রোগীর স্বজনদের হামলার প্রতিবাদে শেবাচিম হাসাপাতালের সেবক সেবিকাদের ৩ ঘন্টার কর্মবিরতি

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ রোগীর হাসপাতাল ত্যাগের ছাড়পত্র দেয়া নিয়ে স্বজনদের সাথে নার্স এবং কর্মচারীদের মাঝে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসময় চিকিৎসক এবং নার্স সহ উভয় পক্ষের ৭ জন আহত হয়েছে। এ ঘটনায় হামলাকারী বাবা সহ দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল বুধবার দুপুর ২টার দিকে হাসপাতালের চতুর্থ তলায় সার্জারী ইউনিট-২ এ এই সংঘর্ষের ঘটনায় আটককৃতরা হলো- রোগীর বাবা কাঞ্চন মৃধা এবং স্বজন আল-আমিন।
এদিকে নার্সদের উপর হামলার প্রতিবাদে হাসপাতালে কর্মবিরতী পালন করেছে বিক্ষুব্ধ নার্সরা। এসময় তারা হাসপাতালের জরুরী বিভাগের প্রধান ফটকে তালা দিয়ে রোগী ভর্তি কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। সেই সাথে হাসপাতালের অভ্যন্তরে বিক্ষোভ মিছিল এবং অবস্থান ধর্মঘট পালন করে।
হামলায় আহত নার্সদের মাঝে মো. জসিম উদ্দিন সিকদার নামে একজনকে শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অপর আহতরা হলো সার্জারী ইউনিট-২ এর মেডিকেল অফিসার ডা. আশিকুর রহমান, ওয়ার্ডের ইনচার্জ হাসিনা পারভিন, আয়া সেলিনা পারভিন এবং রিনা বেগম।
হামলার শিকার সার্জারী ইউনিট-২ এর ইনচার্জ হাসিনা পারভিন জানান, গত ১০ অক্টোবর প্রতিপক্ষের হামলায় আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয় পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার ভিটাখালী গ্রামের কাঞ্চন মৃধার ছেলে সোহেল মৃধা (২৮)। চিকিৎসায় সে সুস্থ হলে গত ১৩ অক্টোবর ইউনিটের চিকিৎসকরা তার নাম কেটে দেয়। ঐদিন রোগীর স্বজনরা ছাত্রপত্র নিয়ে যায়।
হাসিনা পারভিন আরো জানান, রোগীর স্বজনরা নাম কাটার পরেও তাদের রোগীকে ঐ ওয়ার্ডেই ভর্তি রাখতে চায়। এ জন্য গতকাল দুপুরে সোহেলের স্বজনরা পুলিশ কেস’র সিল যুক্ত সরকারী ফাইল আনতে নার্সেস ডিউটি রুমে যান। সেখানে দায়িত্বরত নার্স (ব্রাদার) নগরীর ২৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর জিয়া উদ্দিন সিকদারের ছোট ভাই মানুষিক রোগী জসিম উদ্দিন ফাইলটি দিতে অপরাগতা প্রকাশ করে। এ নিয়ে জসিম এবং ওয়ার্ডের ইনচার্জ সিনিয়র স্টাফ নার্স হাসিনা পারভিন’র কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে রোগী সোহেলের বাবা কাঞ্চন মৃধা, স্বজন আব্দুর রব সিকদার, কালাম হাওলাদার, টিটু এবং আল আমিন সহ অন্যান্যরা মিলে নার্স হাসিনা ও জসিমের উপর হামলা চালায়। এসময় তারা স্ট্যান্ড দিয়ে পিটিয়ে জসিমের মাথায় রক্তাক্ত জখম করে।
এদিকে খবর পেয়ে ইউনিটের চিকিৎসক ডা. আশিকুর রহমান, আয়া সেলিনা পারভিন এবং রিনা বেগম বাধা দিতে গেলেও তাদেরকেও পিটিয়ে গুরুতর আহত করে পালিয়ে যায় স্বজনরা।
বিষয়টি জানাজানি হলে জসিম উদ্দিনের ভাই সদর হাসপাতালের স্টাফ নার্স নাসির উদ্দিন কাজলসহ অন্যান্য নার্সরা ওয়ার্ডে গিয়ে রোগীর বাবা কাঞ্চন এবং আল আমিনকে নার্সিং ডিউটি রুমের মধ্যে আটকে রেখে ব্যাপক মারধর করে।
খবর পেয়ে কোতয়ালী মডেল থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আনোয়ার হোসেন’র নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থল থেকে নার্স এবং চিকিৎসকদের উপর হামলার অপরাধে রোগীর বাবা কাঞ্চন এবং আল আমিনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
অপরদিকে নার্সের উপর হামলাকে কেন্দ্র করে দুপুর ৩টা থেকে কর্ম বিরোতী শুরু করে হাসপাতলের সকল নার্সরা। এসময় তারা জরুরী বিভাগের প্রধান গেট বন্ধ করে রোগী ভর্তি কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। পাশাপাশি জরুরী বিভাগের সামনে অবস্থান নিয়ে হামলাকারীদের বিচারের দাবীতে বিক্ষোভ করে।
ডিপ্লোমা নার্সেস এ্যাসোসিয়েশনের বিভাগ এবং জেলার সাধারণ সম্পাদক ফরিদুন্নেছা জানান, প্রায় সময় হাসপাতালের রোগীরা নার্সদের উপর অহেতুক হামলা চালায়। রোগীর নাম কাটে ডাক্তার। এ জন্য নার্সরা কেন হামলার শিকার হবে।
তিনি বলেন, এই হামলার প্রতিবাদ এবং দোষিদের শাস্তির দাবীতে সকল নার্সরা আন্দোলন করেছে। পরবর্তীতে পরিচালক এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং মামলা দায়েরের আশ্বাস দেয়ায় সন্ধ্যা ৬টার দিকে কর্মবিরতী প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে বলেও ফরিদুন্নেছা নিশ্চিত করেছেন।