রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ৬ মাসে ২৭ লাখ টাকা জমা দিয়েছে ভ্রাম্যমান আদালত

সিদ্দিকুর রহমান ॥ গত ৬ মাসে বরিশাল জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে রাষ্ট্রীয় কোষগারে বিভিন্ন অভিযোগে জরিমানা হিসেবে আদায় করে ২৭ লক্ষ ৭ হাজার ৫৭০ টাকা জমা দেয়া হয়েছে। ১০ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনাররা ভ্রাম্যমান আদালত কার্যক্রম পরিচালনা করে নির্বাহী হাকিম হিসেবে ওই জরিমানা আদায় করেন।
খাদ্য দ্রব্যে ভেজাল, ফলমূল ও মাছে ফরমালিন, মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন, ধুমপান রোধ ও মেয়াদ উর্ত্তীর্ণ ঔষধ বিক্রি রোধে পরিচালিত ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে ওই জরিমানা আদায় করা হয়।
এছাড়াও বিভিন্ন মেয়াদে ১০৩ জন অপরাধীকে দন্ড দেয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসক কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, জেলার ১০ উপজেলা এবং মহানগরীতে গত ৬ মাসে ৩৯২ ভ্রাম্যমান আদালত কার্যক্রম পরিচালনা করে। ৭৬৪ মামলায় ওই জরিমানা আদায় ও দন্ড দেয়া হয়।
জুডিসিয়াল মুন্সিখানা শাখা সূত্র জানিয়েছে, জানুয়ারি মাসে ৫৪ ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হয়। ওই মাসে ৯২ মামলায় ৩ লক্ষ ৯৫ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। ১৭ জন অপরাধীকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড দেন হাকিমরা।
ফেব্রুয়ারি মাসে ৪২ ভ্রাম্যমান আদালত ৬২ মামলা করে। হাকিমরা এ মাসে ৬ লক্ষ ১৮ হাজার ৬০০ টাকা জরিমানা আদায় করার নির্দেশ দেন। বিভিন্ন ধারায় ১০ অপরাধীকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড দেয়া হয়।
মার্চ মাসে ৭৯ ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে ১৮৬ মামলা করা হয়। এ মাসে ৩ লক্ষ ৯৬ হাজার ২৫০ টাকা জরিমানা আদায় হয়। দন্ডিত হয় ৩১ জন অপরাধীকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড দেয়া হয়।
এপ্রিল মাসে ৫৭ ভ্রাম্যমান আদালত ১২৪ মামলায় ২ লক্ষ ৪৯ হাজার ৭২০ টাকা জরিমানা করে। এছাড়াও ৭ জন অপরাধীকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ডে দন্ডিত করা হয়।
মে মাসে ৯৩ ভ্রাম্যমান আদালত ১৫৬ মামলায় ৬ লক্ষ ২৮ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা আদায় করে। ২৭ জন অপরাধীকে কারাদন্ড দেয়া হয়।
জুন মাসে ৬৭ ভ্রাম্যমান আদালত ১৪৪ মামলায় ৪ লক্ষ ১৯ হাজার টাকা জরিমানা এবং ১১ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড দেয়া হয়।
অন্যদিকে গত ৬ মাসে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী হাকিম মোঃ সফিউল্লাহ, আম্বিয়া সুলতানা, মাহমুদা সুলতানা, মোঃ আল মুক্তাদির হোসেন, শীতেষ চন্দ্র সরকার, মোঃ শফিকুল ইসলাম, রুমানা আক্তার, মাহমুদা আক্তার, সুখময় সরকার, কামরুন্নাহার, লুৎফুন্নেছা খানম ভ্রাম্যমান আদালতগুলো পরিচালনা করেছেন। এছাড়াও জেলার ১০ উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা নিজ নিজ উপজেলায় ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেছেন বলে জানা যায়। এদিকে জেলা প্রশাসক ড. গাজী মোঃ সাইফুজ্জামান জানান, খাদ্যদ্রব্য, মাছ , ফলমূলসহ সব ধরনের ভেজাল নিয়ন্ত্রণে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। যার ফলে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী হাকিমরা এই আদালত পরিচালনা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। এ সময় তিনি জানান, এই আদালত পরিচালনার ক্ষেত্রে সিভিল সার্জন, বিএসটিআই, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, মাদক নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরসহ আইন শৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা সর্বাত্মক সাহায্য সহযোগিতা করে যাচ্ছে।