র‌্যাবের সাথে বন্দুকযুদ্ধে জলদস্যু নিহত

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ সুন্দরবনের কুখ্যাত এক জলদস্যু র‌্যাবের সাথে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে। গতকাল সোমবার ভোরে নিহত জলদস্যু নুরুজ্জামান ওরফে জামাল বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার পদ্মা গ্রামের রুস্তম হাওলাদারের ছেলে। সুন্দরবনের জলদস্যু জামাল বাহিনীর প্রধান ছিলো। তার নেতৃত্বে জলদস্যুরা পাথরঘাটা, চরদুয়ানী, পদ্মা ও তালতলী অঞ্চলের জেলে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়সহ নৃশংস ডাকাতি করতেন । বন্দুক যুদ্ধের পর ঘটনাস্থল বিক্ষিপ্তভাবে ছড়ানো ছিটানো অবস্থায় দেশী একটি পিস্তল, ৭টি একনলা বন্দুক, দুইটি এয়ারগান, ৪টি কাটা বন্দুক , রামদা ৮টি, ১৪টি বন্দুকের তাজা কার্তুজ, ২৭ রাউন্ড পয়েন্ট, ২২টি রাইফেলের গুলি, এয়ারগানের গুলি ৫৭টি, বন্দুকের ফায়ারকৃত কার্তুজ ৩৫ টি, বান্ডুলিয়ার ২ টি, মোবাইল সেট ২ টি, সীমকার্ড ২টি, টর্চ লাইট ২টি এবং বিপুল পরিমাণ রসদ সামগ্রী, চাঁদা আদায়ের কার্ড ও তৈজসপত্র উদ্ধার করা হয়।
র‌্যাব ক্যাপ্টেন আবুল বাশার জানান, বিশ্বের সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবন অঞ্চলে একাধিক জলদস্যু বাহিনী নিরীহ জেলে অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়সহ হত্যা করে। গত আট মাসে র‌্যাব-৮ ওইসব জলদস্যু বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযান চালায়। এই সময় তাদের সাথে র‌্যাবের বন্ধুযুদ্ধ হয়। ওই বন্ধু যুদ্ধে ১০ জলদস্যু নিহত হয়। একাধিক জলদস্যু বাহিনীর প্রধান নিহত হওয়ায় সহযোগিরা অস্ত্র গোলাবারুদসহ আত্মসর্মপণ করেছে।
এর মধ্যে জামাল বাহিনী সক্রিয় হয়ে উঠে। “জামাল’’ বাহিনী সুন্দবনের শরণখোলা রেঞ্জের সুপতি, চান্দেশ্বর, কচিখালী এবং কটকা অঞ্চলের দরজার খাল, কাতলার খাল, খুনের খাল এবং বলেশ্বর নদী মোহনা এলাকায় ডাকাতি, নিরীহ জেলেকে অপহরণ ও মাছ ধরার ট্রলারে লুটপাট করে। অপহরণ পরে কৌশলে জেলেদের পরিবারকে ফোন করে বিপুল অংকের টাকা মুক্তিপণ দাবি করতেন। মুক্তিপণ দিয়ে কতিপয় জেলে ছাড়া পাতো এবং মুক্তিপণ দিতে অপারগ জেলেদের মেরে ফেলা হত। এমন খবরে র‌্যাবের একটি দল পাথরঘাটায় রোববার দিনগত রাত তিনটায় পাথরঘাটা চরদুয়ানীর খাল ধরে দুইটি জলযানে করে কাতলার খালের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। কাতলার খাল এলাকার কাছাকাছি পৌছলে তাদের উদ্দেশ্যে গুলি ছোঁড়া হয়। র‌্যাব সদস্যরা পাল্টাগুলি ছোড়ে। উভয় পক্ষের মধ্যে ৩০ মিনিট গুলি পাল্টা গুলিবর্ষন হয়। এক পর্যায়ে স্থানীয় পুলিশ, জেলে ও বনরক্ষীদের নিয়ে বনের মধ্যে তল্লাশী করা হয়। কাতলার খালের দক্ষিণ পাড়ের জংগলের মধ্যে পড়ে থাকা একটি মৃতদেহ জামালের বলে সনাক্ত করা হয়। পরে অস্ত্রগুলি উদ্ধার করা হয়।