লালমোহনে ১৭ বছর ধরে আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা নিরুপমা

লালমোহন প্রতিবেদক॥ লালমোহন উপজেলা আনসার ভিডিপি ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিরুপমার খুটির জোর কোথায়? অদৃশ্য শক্তির ইশারায় প্রায় ১৭ বছর ধরে একই স্থানে বহাল তবিয়তের মাধ্যমে চাকরী করে যাচ্ছেন। তিনি মহিলা প্রশিক্ষণার্থী হিসেবে নিয়োগ প্রাপ্ত হলেও এখন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দায়ীত্বে নিয়ে একের পর এক অনিয়মও দূর্ণিতী করে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভ বিরাজ করছে।
জানা যায়, লালমোহন উপজেলা আনসার ভিডিপি ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিরুপমা প্রায় ১৭ বছর ধরে একই স্থানে মহিলা প্রশিক্ষণার্থী হিসেবে নিয়োগ প্রাপ্ত হলেও এখন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দায়ীত্ব নিয়ে বহাল তবিয়তের মাধ্যমে চাকরী করে একের পর এক অনিয়ম করে যাচ্ছেন। সুচতুর এই কর্মকর্তা নিরুপমা বিভিন্ন সময় প্রশিক্ষণ নেওয়া সদস্যদের জন্য সরকারী ভাবে কোন সুযোগ সুবিধা আসলে সেই খানে করেন রমরমা ঘুষ বাণিজ্য। যারা তাকে ঘুষ দিতে পারে তারাই সুযোগ সুবিধা পায়। আর যারা দিতে পারে না তারা হয় সুবিধা বঞ্চিত। কেউ তার অনিয়মের প্রতিবাদ করলে তাকে বিভিন্ন ভাবে নাজেহাল হতে হয়।
নাম প্রকাশে অনিছুক একাধিক সূত্র জানায়, গত দশম জাতীয় সংসদ ও উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে লালমোহন উপজেলার ৬৭টি ভোট কেন্দ্রর দায়ীত্ব পালনের জন্য আনসার সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সেই খানেও করেছেন ব্যাপক ঘুষ বাণিজ্য। প্রতি সদস্যদের মাথাপিছু ২শ থেকে ৩শ টাকা করে নিয়ে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আবার সেই খানে প্রশিক্ষণ প্রাপ্তদের নিয়োগ দেওয়ার কথা থাকলেও দায়ীত্ব দেওয়া হয়েছে অপ্রশিক্ষণ প্রাপ্ত ও অল্প বয়স্কদেরকে। আবার নির্বাচন শেষে সদস্যদের নির্দিষ্ট্য ভাতার চেয়ে ৩শ থেকে ২শ টাকা করে কম দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
অপরদিকে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে প্রশিক্ষণে ভর্তির জন্য প্রশিক্ষণার্থীদের কাছ থেকে উৎকোচ গ্রহণ, প্রশিক্ষণার্থী পরিমান কাগজে ঠিক রাখতে নির্দিষ্ট এলাকা ছাড়াও অন্য এলাকার ছেলে মেয়েদেরকে ভর্তি করা ও  প্রশিক্ষণে বেনামে সনদ এনে ওই সকল আসা সনদ প্রশিক্ষণ না নেওয়া শিক্ষার্থীদের কাছে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে। সরকারী চাকরীর ক্ষেত্রে ১০% কোটা থাকায় অনেক শিক্ষার্থী এসকল সনদ ক্রয় করে নিয়ে যাচ্ছেন অনায়াসে।
এব্যাপারে আনসার ভিডিপি ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিরুপমা আক্তার সাংবাদিকদের জানান, তার বিরুদ্ধে যে সকল অভিযোগ আনা হয়েছে তা সত্য নয়। একই স্থানে একই পদে কিভাবে ১৭ বছর চাকরী করছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের নারীদের জন্য আনসার ভিডিপিতে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা রয়েছে তাই থাকছি।
এই ব্যাপারে জেলা আনসার কমান্ডেট মো. জানে আলম সুফিয়ান জানান, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরো বলেন, যারা একই স্থানে র্দীঘদিন ধরে রয়েছেন জোনাল অফিস থেকে তাদের লিষ্টি চেয়েছেন। আমরা লিষ্টি তৈয়ারি করছি।
উপর মহলের অদৃশ্য শক্তির কারণে বহাল তবিয়তের মাধ্যমে একই স্থানে থেকে একের পর অনিয়ম ও দুর্ণিতি করে যাচ্ছেন নিরুপমা। যার ফলে স্থানীয় ভুক্তভোগী আনসার ভিডিপির সদস্যরা এই সুচতুর কর্মকর্তার অপসারণসহ প্রশাসনিক শাস্তি দাবি করেন।