লঞ্চ বাসে অজ্ঞান পার্টি সক্রিয়

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ ঈদকে কেন্দ্র করে বরিশাল-ঢাকা নৌ ও সড়ক পথে সক্রিয় হয়ে উঠেছে অজ্ঞান পার্টি ও প্রতারক চক্র। প্রতি বছরের ন্যায় এবারো তারা ঘর মুখো যাত্রীদের টার্গেট করে তাদের নিঃস্ব করার জন্য ওৎ পেতেছে নৌ ও বাস টামিনাল সহ যাত্রীপরিবহন গুলোতে। ফলে ঘরমুখো যাত্রীরা চরম উৎকন্ঠা ও শংকা নিয়ে যানবাহনে ঘরে ফিরতে শুরু করেছে। তবে এ ক্ষেত্রে যাত্রীদের সজেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন মহানগর পুলিশের কর্তা ব্যক্তিরা।
সূত্রমতে, ঈদ বা কোরবানী আসলেই বরিশাল-ঢাকা নৌ এবং সড়ক পথে সক্রিয় হয়ে উঠে সঙ্গবদ্ধ অজ্ঞান পার্টি, মলম পার্টি এবং প্রতারক চক্র। এরা লঞ্চ এবং বাস টার্মিনালে বিচ্ছিন্ন ভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে যাত্রীদের খপ্পরে ফেলতে ওৎ পেতে থাকছে। এর মধ্যে কেউ ভ্রাম্যমান হাকার, বাস বাস এবং লঞ্চ স্টাফ পরিচয় দিয়ে যানবাহনে ফাঁদ পাতছে। কেউ বা আবার যাত্রীবেশে বাসে এবং লঞ্চে উঠে যাত্রীদের টাকা, স্বর্ণালংকার সহ সর্বস্ব কেড়ে নিয়ে নিঃস্ব করে দিচ্ছে। ঈদে বিশেষ সার্ভিস শুরুর সাথে সাথে এদের তৎপরোতা ব্যাপক ভাবে বৃদ্ধি পায়। তবে প্রতারক এই চক্রটির সাথে বাস এবং লঞ্চ শ্রমিকদের যোগ সাজস রয়েছে বলে অভিযোগ যাত্রীদের। এমনকি চক্রটিকে চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনে প্রশাসন ব্যর্থ হওয়ায় এদের দৌরাত্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে বলেও অভিযোগ তাদের।
কিন্তু যাত্রীদের এমন অভিযোগের ভিন্ন মত প্রসন করেছে বরিশাল মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের জ্যেষ্ঠ সহকারী কমিশনার ও মেট্রো পলিটন পুলিশের মুখপাত্র মো. আনছার উদ্দিন। তিনি বলেন, যেসব যাত্রীরা প্রতারনার শিকার হচ্ছে তারা তাদের নিজেদের দোশের কারনেই সর্বস্ব হারাচ্ছে। এর কারন উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রতিটি যাত্রীকেউ লঞ্চ কিংবা বাসে যাত্রাপথে সচেতনতার সাথে থাকতে হয়। কিন্তু কিছু সংখ্যক যাত্রী সচেতন না হয়ে অজ্ঞান পার্টির সদস্যদের সাথে অল্প সময়ের মধ্যেই সম্পর্ক করে ফেলছে। আর এটাই হচ্ছে তার সব থেকে ভুল। ভুলের শিকার এই যাত্রীই অজ্ঞান পার্টি বা প্রতারক চক্রের খপ্পরে পড়ছে। তাই যাত্রা পথে সকল যাত্রীদের সচেতন থাকার পরামর্শ দেন গোয়েন্দা পুলিশের এই কর্মকর্তা।
গোয়েন্দা পুলিশ বিভাগ সূত্রে জানাগেছে, গেলো কোরবানী মৌসুমে অভিযান চালিয়ে নগরীর একটি হোটেল থেকে ৭ জন অজ্ঞান পার্টির সদস্যকে অজ্ঞান করার বিভিণœ উপকরন সহ আটক করা হয়েছিলো। এদের আদালতের মাধ্যমে জেলে প্রেরন করা হলেও পরবর্তীতে আবার আইনের ফাঁক ফোকরে আদালতের মাধ্যমে জামিনে বের হয়ে যায়। তবে ঐ চক্রটির এর পর আর কোন সন্ধ্যান পাওয়া যায়নি। তাছাড়া মাঝে মধ্যে দু’একজন প্রতারক প্রশাসনের হাতে ধরা পড়লেও সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রমান বা মামলা না করায় তারাও পাড় পেয়ে গেছে। এদের প্রতিরোধ করতে হলে প্রতারিত যাত্রীদের মামলা করার পরামর্শও দেন প্রশাসের কর্তা ব্যক্তিরা।