লঞ্চঘাটে জমি নিয়ে জমজমাট বাণিজ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ নগরীর লঞ্চ ঘাট এলাকায় চলছে ক্ষমতাসীনদের জমি দখলের মহোৎসব। উন্মুক্ত গোসলখানা সংলগ্ন বিসিসি’র এ জমি দখল করে অবৈধ দোকান ঘর নির্মান করে ভাড়া দিয়ে তা থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে হাজার হাজার টাকা। তবে এ বিষয়ে মাথা ব্যাথা দেখা যাচ্ছে না বিসিসি কর্তৃপক্ষের।
সরেজমিনে দেখাগেছে, নগরীর লঞ্চঘাট সংলগ্ন বিসিসি’র পাবলিক টয়লেট এবং উন্মুক্ত গোসল খানার পাশেই গড়ে উঠেছে একাধিক অবৈধ দোকান ঘর। বিসিসি’র জমিতে অবৈধ ভাবে গড়ে ওঠা এই দোকান গুলোতে ব্যবহার করা হচ্ছে বিসিসির লাইন। বর্তমানে পাবলিক টয়লেটের পাশেই তিনটি কাঠের তৈরী দোকান ঘর রয়েছে। এর পাশাপাশি নদীর পাশে ট্রলার ঘাটেও রয়েছে আরো বেশ কয়েকটি দোকান ঘর। যা নগরীর সৌন্দর্যহানীর পাশাপাশি নষ্ট করছে পরিবেশের ভারসাম্য।
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, ক্ষমতাসীন দলের আক্কাস হোসেন নামের ব্যক্তি লঞ্চ ঘাটের পাবলিক টয়লেট ইজারা নিয়েছেন। তিনি পাবলিক টয়লেট ইজারা নেয়ার পাশাপাশি তৎসংলগ্নে বিসিসি’র জমি অবৈধ ভাবে ভাড়া দিয়ে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। পাবলিক টয়লেটের পাশেই ব্রাউন কম্পাউন্ডের হেলাল এবং ভাটিখানার ফিরোজ সহ তিন জন ঐ জমি ভাড়া দিয়ে সেখানে কাঠের দোকান ঘর নির্মান করে দীর্ঘ দিন যাবত ব্যবসা করে আসছেন। বিনিময়ে তারা দোকান প্রতি পাবলিক টয়লেটের ইজারাদার আক্কাসকে তিন হাজার টাকা করে ভাড়া দিচ্ছে। এর সুযোগ সুবিধা হিসেবে পাবলিক টয়লেটে থাকা বিসিসি’র পানির এবং বিদ্যুৎ ব্যবহার করছে দোকান মালিকরা।
স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, শুধুমাত্র পাবলিক টয়লেটের পাশের জমিই নয়, বালু ঘাটের পাশেই রয়েছে আরো বেশ কয়েকটি অবৈধ দোকান। সেখান থেকেও প্রতিমাসে ভাড়া আদায় করছে আক্কাস। প্রতি মাসে এসব অবৈধ দোকান থেকে হাজার হাজার টাকা আদায় হওয়ায় বেশিরভাগ সময় বন্ধ রাখা হচ্ছে লঞ্চ ঘাটের একমাত্র পাবলিক টয়লেটটি। যে কারনে পথচারীদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে কম না।
এ বিষয়ে অবৈধ ভাবে দোকান ঘর নির্মান করা হেলাল জানান, সাবেক মেয়র মরহুম শওকত হোসেন হিরণ জীবিত থাকা কালে তারা অনুমতি নিয়েই ঐ স্থানে দোকান ঘর নির্মান করেছেন। তবে আক্কাসকে ভাড়া দেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন হেলাল।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, পাবলিক টয়লেটের পেছনে যে উম্মুক্ত গোসলখানা রয়েছে তা এখন একেবারেই বন্ধ হয়ে গেছে। এর কারন অবৈধ দোকান ঘর। কেননা উন্মুক্ত গোসল খানার পানির লাইন বন্ধ করেই অবৈধ দোকান ঘরের পানির লাইন নেয়া হয়েছে। তবে গতকাল বিসিসি’র বন্ধ থাকায় এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কারো সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তার পরেও বিসিসি’র নাকের ডগায় অবৈধ ভাবে গড়ে তোলা এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে বিসিসি কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চাচ্ছেন স্থানীয়রা।