লঞ্চ শ্রমিকদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ লঞ্চ শ্রমিকদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। গতকাল শনিবার রাতে ঢাকার শ্রম অধিদফতর কার্যালয়ে লঞ্চ মালিক এবং কর্মবিরতিতে থাকা শ্রমিকদের সাথে কয়েক ঘন্টা আলোচনার পর যৌথভাবে এ ঘোষনা দেয়া হয়। তবে বৈঠকে কার্গো জাহাজ শ্রমিকদের সাথে সমঝোতা না হওয়ায় তারা কর্মবিরতিতে অনড় রয়েছেন। বৈঠকে অংশ নেয়া লঞ্চ মালিক সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সভাপতি সাইদুর রহমান রিন্টু জানান, ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের কথা ভেবে শ্রমিকদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার করতে অনুরোধ করা হয়। একই সাথে তাদের সব যৌক্তিক দাবি ঈদের পরে বসে আলোচনার মাধ্যমে মালিক সমিতি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিলে শ্রমিকরা কর্মবিরতি প্রত্যাহারের ঘোষনা দেন। এর ফলে স্বাভাবিক ভাবে ছোট বড় সহ সব ধরনের যাত্রীবাহী লঞ্চ আবার আগের মত যাত্রী পরিবহন করবে। তবে বৈঠকে কার্গো জাহাজ শ্রমিকদের সাথে সমঝোতা না হওয়ায় তারা কর্মবিরতি অব্যাহত রেখেছে । উল্লেখ্য গত সোমবার দিবাগত রাত ১২ টা ১ মিনিট থেকে সর্বনি¤œ ১০ হাজার টাকা মজুরী প্রদান সহ ১৫ দফা দাবিতে নৌ-যান শ্রমিকরা কর্মবিরতি শুরু করে। টানা ৫ দিনের কর্মবিরতির পর তাদের দেয়া গতকাল রাতের এ ঘোষনায় যাত্রীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
তবে ব্যবসায়ীরা পণ্য সরবরাহ স্বাভাবিক করতে যত দ্রুত সম্ভব মালবাহী কার্গো জাহাজ শ্রমিকদের কর্মবিরতির ইতি চেয়েছেন।
এদিকে কর্মবিরতি প্রত্যাহার করার ঘোষনা দেয়ার আগে গতকাল দূরপাল্লার সহ অভ্যন্তরীণ রুটেও লঞ্চ চলাচল করে। ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা এমভি পারাবত-১২, এমভি সুরভী-৭, এমভি টিপু-৭ এবং এমভি কীর্তনখোলা-১ নামে ৪টি বিলাসবহুল লঞ্চ যাত্রী নিয়ে গতকাল শনিবার ভোরে বরিশাল নদী বন্দরে পৌঁছেছে। একইভাবে শুক্রবার রাতে বরিশাল নদী বন্দর থেকে যাত্রী নিয়ে ছেড়ে যাওয়া ৫টি বিশাল লঞ্চ শনিবার ভোরে ঢাকার সদরঘাটে পৌঁছে। গতকাল রাতে বরিশাল থেকে ৪টি লঞ্চ যাত্রী নিয়ে ফের ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে গেছে। এদিকে বরিশাল নদী বন্দর থেকে মালিকরা তাদের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় শুক্রবার দুপুর থেকে স্থানীয় রুটের লঞ্চ চালানো শুরু করেছে। শনিবার বেলা ১১টা ২০ মিনিটে বরিশাল নদী বন্দর থেকে এমভি অন্তরা নামে অভ্যন্তরীণ রুটের একটি লঞ্চ কিছু যাত্রী নিয়ে ভোলার উদ্দেশে ছেড়ে গেছে। এর এক ঘন্টা পর পর আরো তিনটি লঞ্চ ভোলার উদ্দে্েয ছেড়ে যায়। তাছাড়া ঢাকা থেকে সকালে ওয়াটার বাস সার্ভিস গ্রীন লাইন যাত্রী নিয়ে দুপুরে বরিশালে এসেছে। দুপুরে বরিশাল থেকে যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে গেছে গ্রীন লাইনের একটি জাহাজ। অপরদিকে, বরিশাল থেকে সীমিত আকারে কিছু পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করতে দেখা গেছে। বরিশাল নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই শফিকুল ইসলাম জানান, শনিবার বেলা ১১টার থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত যাত্রী নিয়ে ভোলার উদ্দেশে ছেড়ে গেছে অভ্যন্তরীণ রুটের ৪ টি লঞ্চ। ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা দূরপাল্লার ৪ টি লঞ্চ যাত্রী নিয়ে শনিবার ভোরে বরিশাল নদী বন্দরে পৌঁছেছে। গতকাল রাতে বরিশাল থেকে ৪টি লঞ্চ যাত্রী নিয়ে ফের ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে গেছে। নৌযান শ্রমিকদের কর্মবিরতির কারনে যে কোন ধরনের অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি রোধে বরিশাল নদী বন্দরে নৌ পুলিশ সতর্কাবস্থায় রয়েছে।