লালমোহন-ঢাকা রুটে বন্ধের পথে লঞ্চ সার্ভিস ॥ এমপির হস্তক্ষেপ কামনা

মোঃ জসিম জনি, লালমোহন॥ লালমোহনের ঐতিহ্যবাহী লঞ্চ ঘাটটি এখন প্রায় বন্ধের পথে। লঞ্চ কর্তৃপক্ষের লোকসানের অজুহাত ও নাজিরপুর ঘাটের দৌরাত্মে এ ঘাটে লঞ্চ চলাচল বন্ধ করে দিচ্ছে মালিকরা। গত ১০ দিন পর মঙ্গলবার পাতারহাট-৫ লঞ্চটি জনাকয়েক যাত্রী নিয়ে লালমোহন ঘাট ত্যাগ করেছে। এরপর আবার কবে লঞ্চ চলবে তার কোন নিশ্চয়তা
নেই। এভাবে চলার কারণে যাত্রীরা এখন এই ঘাট বিমুখ হয়ে পড়েছে। এতে করে লঞ্চ ঘাটের অর্ধশতাধিক শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা প্রায় না খেয়ে দিন কাটাচ্ছে। লঞ্চ না চলার কারণে তাদের মাথায় হাত পড়েছে।
জানা গেছে, লালমোহন লঞ্চ ঘাট ছিল দক্ষিণ ভোলার ঐতিহ্যবাহী একটি ঘাট। প্রতিদিন ২টি করে লঞ্চ চলাচল করতো এ রুট দিয়ে। লালমোহনবাসী ছাড়াও চরফ্যাশন ও তজুমদ্দিনের যাত্রীরা এ ঘাট দিয়ে ঢাকা যাতায়াত করতো। এ ৩ উপজেলার ব্যবসায়ীরা সহজে মালামাল আনা নেওয়া করতো এই ঘাট দিয়ে। সেই ঘাটটি আজ ধ্বংসের পথে। লালমোহন-ঢাকা রুটে ৬টি লঞ্চের অনুমোদন থাকলেও সপ্তাহেও একটি লঞ্চ চলে না। একটি মহল লালমোহনের ঐতিহ্যবাহী এ ঘাট নষ্ট করে নাজিরপুর ঘাটকে স্থায়ী করার পায়তারা চালাচ্ছে। যে কারণে লালমোহন ঘাটে যুগের পর যুগ কেটে গেলেও একটি পন্টুন দিতে না পারলেও নাজিরপুর ঘাটে পন্টুন দেওয়া হয়েছে। একই ভাবে পন্টুন দেওয়া হয়েছে গজারিয়া খালগোড়া ঘাটে ও ফরাজগঞ্জ গাইমারা ঘাটে। এসব ঘাটে প্রতিদিন চরফ্যাশন ঘোষেরহাট রুটের ২টি লঞ্চ চলাচল করে যাত্রী নিয়ে যায়। ওই দুইটি লঞ্চ প্রতিদিন লালমোহনের নাজিরপুর ঘাট থেকে প্রতিযোগিতা করে মাত্র ১০০ টাকায় যাত্রী নিয়ে যায়। লালমোহনের রুটের লঞ্চ ১০০ টাকা নিলে তারা ৫০ টাকায় নেয়। এতে করে লালমোহনের রুটের লঞ্চগুলো মার খেয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে লালমোহন খাল দীর্ঘদিন ড্রেজিং না করার কারণে বড় লঞ্চগুলো এ খাল দিয়ে প্রবেশ করতে পারছে না। যার কারণে খালের নাভ্যতা সংকট ও অব্যাহত লোকসানের মুখে এ রুটে লঞ্চ চলাচলে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে লঞ্চ মালিকরা। এ ঘাটে এখন সপ্তাহেও একটি লঞ্চ চলে না। ৮/১০ দিন পরপর একটি লঞ্চ চলে। মালামাল বেশি জমা হলে তারপর লঞ্চ ছাড়ে। নিয়মিত লঞ্চ না চলায় স্বাভাবিক ভাবে যে যাত্রী হতো তাও এখন এই ঘাটে আসছে না। লঞ্চ না চলার কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে ঘাটের অর্ধ শতাধিক শ্রমিক। এছাড়া লঞ্চ যাত্রীদের উপর নির্ভরশীল দোকানপাটগুলো এখন বসে বসে দোকান পাহারা দিচ্ছে। বাজারের ব্যবসায়ীরা যথাসময়ে ঢাকা থেকে মালামাল আনতে না পারায় চরম দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছে।
ঘাট শ্রমিক নুরুদ্দিন, মোঃ ছবির, সামছুদ্দিনসহ একাধিক শ্রমিক জানান, লঞ্চ না চলার কারণে তারা বেকার বসে আছেন। অন্য কোন আয়ের পথ না থাকায় কষ্টে দিনাতিপাত করতে হচ্ছে তাদের। বউ বাচ্চা নিয়ে প্রায় না খেয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে। শ্রমিকরা আরো জানান, লঞ্চ মালিকরা লাভ না হলে লঞ্চ বন্ধ করে দেয়। এতে যাত্রী হবে কিভাবে। যাত্রীরা এ ঘাটে লঞ্চ না পেয়ে অন্য ঘাট দিয়ে চলে যাচ্ছে। যদি নিয়মিত লঞ্চ চলাচল করতো তাহলে প্রতিদিনই যাত্রী হতো। এ ব্যাপারে শ্রমিকরা এমপি নুরুন্নবী চৌধুরী শাওনের দৃষ্টি কামনা করেন।
অন্যদিকে লঞ্চ কর্তৃপক্ষ নাজিরপুর ঘাটকেই দোষারোপ করছেন। পাতারহাট-৫ লঞ্চের কেরানী রুপেষ দেবনাথ (বাবু) জানান, ঢাকা-লালমোহন রুটের স্বাভাবিক ডেক ভাড়া ৩০০ টাকা। সেখানে নাজিরপুর ঘাটে ঘোষেরহাটের ২টি লঞ্চ ভিড়ে মাত্র ১০০ টাকা করে সমস্ত যাত্রী নিয়ে যায়। এতে করে আমাদের রুটের লঞ্চগুলোতে যাত্রী হয়না।
একই কথা জানালেন লালমোহন রুটের এমভি মানিক-৯ এর ম্যানেজার মোঃ সেলিম। তিনি জানান, নাজিরপুর ঘাটে ঘোষেরহাটের ২টি লঞ্চ প্রতিদিন যাত্রী নিয়ে যায় ১০০ টাকা করে। তাদের তো কোন সমস্যা নেই। তারা যা পায় তাই লাভ। কিন্তু ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে লালমোহনের লঞ্চ সার্ভিসের।
লালমোহন বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব মোস্তফা মিয়া জানান, আমি লালমোহন রুট নিয়ে একাই চিৎকার করছি। কিন্তু কিছুই করতে পারছি না। নাজিরপুর ঘাটের প্রভাবের কারণে এ রুটটি নষ্ট হবার পথে। এতে করে লালমোহনের ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। মালামাল আনতে কেয়ারিং চার্জ বেড়ে যায়। এ অবস্থায় মাননীয় এমপি মহোদয়ের দৃষ্টি দেয়া উচিৎ।