লালমোহন বাঁশ দিয়ে ঠেলে রাখা কক্ষে মাদ্রাসার পাঠদান

মোঃ জসিম জনি, লালমোহন॥ লালমোহনে মাদ্রাসা কক্ষ বাঁশ দিয়ে ঠেলে রাখা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠায় তা যে কোন সময় ভেঙ্গে পড়ার আশংকায় বাঁশ দিয়ে ঠেলে রেখে ক্লাস করানো হচ্ছে ছাত্র-ছাত্রীদের। উপজেলার করিমগঞ্জ ইসলামীয়া সিনিয়র আলিম মাদ্রাসায় এ করুন অবস্থা বিরাজ করছে। দীর্ঘ ৭৪ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত মাদ্রাসা ভবনটি টিনসেডের নির্মাণ হলেও তা এতোদিনেও পাকা ভবন হিসেবে গড়ে ওঠেনি।
সরেজমিন মাদ্রাসা গিয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, ১৯৪৫ সালে লালমোহন করিমগঞ্জ ইসলামীয়া সিনিয়র আলিম মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে ধলীগৌরনগর ইউনিয়নের দক্ষিণাঞ্চলের ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিচ্ছে এ প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে এখানে প্রায় ৬ শতাধিক ছাত্র-ছাত্রী লেখাপড়া করছে। শিক্ষার ভালো মানের কারণে শিক্ষার্থীর সংখ্যায় এগিয়ে থাকলেও দীর্ঘ ৭৪ বছরে মাদ্রাসাটি পাকা ভবন হিসেবে গড়ে ওঠেনি। এ কারণে ক্লাস নিতে বিঘœ ঘটছে শিক্ষার্থীদের। পুরনো টিনে মরিচা পড়ে গেছে। কাঠ পালায় গুন ও উই পোকা খেয়ে পেলেছে। বৃষ্টি হলেই ঝরঝর করে পানি পড়ে টিনের চালা বেয়ে। লাইব্রেরী রুমে মূল্যবান কাগজপত্র ভিজে নষ্ট হচ্ছে। ইতোমধ্যে পূর্ব পাশের একটি টিনসেড ভবনের ৩টি কক্ষ পুরোপুরি পরিত্যাক্ত হয়ে গেছে। বাকী দুইটি টিনসেড ভবনে কোন মতে ক্লাস নিলেও দক্ষিণ পাশের ভবনটি হেলে পড়ায় তা বাঁশ দিয়ে ঠেলে রাখা হয়েছে। ঠেলে রাখা ওই কক্ষেই এবতেদায়ী ক্লাস করা হয়। অন্যান্য শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিতে অসুবিধা হওয়ায় এখন পাশের প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনের নিচের ফ্লোরে ক্লাস নিতে হচ্ছে।
এ ব্যাপারে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওঃ মোস্তাক আহমাদ বলেন, আমরা মাদ্রাসায় খুব কষ্টে আছি। শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিতে অসুবিধা হয়। বৃষ্টি হলে পানি পড়ে।
মাদ্রাসা কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব লোকমান হোসেন সোহেল জানান, এই মাদ্রাসা ভবনটি এলাকার ভোট কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তা সত্ত্বেও এটির কোন উন্নয়ন নেই। এখানে পাকা ভবন নির্মাণ করা প্রয়োজন বলে তিনি দাবী করেন।