬০ হাজার গ্রাহকদের বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য মোট ৪০০ ট্রান্সফর্মার রয়েছে। এর অধিকাংশ ট্রান্সফর্মারই ২৫ বছরের বেশি পুরনো। ফলে বেশি লোড নিতে গেলেই এসব ট্রান্সফারের বারোটা বাজে। কয়েক মাস বিকল্প হিসেবে জরুরী বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য খুলনা থেকে দুটি ট্রান্সফর্মার আনা হয়েছে। কিন্তু এত বেশি হারে ট্রান্সফর্মার বিকল হচ্ছে যার ফলে বিকল্প ট্রলি দিয়ে কাজ হচ্ছেনা। কয়েক দিন পূর্বে জিলা স্কুলের সামনের ট্রান্সফর্মারটি বিকল হলে সেখানে বিকল্প হিসেবে ট্রলি ট্রান্সফর্মার দু,দিন রাখা হয়েছিলো। এখন বর্তমানে রাখা হয়েছে সরকারী বালিকা বিদ্যালয়ের সামনে। সরকারী বালিকা বিদ্যালয়ের সামনের ট্রান্সফর্মার কয়েকদিন ধরে বিকল হবার কারনে সেখানে ট্রলি ট্রান্সফর্মারটি রাখা হয়েছে। ওয়েষ্ট পাওয়ার জোন ডিষ্ট্রিবিউশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী তালুকদার আবু এহসানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ট্রান্সফর্মার পুরনো হয়েছে সেটা কোন বিষয় নয়। এগুলো পুরানো হলেও যদি বিদ্যুতের সঠিক ব্যবহার হয় তাহলে বিকল হবার কথা নয়। সমস্যা হলো যে পরিমান লোড নিতে পারে তার চেয়ে বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহার হচ্ছে নগরীতে। তাছাড়া অনেক বাসায়ই কোন ধরনের অনুমতি ছাড়াই লাগানো হয়েছে এয়ারকুলার। এর বাইরে রয়েছে অনুমোদন বিহীন বিদ্যুৎ লাইন। নগরীর শতাধিক ভিআইপি, ব্যক্তিমালিকানাধীন রেষ্টুরেন্ট, কমিউনিটি সেন্টার, সাইবার ক্যাফে, বড় বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহার করলেও এর বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। নিয়ম রয়েছে ট্রান্সফর্মার যে লোড নিতে পারে তার চেয়ে ২০ ভাগ কম বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে হবে। কিন্তু এখন অতিরিক্ত গরমের কারনে সেই নিয়ম মানা হচ্ছেনা। ফলে ট্রান্সফর্মার একের পর এক বিকল হচ্ছে। গত কয়েক দিন ধরে বৃষ্টি আসবে আসবে বলেও আর আসেনি। অনেক সময় আকাশ মেঘলা হয় কিন্তু বৃষ্টির আর দেখা মেলেনা। বরিশাল আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গতকালও বরিশালে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিলো ৩৫ ডিগ্রী সেলসিয়াসের উপরে। তারা জানিয়েছেন, এখন বৃষ্টির সময়। যে কোন সময় বৃষ্টি হতে পারে। তবে বৃষ্টির সম্ভাবনা ক্ষীণ বলে জানান দিচ্ছে প্রকৃতি। দেশের অন্যান্য জেলা-উপজেলায় বৃষ্টি হলেও নগরীতে এখনো বৃষ্টি হয়নি। বৃষ্টির জন্য মসজিদে মসজিদে হচ্ছে বিশেষ মোনাজাত। একদিকে প্রচন্ড গরম অন্য দিকে বিদ্যুতের লোডশেডিং নগর জীবনকে অতিষ্ট করে তুলেছে। প্রকৃতির অপারদান মূষলধারে বৃষ্টি ছাড়া নগরবাসী এ অবস্থা থেকে রেহাই পাবার সম্ভাবনা নেই।