রায়পাশা-কড়াপুরে ফজলুতন্ত্রে চলছে ইউপি আ’লীগের কার্যক্রম

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ ফজলুল হক সরদারের বানানো নীতিতেই চলছে সদর উপজেলার রায়াপাশা-কড়াপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ। ঐতিহ্যবাহী এই সংগঠনটির গঠনতন্ত্র উপেক্ষা করে সাধারণ সম্পাদককে বহিষ্কার করলেন সভাপতি ফজলুল হক সরদার। শুধু তাই নয়, উপজেলা কমিটির অনুমতি কিংবা মতামত ছাড়াই পূর্বের সাধারণ সম্পাদককে ঐ পদের দায়িত্ব দিয়েছেন তিনি। যা নিয়ে ইউনিয়নের তৃণমূল থেকে শুরু করে সর্বস্থরের নেতা-কর্মীদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা ইউনিয়নের দুর্নীতিবাজ সভাপতি ফজলুল হকের বিচারের পাশাপাশি তার পদত্যাগও দাবী করেছেন।
রায়পাশা-কড়াপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. ফজলুল হক সরদার স্বাক্ষরিত এক খবর বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আ’লীগের ইউনিয়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক আহম্মেদ শাহরিয়ার বাবু সংগঠন বিরোধী কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। শুধু তাই নয়, ক্ষমতার অপব্যবহার করে মানুষের সাথে দুর্ব্যবহার এবং শ্রমিকদের অর্থ আত্মাসত করছে।
সর্বশেষ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন শুরু করে আহম্মেদ শাহরিয়ার বাবু ইউনিয়নের দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ না করে বিএনপি’র প্রার্থীকে সমর্থন এবং তার পক্ষেই প্রচারণা চালিয়ে আসছে। এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে রায়পাশা-কড়াপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে তাকে বহিস্কার আদেশ দেন একই কমিটির সভাপতি মো. ফজলুল হক সরদার। অথচ ঐ আদেশে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদকের সিল অথবা স্বাক্ষর নেই। ফজলুল হক সরদার নিজ ক্ষমতার অপব্যবহার করে বহিস্কারের এমন নাটক সাজিয়েছেন। শুধু তাই নয়, ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম টিপুকে পুনরায় পদ ফিরিয়ে দেয়ার বিষয়ে চুক্তিবদ্ধ হয়েই ফজলুল হক বর্তমান সাধারণ সম্পাদক বাবুকে কথিত বহিস্কার করেছেন। বিনিময়ে এক সময়ের চিহ্নিত সন্ত্রাসী এবং দুর্নীতিবাজ টিপুর কাছ থেকে মূল্যবান উপঢৌকন এবং মোটা অংকের উৎকোচ গ্রহণ করেন বলে ফজলুল হকের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের বরিশাল সদর উপজেলা কমিটির সভাপতি মনিরুল ইসলাম ছবি বলেন, ইউনিয়ন কমিটির সভাপতি কিংবা সাধারণ সম্পাদক সহ যে কোন নেতাকে পদ থেকে বহিস্কার করার ক্ষমতা রয়েছে শুধু মাত্র উপজেলা কমিটির। আর ইউনিয়ন কমিটি পারবে অধিনস্ত ওয়ার্ড কমিটির ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে। কিন্তু রায়াপাশা-কড়াপুর ইউনিয়নের সভাপতি ফজলুল হক এমন কাজ করে থাকলে সেটা ঠিক হয়নি। এমনকি তার দেয়া বহিস্কারাদেশ বাস্তবায়ন হবে না। উপজেলা কিমিটি আদেশ না দেয়া পর্যন্ত আহম্মেদ শাহারিয়ার বাবুই সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে বলে জানিয়েছেন তিনি।