রূপাতলী হাউজিংয়ে জেলা পরিষদের ষ্টল নির্মান অনিশ্চয়তায়

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে নগরীর রূপাতলী হাউজিং এলাকায় জেলা পরিষদের ষ্টল নির্মান কার্যক্রম। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দাবী এবং জমির ইজারাদারদের কারনে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এই কারনে জেলা পরিষদের ওই জমি বেহাত হয়ে যাওয়ার আশংকা প্রকাশ করেছেন সচিব।
জেলা পরিষদ সচিবের আশংকায় ষ্টল নির্মানের দাবি মানতে নারাজ একটি পক্ষ। তাদের অভিযোগ ষ্টল নির্মান করে দেয়ার জন্য সচিব সহ কয়েকজন মোটা অংকের উৎকোচ গ্রহন করেছেন।  তারা দীর্ঘ বছরের পুরানো স্থানীয় ব্যবসায়ীদের বাদ দিয়ে সোয়া কোটি টাকা উৎকোচের বিনিময়ে নিজেদের স্বজনের নামে ষ্টল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে বলে জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী সহ অন্যান্য কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসকের নিকট লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, সম্প্রতি নগরীর রূপাতলী হাউজিং বাজারের জমিতে ২১টি ষ্টল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। জেলা পরিষদ কার্যালয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা তার সহকারী মোজাহিদুল ইসলাম ও প্রশাক’র পিয়ন মনির এর সহযোগিতায় ২১টি ষ্টলের বিপরীতে এক কোটি ২৫ লক্ষ টাকা ঘুষের বিনিময়ে অপ্রাপ্য ব্যক্তিদের নামে ডিসিআর তৈরী করে তাদের নামে স্টল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। ষ্টল প্রতি ঐ তিনজন আট লক্ষ টাকা করে হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, হাউজিং বাজারে কাঠের টংয়ের মতো দোকান তৈরী করে গত ৮/১০ বছর ধরে ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে স্থানীয় খেটে খাওয়া অসহায় মানুষেরা। কিন্তু তারা সেখানে ব্যবসার জন্য স্টল দাবী করলেও দেয়া হচ্ছে না। প্রধান নির্বাহী ও তার সহযোগি নিজেদের স্বজনের নামে ৯/১০টি করে বরাদ্দ দিয়েছেন। বিশেষ করে পরিষদ কার্যালয়ের দুর্নীতিবাজ উচ্চমান সহকারী মোজাহেদুল ইসলাম সহ আরো দুই কর্মচারীর স্বজনের নামে তিনটি স্টল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগ অস্বীকার করে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ গোলাম মোস্তফা আজকের পরিবর্তনকে জানান, স্টলের ঐ জমি অনেক আগেই ২৫ জনার নামে লিজ দেয়া হয়েছে। এজন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তাদেরকেই স্টল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এখানে ঘুষ গ্রহনের কোন বিষয় নেই।
তিনি বলেন, স্থানীয় আওয়ামীলীগ এবং ছাত্রলীগের দুটি গ্রুপ হাউজিং বাজারের আটটি স্টল দাবী করে। কিন্তু জমির ইজারাদারদের নামে বরাদ্দ দেয়ায় ঐ নেতাদের স্টল দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। তাছাড়া স্টলের লিজ গৃহীতা স্থানীয় ডাঃ কবির নামের এক ব্যক্তিকে আ’লীগ এবং ছাত্রলীগের নেতাদের জন্য কয়েকটি ষ্টল ছেড়ে দেয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। কিন্তু তিনি তা মানেননি। তাই আ’লীগ নেতাদের ষ্টল বরাদ্দ দেয়া সম্ভব হয়নি। এজন্যই তারা আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। সেই সাথে হাউজিং কর্তৃপক্ষ চাচ্ছে ঐ স্থানে স্টল নির্মান না হউক।
গোলাম মোস্তফা বলেন, দুই পক্ষে টানা টানিতে অনিশ্চিয়তার মধ্যে পড়েছে হাউজিং এর স্টল নির্মান কার্যক্রম। তার মধ্যে আবার হাউজিং কর্তৃপক্ষ তাদের নোটিশ দিয়েছেন ঐ স্থানে বাজার না করার জন্য। এ মুহুর্তে ঐ জমিতে স্টল নির্মান না করা হলে পরবর্তীতে জমিটি জেলা পরিষদের কাছ থেকে বেহাত হয়ে হাউজিং এর সম্পদে পরিনত হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাই ঐ স্থানে স্টল নির্মান করলে জমি জেলা পরিষদের মালিকানা বহাল তাকবে। আগামী ২/৪ দিনের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে বৈঠক হবে। এ বৈঠকে উভয়ের সিদ্ধান্ত এক হলে হাউজিং বাজারে স্টল নির্মান করা সম্ভব হবে।