লঞ্চের টিকিট কালোবাজারে, আত্মগোপনে মালিকরা

রুবেল খান ॥ সার্ভিস শুরুর আগেই হাওয়া হয়ে গেছে বরিশাল-ঢাকা নৌ রুটের বিশেষ সার্ভিসের টিকেট। সাধারন যাত্রীরা কেবিনের একটি মাত্র টিকেটের জন্য হন্যে হয়ে ঘুরে বেড়ালেও পাচ্ছে না টিকেট। তবে হাত বাড়ালেই কালোবাজারিদের কাছ থেকে পাওয়া যাচ্ছে বিশেষ সার্ভিসের অগ্রিম টিকেট। লঞ্চ কর্তৃপক্ষ কেবিনের টিকেট কালোবাজারিদের হাতে ছড়িয়ে দিয়ে আত্মগোপনে রয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন সাধারন যাত্রীরা। আর এজন্য বিষয়টি নিয়ে তাদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। কোন মনিটরিং না থাকায় লঞ্চ মালিকরা ইচ্ছে মত আত্মীয় স্বজন, শুভাকাংখী ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের অগ্রিম টিকিট দিয়েছে। সাধারন যাত্রীরা কোন ক্রমেই টিকিট পাচ্ছে না। সুন্দরবন লঞ্চের একজন স্টাফ গর্ব করে বলেছেন, “আমাদের টিকিট অসাধারন ব্যক্তিদের জন্য। সাধারনের জন্য নয়।” তার এ বক্তব্য থেকেই বোঝা যাচ্ছে যে তারা ইতিমধ্যেই প্রভাবশালী ব্যক্তিদের অগ্রিম টিকিট দিয়ে ম্যানেজ করে ফেলেছেন। সাধারনরা শুধু হাপিত্তেশ করেই যাচ্ছেন। কিন্তু পাষান হৃদয়ের প্রভাবশালী লঞ্চমালিকদের মন গলছে না। মুখে যাত্রী সেবার নাম করলেও মূলত তারা নিজেদের পকেট সেবা করে যাচ্ছেন। প্রতি বছর ঈদ এলেই লঞ্চ মালিকদের আচরন বদলে যায়। নগদ টাকা দিয়ে টিকিট কিনতে গেলেও এমন ব্যবহার করা হচ্ছে, যেন বাকিতে টিকিট কিনতে এসেছে।
আগামী ৬ অক্টোবর পবিত্র ঈদ উল আযহা। একই সাথে গতকাল থেকে শুরু হয়েছে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সব থেকে বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠান শারদীয় দূর্গাপূজা। মুসলিম এবং দিন্দু সম্প্রদায়ের এ দুটি ধর্মীয় উৎসবকে পুজি করে কালোবাজারীদের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের মিশনে নেমেছে লঞ্চ মালিকরা বলে অভিযোগ উঠেছে বরিশাল-ঢাকা নৌ রুটের লঞ্চ মালিকদের বিরুদ্ধে।
কেবিনের একটি টিকেট এর সন্ধানে হন্যে হয়ে ঘুরে বেড়ানো নগরীর দপদপিয়া এলাকার ব্যবসায়ী আসলাম হোসেন জানান, শুনেছি ঈদ উপলক্ষে অগ্রিম টিকেট দেয়া শুরু হয়েছে। ঢাকা থেকে ঈদের ছুটিতে স্বজনরা বরিশালে আসবে তাই গত ১০দিন ধরে লঞ্চের কেবিনের একটি টিকেট এর জন্য হয়ে ঘুরে বেরাচ্ছি। রোটেশন প্রথা ভেঙ্গে বিশেষ সার্ভিসের নাম দিয়ে ডাবল ট্রিপ এর মাধ্যমে ১৩টি লঞ্চে দেড় সহ¯্রাধিক কেবিন থাকলেও টিকেট পাচ্ছিনা। লঞ্চগুলোর নিজস্ব কাউন্টারে গেলে তারা টিকেট নেই বলে পাঠিয়ে দিচ্ছে। আবার অনুরোধ করতে গিয়ে সুন্দরবন লঞ্চ এর টিকেট কাউন্টারে দায়িত্বরতদের গালি শুনতে হয়েছে। তিনি বলেন, টিকেট কাউন্টারে টিকেট না দিয়ে বড় বড় লেকচার শোনালেও চিহ্নিত টিকেট কালোবাজারী লেদুর কাছে ডাবল এবং সিঙ্গেল দুই শ্রেনীর কেবিন পেয়েছি। কিন্তু একটি সিঙ্গেল কেবিন ভাড়া চেয়েছে ৩ হাজার টাকা। এতো টাকা দিয়ে কালোবাজারীদের কাছ থেকে কেবিন সংগ্রহ করা সম্ভব নয়। তাই এখন বড় নেতা এবং প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে কেবিন সংগ্রহ করার চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে আসলাম জানিয়েছেন। শুধু আসলামের মতো সাধারন যাত্রীরাই নয়, বরিশাল নৌ বন্দরের এক সিনিয়র কর্মকর্তাও লঞ্চের একটি কেবিন না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদক এর কাছে।
এদিকে গতকাল নগরীর বিভিন্ন লঞ্চের কাউন্টার ঘুরে শুধু একটি শব্দই শুনতে পাওয়া গেছে। তা হলো কেবিন খালি নেই। শুধু ঢাকা থেকে আসার টিকেটই নয়। আগামী ১২ অক্টোবর পর্যন্ত ফিরতি কেবিনের টিকেটও নেই বলে ¯্রফে জানিয়ে দিয়েছে। বিশেষ বিবেচনায় কেবিন সংগ্রহ করে দেয়ার জন্য অনুনয় করতে গেলে উল্টো কাউন্টারে দায়িত্বরতদের ধমক শুনতে হচ্ছে যাত্রীদের। বিশেষ করে বরিশাল ঢাকা-নৌ রুটের সুন্দরবন লঞ্চ এর টিকেট কাউন্টারে কর্মরতদের অসৌজন্যমূলক আচরনে সাধারন যাত্রীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এ বিয়টি নিয়ে সুন্দরবন লঞ্চ মালিক সাইদুর রহমান রিন্টুর নিকট অভিযোগ দেয়ার চেষ্টা করা হলেও তিনি সৌদীতে হজ্বপালনে যাওয়ায় তার সাথে যোগাযোগ করা যায়নি। তাছাড়া বরিশালে যারা দায়িত্বে আছেন তাদের মোবাইল নম্বরে হাজার বার ফোন করলেও অপর প্রান্ত থেকে ফোন রিসিভ করেনি।
শুধু সুন্দরবন লঞ্চ মালিকই নয়। অন্যান্য লঞ্চ মালিক এবং সংশ্লিষ্ট অধিকাংশের মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া গেছে। অভিযোগ উঠেছে কালোবাজারীদের হাতে লঞ্চের টিকেট পৌছে দিয়ে নিজস্ব মোবাইল বন্ধ রেখে তারা সবাই আত্মগোপনে রয়েছেন।
এ ব্যাপারে সুন্দরবন লঞ্চ মালিক পক্ষের সাথে যোগাযোগ এর চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি। কেননা তাদের অধিকাংশের মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া গেছে। যাদের নম্বর খোলা ছিলো তারা ফোন রিসিভ করেননি।