র‌্যাবের সাথে বন্দুকযুদ্ধে পটুয়াখালীর শীর্ষ সন্ত্রাসী “কালা ভাই” নিহত॥ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ র‌্যাবের সাথে বন্ধুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে পটুয়াখালীর শীর্ষ সন্ত্রাসী এবং একাধিক মামলার আসামী তরিকুল ইসলাম তরু। গতকাল সোমবার ভোর সাড়ে চারটার দিকে পটুয়াখালী বিসিক শিল্পনগরীতে এ ঘটনার পর বিপুল পরিমান ফেন্সিডিল, অস্ত্র এবং গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে র‌্যাব সদস্যরা।
নিহত শীর্ষ সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী- হত্যা সহ একাধিক মামলার আসামী তরিকুল ইসলাম তরু ওরফে কালা ভাই পটুয়াখালী সদর এলাকার বাসিন্দা।
বরিশাল র‌্যাব-৮ মেজর আদনান কবির-পিপিএম জানান, র‌্যাবের একটি টহল দল গতকাল ২৭ জুলাই পটুয়াখালী সদর এলাকায় রাত্রিকালীন টহল ডিউটি করতে ছিলো। আনুমানিক পৌনে ৪টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারেন স্থানীয় বিসিক শিল্পনগরী এলাকার লাউকাঠি নদীর পাড় সংলগ্ন মাঠে একদল সন্ত্রাসী সন্ত্রাসমূলক কার্যক্রম পরিচালনার উদ্দেশ্যে অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ অবস্থান করছে।
এমন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাবের টহলকৃত দলটি তাৎক্ষনিক ঘটনাস্থলে পৌছে সেখানে অবস্থানরত ৬/৭ জন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে দাড়িয়ে থাকতে দেখে তাদের পরিচয় জানতে চায় র‌্যাব সদস্যরা। এক পর্যায় গাড়ি থেকে নেমে র‌্যাব সদস্যরা তাদের জিজ্ঞাসাবাদ ও তল্লাশীর জন্য সামনের দিকে অগ্রসর হলে তারা দৌড়ে পালাতে থাকে। র‌্যাব সদস্যরা তাদের পিছু ধাওয়া করলে সন্ত্রাসীরা র‌্যাব সদস্যদের লক্ষ্য করে বিক্ষিপ্ত ভাবে গুলি বর্ষণ শুরু করে।
র‌্যাব সূত্র আরো জানায়, তাৎক্ষনিক ভাবে তাদের টহল দলের সদস্যরা পলায়নরত ব্যক্তিদের ঘেরাও করার চেষ্টা করে। পলায়নরত ব্যক্তিরা র‌্যাবের অবস্থান থেকে কিছুটা দূরে আড়ালে অবস্থান নিয়ে র‌্যাবকে লক্ষ্য করে আকস্মিকভাবে এলোপাথাড়ি গুলিবর্ষণ শুরু করে। আত্মরক্ষার্থে র‌্যাব সদস্যরা দ্রুততার সাথে নিজেদের আড়াল করে কৌশলগত অবস্থান গ্রহন করে এবং সন্ত্রাসীদের কাছে নিজেদেরকে র‌্যাব সদস্য হিসেবে পরিচয় দিয়ে গুলিবর্ষণ না করার আহবান জানায়। কিন্তু তার পরেও সস্ত্রাসীরা আহবানের কর্ণপাত না করায় জীবন ও সরকারী সম্পদ রক্ষার্থে বাধ্য হয়ে সস্ত্রাসীদের প্রতি পাল্টাগুলি বর্ষণ শুরু করে র‌্যাব। উভয় পক্ষের মধ্যে প্রায় ১৫ মিনিটের গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটে। এক পর্যায় সন্ত্রাসীরা পিছু হটে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে স্থানীয় জনসাধারনের উপস্থিতিতে ঘটনাস্থল তল্লাশী কালে একজন সন্ত্রাসীকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তখন প্রায় সাড়ে ৫টার দিকে তাকে উদ্ধার করে পটুয়াখালী সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানকার দায়িত্বরত চিকিৎসক ঐ সন্ত্রাসীকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
এদিকে র‌্যাব সদস্যরা ঘটনাস্থল তল্লাশি করে সন্ত্রাসীদের ফেলে যাওয়া ১টি বিদেশী পিস্তল, ১টি দেশি পিস্তল, ২টি এলজি, ২টি ম্যাগাজিন, ১৩ রাউন্ড তাঁজা কার্তূজ, ১০টি ফায়ারকৃত গুলির খোসা, ৬৪৪ বোতল ফেন্সিডিল, নগদ ৩০২ টাকা, ২টি মোবাইল সেট এবং ৩টি সীম উদ্ধার করে।
তাছাড়া স্থানীয়দের মাধ্যমে জানতে পারেন নিহতের নাম মো. তরিকুল ইসলাম তরু ওরফে কালা ভাই (৩০)। সে পটুয়াখালী সদর উপজেলার চরপাড়া গ্রামের মো. মান্নান বাবুর্চির ছেলে বলে পরিচয় সনাক্ত করা হয়।
নিহত কালা ভাই’র পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী। তার বিরুদ্ধে চুরি, ডাকাতি, চাঁদাবাজী, মাদক ব্যবসা, খুনী ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপে একাধিক মামলা রয়েছে। সে একজন পেশাগত হত্যাকারী, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, লুটতরাজ, ভীতি প্রদর্শন, মুক্তিপন আদায় ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত বলে জানিয়েছে পটুয়াখালী সদর থানার ওসি।