লক্ষ্মী পূজা অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ নগরীর বিভিন্ন মঠ, মন্দির ছাড়াও হিন্দু পরিবারের ঘরে ঘরে আয়োজন করা হয় লক্ষ্মী পূজার।উৎসব বুধবার রাত ১টা ২২ মিনিটে পূর্নীমার শুরু থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ১২টা ৩৫ মিনিট পর্যন্ত লক্ষ্মি পূজা অনুষ্ঠিত হয়। উৎসব আনন্দের মধ্যে দিয়ে অর্থ-সম্পদ দানের দেবী লক্ষ্মীকে পূজা করে সনাতন ধর্ম্বালম্বীরা। দূর্গোৎসব শেষে প্রথম পূর্নিমা তিথিতে লক্ষ্মী পূজা উদযাপন হয়।
এদিকে লক্ষ্মী পূজা উপলক্ষে গতকার বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই নগরীতে প্রতিমাসহ নানা সরঞ্জামাদী কিনতে ক্রেতারা নগরীর হাট খোলা হরি ঠাকুর মন্দিরে ভীর করে। হরি ঠাকুর মন্দিরের পুরোহিত উত্তম মোশ্যামী জানান, বুধবার রাত ১টা ২২ মিনিট থেকে পূর্নীমা শুরু হয়ে বৃহস্পতিবার রাত ১২ টা ৩৫ মিনিট পর্যন্ত ছিলো। পূর্ণিমা তিথির এই সময়ে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা মায়ের কাছে প্রার্থনা করেন।
তিনি বলেন, ঐতিহ্যবাহী হরি ঠাকুর মন্দিরে দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানের পাল ও পাইকারী বিক্রেতারা প্রতীমা নিয়ে আসে। বিভিন্ন দামে লক্ষ্মী প্রতীমা বিক্রি করে থাকেন তারা।
তিনি বলেন, লক্ষ্মী ছয়টি বিশেষ গুণের দেবী। তিনি বিষ্ণুর পতœী। তাঁর অপর নাম মহালক্ষ্মী। বাহন পেঁচা। লক্ষ্মীপূজা কোজাগরী লক্ষ্মী পূজা নামেও পরিচিত। দেবী লক্ষ্মী শুধু ধনই দেন না। ষোল প্রকার সম্পদ দিয়ে থাকেন তিনি। যার মধ্যে রয়েছে- খ্যাতি, জ্ঞান, সাহস ও শক্তি, জয়, সু-সন্তান, বীরত্ব, স্বর্ণ, অন্যান্য রতœরাজী, শস্য, সুখ, বুদ্ধি, সৌন্দর্য, উচ্চাশা, উচ্চ ভাবনা, নৈতিকতা, সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘজীবন।
তিনি আরো জানান, বাংলাদেশে চন্দ্র আশ্বিন মাসের পূর্ণিমা তিথিতে দেবী লক্ষ্মীর আরাধনা করা হয়। এছাড়া সপ্তাহের প্রতি বৃহস্পতিবার সধবা স্ত্রীগণ তাদের ঘরে লক্ষ্মীর পূজা করে থাকেন। ধন-সম্পদের আশায় হিন্দু নারী-পুরুষরা গতকাল বৃহস্পতিবার লক্ষ্মিপুজায় উপবাস ব্রত পালন করেন। ফুল, ফল, মিষ্টি নৈবেদ্য দিয়ে আরাধনা করেন লক্ষ্মী মায়ের।
এদিকে বরিশাল সদর উপজেলার চর আইচা থেকে শ্রী শ্রী হরি ঠাকুর মন্দিরে আসা পরেশ চন্দ্র পাল নামক প্রতীমা বিক্রেতা জানান, নিজের হাতে তৈরী করা ৬০টি প্রতীমা নিয়ে গত বুধবার তিনি হরি ঠাকুর মন্দিরে এসেছিলেন বিক্রির জন্য। এক একটি প্রতীমা তৈরী করতে এক দিন সময় ব্যয় হয়েছে। প্রতীমা তৈরীতে যে খরচ হচ্ছে সে অনুযায়ী মজুরী এবং মুল্য পাচ্ছেন না বলে দাবী করেন তিনি।
লক্ষ্মী প্রতীমা কিনতে আসা ব্যবসায়ী অমল দাস জানান, পূর্নিমার তিথিতে সকলের মঙ্গল কামনা করে এই পূজা করা হয়। শুধু প্রতীমাই নয় লক্ষ্মী পূজার জন্য আরো আনুসঙ্গিক জিনিসপত্রের প্রয়োজন হয়। এর মধ্যে রয়েছে, নলতারী ফুলম পদ্ধ ফুল, পান , সুপাড়ী, কলাফুল, কলা, বিভিন্ন ফল ইত্যাদি।