লালমোহনে আনসার ভিডিপির কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্ণীতীর অভিযোগ

মোঃ জসিম জনি, লালমোহন॥ লালমোহন উপজেলা আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা নিরুপমার বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম ও দূর্ণিতির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভ বিরাজ করছে।
জানা যায়, লালমোহন পৌর শহরের ৩ নং ওয়ার্ড থেকে ৩২ জন নারী ও ৩২ জন পুরুষ ভিডিপি সদস্যকে ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর পযর্ন্ত ১০ দিনের প্রশিক্ষণের কথা থাকলেও সেখানে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ছেলে মেয়েদেরকে ভর্তি করা হয়েছে। পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ড পূর্ব লালমোহন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন কক্ষে প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ক্লাসে ৬৪ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত থাকার কথা থাকলে ও সেখানে গড়ে উপস্থিত থাকছেন মাত্র ৩০ থেকে ৩৫ জন শিক্ষার্থী। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০ টায় সরেজমিনে গিয়ে প্রশিক্ষণ ক্লাসে মাত্র ৩১ জনকে পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১২ জন পুরুষ ও ১৯ জন মহিলা ছিল। অভিযোগ রয়েছে ৬৪ জন প্রশিক্ষণার্থী কাগজে ঠিক রাখতে নির্দিষ্ট ওয়ার্ড ছাড়া উৎকোচের বিনিময়ে বিভিন্ন এলাকা থেকে সেখানে প্রশিক্ষণ দিতে দেওয়া হয়। এর মধ্যে লালমোহন পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ড, ৪নং ওয়ার্ড, ২নং, কালমা ইউনিয়ন, চরভূতা ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকার রয়েছে। আবার এসকল প্রশিক্ষণের বে নামে আসা সনদ প্রশিক্ষণ না নেওয়া শিক্ষার্থীদের কাছে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে বিক্রিও হয়ে থাকে অনেক সময়। সরকারী চাকরীর ক্ষেত্রে ১০% কোটা থাকায় অনেক শিক্ষার্থী এসকল সনদ ক্রয় করে নিয়ে যাচ্ছেন অনায়াসে। বিভিন্ন সময় প্রশিক্ষণ নেওয়া সদস্যদের জন্য সরকারী ভাবে কোন সুযোগ সুবিধা আসলে সেই খানে হয় রমরমা ঘুষ বাণিজ্য। যারা ঘুষ দিতে পারে তারাই সুযোগ সুবিধা পায় বলেও অভিযোগ রয়েছে। উপজেলা আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) নিরুপমা আকতার গত ১৭ বছর পর্যন্ত লালমোহনে চাকরী করছেন। মহিলা প্রশিক্ষণার্থী হিসেবে নিয়োগ প্রাপ্ত হলেও এখন ভারপ্রাপ্ত আনসার ভিডিপি কর্মকর্তার দায়ীত্বে রয়েছে।
উল্লেখ্য এর পূর্বেও সুচতুর এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে একাধিক নির্বাচনী কাজে নিয়োজিত সদস্যদের ভাতার টাকা লোপাটসহ বিস্তর অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব ব্যাপারে স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হলেও অদৃশ্য শক্তির বদলৌতে বহাল তবিয়তেই থেকে গেছেন নিরুপমা। যার ফলে স্থানীয় ভুক্তভোগীরা আনসার ভিডিপির এই সুচতুর কর্মকর্তার অপসারনসহ প্রশাসনিক শাস্তি দাবী করছেন।
বৃহস্পতিবার সরেজমিনকালে প্রশিক্ষনার্থীর সংখ্যা কম দেখে হাজিরা খাতা দেখতে চাইলে তিনি দেখাতে রাজী হননি। তবে তিনি জানান, তার বিরুদ্ধে যে সকল অভিযোগ আনা হয়েছে তা সত্য নয়। যারা প্রশিক্ষণ নিচ্ছে সবাই ৩নং ওয়ার্ডের।  একই স্থানে একই পদে কিভাবে ১৭ বছর চাকরী করছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের নারীদের জন্য আনসার ভিডিপিতে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা রয়েছে তাই থাকছি।
এই ব্যাপারে জেলা আনসার কমান্ডেট মো. জানে আলম সুফিয়ান জানান, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে এ ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।