লালমোহন-ঢাকা রুটের লঞ্চ চলাচল বন্ধের পথে

মোঃ জসিম জনি, লালমোহন ॥ লালমোহন-ঢাকা নৌ রুটে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে লঞ্চ সার্ভিস। খালের নাব্যতা সংকট ও অব্যাহত লোকসানের মুখে এ রুটে লঞ্চ চলাচলে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে লঞ্চ মালিকরা। তার উপর একটি মহল লালমোহনের ঐতিহ্যবাহী এ ঘাট নষ্ট করে নাজিরপুর ঘাটকে স্থায়ী করার পায়তারা চালাচ্ছে। এ কারণে লালমোহন খালে ড্রেজিং করে লঞ্চ চলাচলের ব্যবস্থা করার কোন উদ্যোগ নেই।
জানা গেছে, লালমোহন-ঢাকা নৌ রুটে যুগের পর যুগ লাভজনক লঞ্চ ব্যবসা চালিয়ে আসছিল লঞ্চ মালিকরা। ব্যবসায়ীদের মালামাল আনা নেওয়া ও যাত্রীদের প্রচুর ভীড় ছিল এ রুটে। কিন্তু লালমোহনের এ রুটে সাধারন যাত্রী ও ব্যবসায়ীদের দুর্ভোগের মধ্যে ফেলে নাজিরপুর ঘাটে প্রতিদিন ২টি লঞ্চ চলাচল করে থাকে। ঘোষেরহাট থেকে ছেড়ে আসা ওই লঞ্চ দুটি নাজিরপুর রুট ধরে অধিকাংশ যাত্রী নিয়ে যায়। সেখানে ওই লঞ্চ কর্তৃপক্ষরা মাত্র ১০০ টাকা করে নিয়ে যাত্রীদের লঞ্চে ওঠায়। এ কারণে লালমোহনের রুট ব্যবসায়ীকভাবে লোকসানের মুখে পড়ে। লালমোহন- ঢাকা রুটের লঞ্চ মালিকরা যাত্রী কম হওয়ায় দুই তিন দিন পর পর একটি লঞ্চ দেয়। যেখানে এক সময় প্রতিদিন দুইটি করেও লঞ্চ চলাচল করতো এ রুটে। সেখানে আজ এ অবস্থার কারণে এ ঘাটের উপর নির্ভরশীল ব্যবসায়ীরা ঢাকা থেকে মালামাল আনতে পারছে না। সঠিক সময়ে মালামাল আনতে না পারায় ব্যবসায়ীকভাবে মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। তার উপর সাধারন যাত্রীরাও নিয়মিত লঞ্চ চলাচল না করায় হয়রানী ও দুর্ভোগের মধ্যে পড়েন।
অন্যদিকে নাজিরপুর থেকে লালমোহন প্রবেশ খালের নাভ্যতা নিয়ে দুঃশ্চিন্তায় রয়েছেন লঞ্চ মালিকরা। খালটি ভরে যাওয়ায় ড্রেজিং না করার কারণে বড় লঞ্চ বিশেষ করে এমভি মানিক-৯ এর মতো লঞ্চ খালে প্রবেশ করতে পারে না। এ লঞ্চটি প্রায়ই খালে আটকে যায়।
এমভি মানিক-৯ এর ম্যানেজার মোঃ সেলিম জানান, লালমোহন খাল ড্রেজিং না করার কারণে লঞ্চ প্রবেশে বাধার সম্মুখীন হচ্ছে। খালটি ড্রেজিংয়ের কোন উদ্যোগ নেই। লঞ্চ আটকে গেলে যাত্রীরা দুর্ব্যাবহার করে। কিছু কিছুৃ যাত্রী কেবিন নিয়ে ক্ষমতার প্রভাব দেখায়। ভাড়া দেয় অর্ধেক। এতে পোষে না। তার উপর নাজিরপুর ঘাটে ঘোষেরহাটের ২টি লঞ্চ প্রতিদিন যাত্রী নিয়ে যায় ১০০ টাকা করে। তাদের তো কোন সমস্যা নেই। তারা যা পায় তাই লাভ। কিন্তু ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে লালমোহনের লঞ্চ সার্ভিসের।
লালমোহন বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব মোস্তফা মিয়া জানান, আমি লালমোহন রুট নিয়ে একাই চিৎকার করছি। কিন্তু কিছুই করতে পারছি না। নাজিরপুর ঘাটের প্রভাবের কারণে এ রুটটি নষ্ট হবার পথে। একটি মহল চায় নাজিরপুর ঘাট স্থায়ী হোক। কিন্তু এতে করে লালমোহনের ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্থ হবে। মালামাল আনতে কেয়ারিং চার্জ বেড়ে যাবে। এ অবস্থায় মাননীয় এমপি মহোদয়ের দৃষ্টি দেয়া উচিৎ।