রেজা হত্যা মামলার আরো এক আসামি গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ মহানগর ছাত্রলীগ নেতা এবং বরিশাল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সাবেক ছাত্র রেজাউল করিম রেজা হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আরো এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ নিয়ে রেজা হত্যা মামলার মূল পরিকল্পনা ও হত্যাকারী সহ ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এখন ছাত্রলীগের বরিশাল মহানগর সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন সহ বাকি রয়েছে এজাহার নামীয় ৮ জন আসামি। র্সবশেষ গতকাল ভোর রাতে গ্রেপ্তার হওয়া মো. খলিলুর রহমান মামলার অন্যতম আসামি এবং হত্যার পরিকল্পনাকারী। গ্রেপ্তারের পর আদালতের মাধ্যমে খলিলকে জেল হাজতে প্রেরন করা হয়েছে।

এদিকে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া নগরীর আমীর কুটির এলাকার বাসিন্দা খলিলুর রহমান রেজা হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তার দেয়া দিক নির্দেশনা অনুযায়ী রেজার উপর হামলা এবং কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে সে পুলিশকে জানিয়েছে। তাছাড়া গ্রেপ্তারের পর খলিলের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী রেজা হত্যা মিশনে ব্যবহৃত একটি রাম দা উদ্ধার করেছে কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশ। গতকাল বেলা ১১টার দিকে খলিলকে সাথে নিয়ে তল্লাশি চালিয়ে ১৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সৈয়দ জাকির হোসেন জেলাল এর বাড়ির পেছনে জঙ্গল থেকে দাটি উদ্ধার করেন বলে জানিয়েছেন মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহ মোহাম্মদ আওলাদ।

তিনি জানান, চাঞ্চল্যকর রেজা হত্যা মামলায় ১২ জন নামধারী আসামি রয়েছে। ইতিমধ্যে এই মামলার প্রধান চার আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পেরেছে কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশ। এদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে হত্যার রহস্য উৎঘাটন হয়েছে। এখন শুধু সকল আসামিকে গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় নিয়ে আসা সময়ের ব্যাপার মাত্র।

এদিকে রেজা হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাইদুল হক জানান, ইতিপুর্বে আরো চার আসামিকে গ্রেপ্তার করেছেন তারা। এদের মধ্যে গত ১০ জুলাই ঢাকার বাড্ডা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় রেজা হত্যা মামলার এজাহার নামীয় অন্যতম আসামি জাহিদুল করিম জাহিদকে। এরপর গ্রেপ্তার করা হয় মামলার রাজিব নামের অপর আসামিকে। এর পূর্বে হত্যাকান্ডের ঘটনার তিনদিন পর অর্থাৎ ৩০ মে ঢাকার পালাবার সময় এমভি কালাম খান লঞ্চ থেকে গ্রেপ্তার হয় মামলার আরেক আসামি ও যুবলীগ নেতা মেহেদী হাসানকে।

বরিশাল মেট্রোপলিন পুলিশের সিনিয়র সহকারী কমিশনার (কোতয়ালী) মো. আজাদ রহমান বলেন, যে ৮ জন আসামি পালিয়ে আছে তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তারা দেশের যে প্রান্তেই থাকুক না কেন তাদেরকে গ্রেপ্তার করতে পর্যাপ্ত সোর্স নিয়োগ করা হয়েছে। খুব দ্রুতই বাকি আসামিদের গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় নিয়ে আসা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৭ মে রাতে পলিটেকনিক কলেজের সামনে ছাত্রলীগ নেতা রেজাউল ইসলামকে কুপিয়ে হত্যা করে ছাত্রলীগের বিবাদমান গ্রুপের সন্ত্রাসীরা। আধিপত্য বিস্তার এবং ছাত্রলীগের কমিটি গঠন নিয়ে এই হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে। তবে ইতিপূর্বে আটক হওয়া হত্যাকারীদের দেয়া স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি মতে রেজাকে হত্যার পরিকল্পনা ছিলো না তাদের। তাদের উদ্দেশ্য ছিলো রেজার সহযোগিকে হত্যা করা।

এদিকে নানা নাটকিয়তার অবসান ঘটিয়ে হত্যাকান্ডের তিন দিন পর অর্থাৎ ৩০ মে রেজার ভাই রিয়াজ বাদী হয়ে কোতয়ালী মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় ছাত্রলীগের মহানগর শাখার সভাপতি জসিম উদ্দিনকে ১২ নম্বর আসামি করা ছাড়াও মোট ১২ জনের নাম এবং অজ্ঞাত আরো বেশ কয়েকজনকে আসামি করা হয়।