লালমোহনের চর কচুয়াখালীতে মানুষ বাস করে আতংকে

গজারিয়া প্রতিবেদক ॥ লালমোহনের চর কচুয়াখালীর মানুষের বেচে থাকা এখন পুরোটাই প্রকৃতিনির্ভর। পানিতে ঘরবাড়ি ডুবে গেলে আশ্রয়ের খোঁজে উঁচু স্থানে কিংবা গাছের ডালে উঠতে হয়। এখান থেকে ইচ্ছা করলেই মূল ভূখ-ে যাওয়ার সুযোগ নেই। দুর্যোগের সময় এখানকার মানুষগুলো একেবারেই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। জীবনের কোন ক্ষেত্রে তাদের নিরাপওা নেই। তেতুলিয়া নদীর বুকে জেগে ওঠা ছোট্ট দ্বীপচর কচুয়াখালীর বাসিন্দারা এভাবেই তাদের বেঁচে থাকার সংগ্রামের বিবরণ তুলে ধরেছিলেন সংবাদ কর্মীদের কাছে। লালমোহন উপজেলার পশ্চিম চর উমেদ ইউনিয়নের অন্তর্ভূক্ত এই চর তেঁতুলিয়া নদীর মাঝে অবস্থিত। চরের বাসিন্দা সোলাইমান বলেন, আমাদের বাঁচিয়ে রাখুন, আমাদের বাঁচতে হলে একটি আশ্রয় কেন্দ্র দরকার। বহু ক্ষয়ক্ষতি হয়, আয়ের উৎস নষ্ট হচ্ছে, কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই আমাদের। ঘূর্ণিঝড়ের এমন আতঙ্ক শুধু মোশারেফ ও সোলাইমানের নয়, চরবাসী সবার। তেঁতুলিয়ার বুকে জেগে ওঠা দ্বীপ চরকচুয়াখালীতে ৬ হাজার মানুষের জন্য কোনো সাইক্লোন শেল্টার কিংবা আশ্রয় কেন্দ্র নেই। দুর্যোগের সময় এসব মানুষের কোথাও ঠাঁই নেয়ার স্থান পায় না। উপকূলের ওপর দিয়ে বয়ে যওয়া সিডর, আইলা, রেশমি, মহাসেনসহ ছোট-বড় ঝড় বয়ে গেলেও আজও চরবাসীর জন্য কোন আশ্রয় কেন্দ্র নির্মান করা হয়নি। ফলে এসব ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। চরে বাসিন্দারা জানালেন, চরে সাইক্লোন শেল্টার নেই, তবে দুটি মাটির কিল্লা রয়েছে। সেগুলোও ধসে গেছে। দুর্যোগের সময় মানুষ যেমন অনিরাপদ ঠিক তেমনি গবাদি পশুগুলোও অনিরাপদ। চরে একমাত্র আয়ের উৎস পশুপালন ও আমন চাষাবাদ। লবনাক্তক পানিতে ফসলের বেশি ক্ষতি হয়। চরের গৃহিণী সাফিয়া বলেন, আশ্রয় কেন্দ্র নেই, ছোট ছোট ছেলেমেয়েদেও নিয়ে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছি। ঝড় হলেই চরে পানি ওঠে, তলিয়ে যায় ঘরবাড়ি, ভেঙে যায় আমাদের আশ্রয়স্থল। ছয়ফুন্নেছা বলেন, সাহায্য-সহযোগিতা চাই না, আশ্রয় কেন্দ্র চাই। ২০ বছরেও আমাদের এখানে আশ্রয় কেন্দ্র নির্মান হয়নি। ঝড় হলেই আমরা নিঃস্ব হয়ে পড়ি। তিনি বলেন বিভিন্ন ঝড়ে চরে বহু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ওইসব দুর্যোগে চরের আবাদযোগ্য ২ হাজার একর জমির ফসল নষ্ট হয়। বহু গবাদিপশু মারা যায়। কিন্তু চরবাসীর জন্য আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়না। চর কচুয়াখালী ইউপি সদস্য নিরব হাওলাদার বলেন, চরগুলোর মধ্য কচুয়াখালী, চর শাহজালালের মানুষ নিরাপদ নয়। ঝড়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়, কিন্তু ক্ষতিপূরণ পায় না চরের মানুষ। চরে অন্তত ৩টি আশ্রয় কেন্দ্র নির্মান প্রয়োজন। আমরা বরাবর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) বিষয়টি জানিয়েছি, কিন্তু কোন কাজ হচ্ছে না।