রোগীর মৃত্যুতে শেবাচিমে হামলায় নার্সসহ আহত-৩ হামলাকারী তিন মাদক বিক্রেতা আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে শেবাচিম হাসপাতালের জরুরী বিভাগে হামলা ও ভাংচুর চালিয়েছে স্বজনরা। গতকাল মঙ্গলবার বিকাল পৌনে ৬টার দিকে এই হামলায় সিনিয়র স্টাফ নার্স মোস্তাফিজুর রহমান সহ ৩ জন আহত হয়েছে। এ ঘটনায় প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ নার্সরা প্রায় এক ঘন্টা জরুরী বিভাগে তালা দিয়ে চিকিৎসা সেবা বন্ধ রাখে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে ঘটনাস্থল থেকে নগরীর কেডিসি এলাকার মাদক ব্যবসায়ী সহ ৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ। আহতদের মধ্যে সিনিয়র স্টাফ নার্স ও নার্সেস এসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমানকে চিকিৎসার জন্য শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যান্য আহতরা হলো সিনিয়র স্টাফ নার্স ও নার্সেস এসোসিয়েশনের প্রচার সম্পাদক আবু জাফর ও চুক্তি ভিত্তিক কর্মচারী বাদশা।
গ্রেফতারকৃতরা হলো- নগরীর কেডিসি বস্তির (রাজ্জাক স্মৃতি কলোনী) চিহ্নিত মাদক বিক্রেতা অন্তর, বরফ কল নামার চরের গাঁজা ব্যবসায়ী প্যাদা রুবেল ও ব্যাপ্টিস্ট মিশন রোডের ইমরান। হামলার শিকার সিনিয়র স্টাফ নার্স (ব্রাদার) মোস্তাফিজুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, বিকাল ৫টার দিকে কেডিসি এলাকা থেকে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়া লিটন সরদার (৪৫) নামে রোগীকে শেবাচিম হাসপাতালে নিয়ে আসে। তাৎক্ষনিক ভাবে চিকিৎসা কার্যক্রম চালুর জন্য জরুরী বিভাগ থেকে তাকে করোনারী কেয়ার ইউনিট (সিসিইউ) বিভাগে ভর্তি করা হয়। সেখানেই মৃত্যু হয় লিটনের। মোস্তাফিজ অভিযোগ করেন, রোগীর মৃত্যুর পরে ১০ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর জয়নাল আবেদীনের সহযোগি কেডিসি এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী বাহিনী জরুরী বিভাগে অতর্কিত হামলা ও সিনিয়র স্টাফ নার্স মোস্তাফিজুর রহমানকে এলোপাথারী পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। অন্যান্য নার্সরা বাধা দিলে তাদের উপরেও হামলা চালায় মাদক ব্যবসায়ী বাহিনী। এক পর্যায় নার্স ও মাদক ব্যবসায়ীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হলে নার্সরা অন্তর নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।
এদিকে ঘটনার পর পরই হামলার প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ নার্সরা জরুরী বিভাগের গেটে তালা লাগিয়ে রোগী ভর্তি ও চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ রেখে বিক্ষোভ মিছিল করে। তখন ১০ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর জয়নাল আবেদীন হামলাকারী মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে নিয়ে ঘটনাস্থলে এলে নার্সরা তাদের উপর চড়াও হয়। এক পর্যায়ে জয়নালসহ হালাকারীদের জরুরী বিভাগে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। পরে সেখান থেকে নার্সদের উপর হামলাকারী ও চিহ্নিত মাদক বিক্রেতা প্যাদা রুবেল ও ইমরানকে পুলিশ আটক করে। এর প্রায় এক ঘন্টা পর হাসপাতাল পরিচালক ডা. মু. কামরুল হাসান সেলিম ও পুলিশে আইনী সহায়তার আশ্বাসে নার্সরা জরুরী বিভাগের তালা খুলে দেয়। জানতে চাইলে জরুরী বিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসক মাসুম মোল্লা জানান, রোগীটাকে জখন জরুরী বিভাগে নিয়ে আসে তখন তার অবস্থা খুবই খারাপ ছিলো। এজন্য দ্রুত তাকে সিসিইউতে ভর্তি করে দেয়া হয়। তিনি বলেন, রোগীর চিকিৎসা সেবায় কোন অবহেলা বা বিলম্ব হয়নি। কেননা রোগীকে জখন জরুরী বিভাগে নিয়ে আসার সাথে সাথে তাকে সিসিইউতে ভর্তি করে দিয়েছেন তিনি। কিন্তু রোগীর শারীরিক অবস্থা খুবই খারাপ ছিলো। রোগী নিয়ে জরুরী বিভাগে এসেও হামলাকারীরা একই আচরন করে বলে অভিযোগ করে এই চিকিৎসক। এদিকে সন্ধ্যায় বিষয়টি সমঝোতান মাধ্যমে আটকৃত মাদক ব্যবসায়ীদের পুলিশের হাত থেকে ছাড়িয়ে আনার চেষ্টা চালায় ১০ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর জয়নাল আবেদনী। এ নিয়ে ডিপ্লোমা নার্সেস এসোসিয়েশনের সাধারন সম্পাদক ফরিদুন্নেছা সহ অন্যান্য নার্সদের সাথে বৈঠক করে। কিন্তু বিক্ষুব্ধ নার্সরা জয়নালকে এক প্রকার লাঞ্ছিত করে ফিরিয়ে দেয়। এছাড়া হাসপাতাল পরিচালকের নির্দেশ অনুযায়ী হামলার ঘটনায় মামলা দায়ের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন নার্সেস এসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেন।