রাতের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বসে টিসি মাদক সেবন ও বিক্রির হাট

জুবায়ের হোসেন ॥ নগরীর স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এখন মাদক সেবীদের অভয়ারণ্যে পরিনত হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে রাতে চলছে প্রকাশ্যে মাদক সেবন। শুধু সেবন নয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাসে মাদক বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে আবাসিক শিক্ষার্থীরা। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষসহ আইন শৃংখলা রক্ষাকারি বাহিনীর নেই কোন তৎপরতা। এতে অবাধে বেড়ে চলছে মাদকের ব্যবহার। আর প্রতিনিয়ত ঘটছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অপ্রীতিকর ঘটনা।
চিহ্নিত এই মাদক সেবীরা অছাত্র এবং স্থানীয় কিছু রাজনৈতিক নেতাদের মদদপুষ্ট হওয়ায় প্রতিরোধের সদিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও কিছুই করা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা এবং কর্মরতরা। অবিযোগকারীরা জানিয়েছে, সরকারি ব্রজমোহন কলেজ, হাতেম আলী কলেজ, সরকারি বরিশাল কলেজ, ল কলেজ, সিটি কলেজ, পলিটেকনিক কলেজ, জিলা স্কুল, এ.কে স্কুল, অক্সফোর্ড মিশন মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও হালিমা খাতুন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে রাতে মাদকসেবী ও বিক্রেতারা জড়ো হয়। তাদের আনাগোনা গভীর রাত পর্যন্ত চলে। কখনও কখনও ক্যাম্পাসে বসেই আবার শ্রেণীকক্ষেও বাদ যায় না। এর মধ্যে একেবারেই বেহাল দশা সরকারি ব্রজমোহন কলেজ, হাতেম আলী কলেজ, সিটি কলেজ ও জিলা স্কুল।  এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বৃহৎ ক্যাম্পাস এবং একাধিক প্রবেশ ও নির্গমনের পথ থাকায় মাদক ব্যবসায়ী ও বখাটেদের আখড়ায় পরিনত হয়েছে। সন্ধ্যার সাথে সাথে বিএম কলেজে কলেজ এভিনিউ, কলেজ রো, বৈদ্যপাড়া, নতুনবাজার ও বিএম কলেজ প্রথম গেইট এলাকার চিহ্নিত কিছু নির্দিষ্ট স্থানে তাদের মাদকের পসড়া সাজিয়ে বসে। বাকসু ভবনের পিছন, ক্যান্টিনের পশ্চিম ও দক্ষিন প্রান্ত, মুক্তমঞ্চ, বানিজ্য ভবনের পেছন ও দক্ষিন দিকের মাঠের শেষ প্রান্ত, অডিটরিয়ামের পেছন তাদের নিরাপদ ঘাটি। এছাড়াও আবাসিক ছাত্রদের জিম্মি করে ছাত্রাবাসে বসেও আসর। গভীর রাত পর্যন্ত মাদক সেবনের পর মাতাল হয়ে আবাসিক ছাত্রসহ কলেজের কর্মকর্তা- কর্মচারীদের মোবাইল ফোন, টাকা সহ মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেয়ার মত ঘটনা ঘটাচ্ছে। এরা বহিরাগত সন্ত্রাসী ও কিছু ক্ষমতাসীন ছাত্র নেতার ছত্রছায়ায় থাকায় কলেজ কর্তৃপক্ষও এদের কাছে জিম্মি।
আংশিক অস্বীকার করে ব্রজমোহন কলেজের অধ্যক্ষ ফজলুল হক বলেন, নেশা ঠিক নয়, কলেজের মধ্যে তিনটি ছাত্রাবাস আছে। ছাত্ররা হয়ত ধূমপান করতে পারে। কলেজ এ পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা আছে এবং সাদা পোশাকে আইন শৃংখলা  রক্ষাকারি বাহিনীর সদস্যরাও রয়েছে। কলেজের সম্মুখে বিশাল লোকালয় এবং রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের কারণে কিছু সমস্যা থেকেই যায়। তবে কলেজ কর্তৃপক্ষ সকল ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সার্বিক ব্যবস্থা নিচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও নেবে।
হাতেম আলী কলেজ, সিটি কলেজ এর অবস্থাও একই। চৌমাথা, বটতলা, অক্সফোর্ডমিশন রোড, সার্কুলার রোড এলাকার কিশোর-তরুন মাদক সেবীরা দখল করেছে হাতেম আলী কলেজ ক্যাম্পাস। এরা এতটাই ভয়ংকর যে কেউ তাদের বাঁধা দিলে মেরে বা কুপিয়ে জখম করতেও দ্বিধা বোধ করে না।
সিটি কলেজ দখল করেছে বগুড়া রোড, ফকিরবাড়ি রোড, আগরপুর রোডের কিছু মাদক সেবীরা। নগরীর জর্ডান রোড, ব্রাউন কম্পাউন্ড, ক্লাব রোডের হাতে গোনা কিছু মাদক সেবীদের আড্ডা বরিশাল জিলা স্কুলে। নামি বিদ্যালয় হওয়ায় প্রশাসনের কোন ঝামেলাও নেই এখানে। তাই বিদ্যালয়ের কম্পাউন্ড সহ পশ্চিম পার্শ্বের ভবনের নিচতলা ও দোতলা দখল করে চলছে প্রতিয়িতই নেশা প্রতিযোগীতা। এরা মূল গেট দিয়ে প্রবেশ করে এবং বের হয় পিছন তথা বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে থেকে। তাই এরা বেশির ভাগই ধরা ছোঁয়ার বাইরে থাকছে বলে জানায় অভিযোগকারী এলাকাবাসী। এ বিষয়ে কথা বলার জন্য মুঠো ফোনে জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষকের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।