রূপসী ও জোনাকী জুয়ায় পড়াশুনা বন্ধ!

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ নগরীর সাগরদী এলাকার বাসিন্দা ও এইচএসসি পরীক্ষার্থী রাকীবের পড়াশুনা বন্ধ হয়ে গেছে। দিনে সে দু’একবার বইয়ের সামনে বসলেও রাতে মোটেও সময় পান না। কারন রাতের অধিকাংশ সময় ব্যয় হয় জুয়ার নেশায়। লটারী জুয়া তাকে পুরোপুরি পেয়ে বসেছে। তার এখন পরীক্ষায় ভাল ফলাফল করে বড় হওয়ার কোন স্বপ্ন নেই। এখন তার বড় স্বপ্ন হলো লটারী জিতে একটি মোটর সাইকেল ঘরে আনা। দিনরাত তার সময় ব্যয় হচ্ছে লটারী জুয়ার কথা চিন্তা করে। র‌্যাফেল ড্রর নামে এখন চলছে রীতিমত প্রতারনা। আর এই প্রতারনার ফাঁদে ফেলে ধ্বংস করা হচ্ছে স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের। লটারী এখন নগরীর শিশুদের জুয়ারী করে গড়ে তুলছে। পড়ালেখার বারোটা বাজছে। অথচ প্রশাসন ও পুলিশ কেউই এ নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছেন না। গত এক মাস ধরে লটারীর নামে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে একটি চক্র। নিউ রুপসী বাংলা ও নিউ জোনাকী র‌্যাফেল ড্রর ফাঁদে পড়ে এখন অনেক ছেলেরা ঘরের জিনিসপত্র চুরি করা শুরু করেছে । যারা একাধিক টিকিট কিনছেন তারা বাবা-মার কাছ থেকে টাকা না পেয়ে ঘরের জিনিস বিক্রী করছে। ফলে তারা আসল বিদ্যা ছেড়ে এখন শিখছেন চুরি বিদ্যা এর সাথে জুয়ার অভ্যাস গড়ে তোলার সুযোগতো আছেই। নগরীর সচেতন মহল প্রশাসন ও পুলিশের কাছে অনুরোধ জনিয়েছেন এই ধরনের প্রতারনা বন্ধের। নগরীর আলেকান্দা এলাকার স্কুল পড়–য়া এক ছেলে স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। কারন হিসেবে জানা গেছে তাকে নাকি স্বপ্নে কে বলেছে এক সাথে ২০টি টিকিট কিনলেই তার ভাগ্যে একটি মোটর সাইকেল আসবে। এখন সে লেখাপড়া ছেড়ে দিয়ে মোট সাইকেলের স্বপ্নে বিভোর। দিনে তার সময় ব্যয় হয় টিকেটের পিছে আর রাত জেগে টিভিতে লটারীর লাইভ দেখে। এসব লাইভ দেখিয়ে নগরীর শিশুদের লেখাপড়া ধ্বংস করা হচ্ছে বলে একাধিক অভিভাবক অভিযোগ করেছেন। এক অভিভাবক জানান, তার ছেলে নগরীর একটি নামিদামি স্কুলে নবম শ্রেনীতে পড়াশুনা করছে। এ পর্যন্ত সে কমপক্ষে ৫ হাজার টাকার টিকেট কিনেছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোন ধরনের পুরষ্কার তার ভাগ্যে জোটেনি। লটারীর পেছনে ছুটতে গিয়ে তার নাওয়া-খাওয়া বন্ধ। তাকে বেশি কিছু বলাও যায়না এই ভয়ে তাহলে সে স্কুলে যাওয়া পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়ার হুমকী দেয়। এখন উভয় সংকটে পড়েছি আমরা। গত পরশু আমরা লটারীর টাকা না দেয়ায় সে বাসায় থাকা একটি নকিয়া মোবাইল চুরি করে মাত্র ৫’শ টাকায় বিক্রী করে দিয়েছে। পুরো টাকা দিয়েই কিনেছে লটারী। মোটর সাইকেল পাওয়ার জন্য এখন অনেকে ঘরের চাল পর্যন্ত বিক্রী করছে। নগরীতে এখন র‌্যাফেল ড্র’র কারনে অপরাধও অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশিষ্টজনরা প্রশাসনের কাছে জোর অনুরোধ জানিয়েছেন এ ধরনের জুয়া বন্ধ করার জন্য। তারা বলছেন সামনে এইচএসসি পরীক্ষা। এখন যদি এভাবে মোড়ে মোড়ে মাইক দিয়ে ছেলে মেয়েদের জুয়ার দিকে ডাকা হয় তাহলে প্রভাব পরীক্ষার উপর পড়বে। সারা রাত জুয়া আবার লাইভ দেখিয়ে পুরোটাই নষ্ট করে দেয়া হচ্ছে ছোট ছোট ছেলে-মেয়েদের মাথা। টিআইবির বরিশাল অঞ্চলের সভাপতি প্রফেসর এম মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, কোন অনুষ্ঠানে এ ধরনের লটারীর আয়োজন করা সেটা আলাদা ব্যাপার। কিন্তু মাসের পর মাস এভাবে লটারী বিক্রী করে ছেলে-মেয়েদের ধ্বংসের পথে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে আমি মনে করি । বরিশালের প্রশাসন ও পুলিশের কাছে আমাদের অনুরোধ থাকবে লটারীর নামে জুয়া বন্ধের।