রাতের নগরী কুকুরদের দখলে

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ বেওয়ারিশ কুকুরের আধিপত্যে পরিণত হয়েছে রাতের নগরী। প্রতিনিয়ত কুকুরের আক্রমণের শিকার হচ্ছেন নগরীর সাধারণ জনগণ। তার পরেও হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞার অজুহাতে কুকুরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছেন বিসিসি কর্তৃপক্ষ। ফলে সন্ধ্যা নেমে আসলেই কুকুর আতংকে আতংকিত হচ্ছে নগরবাসী।
সরেজমিনে দেখা গেছে, নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডেই বে-ওয়ারিশ কুকুরে উপদ্রব অসংখ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে সন্ধ্যা নেমে আসতেই নগরের অলি-গলি এবং রাস্তা কুকুরের দখলে চলে যাচ্ছে। একই সাথে কমপক্ষে ১৫-২০টি কুকুর সঙ্গবদ্ধ হয়ে উৎপাত সৃষ্টি করছে।
বিশেষ করে নগরীর প্রাণকেন্দ্র সদর রোডের কাকলি মোড়, কালিবাড়ি রোড, ফকিরবাড়ি রোড, পুলিশ লাইনস্ রোড, বিবির পুকুর পাড়, পোর্ট রোড, মেডিকেল কলেজ লেন, শেবাচিম হাসপাতালের সামনে, কালুশাহ সড়ক, আমতলার মোড়, নুরিয়া স্কুলের সামনে, অক্সফোর্ড মিশন রোড, গোরস্থান রোড, জিলা স্কুল মোড়, বাংলাবাজার, রূপাতলী, কালিজিরা, নবগ্রাম রোড, জিয়া সড়ক, কাজীপাড়া, পশ্চিম জিয়া সড়ক, ইছাকাঠী কলোনী, তালুকদার সড়ক, নথুল্লাবাদ, ফিশারী রোড, বিএম কলেজের সামনে, বগুড়া রোড, নতুন বাজার মড়ক খোলার পুল, কাউনিয়া, ইসলামিয়া কলেজের সম্মুখে, ভাটিখানা রোড সহ নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডের মানুষের চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে সঙ্গবদ্ধ হয়ে থাকছে কুকুর। রাস্তায় মানুষের চলাচল করতে দেখলেই একসাথে ১০/১৫ টি কুকুর ঝাপিয়ে পড়ছে। এতে আতংকিত হয়ে পড়ছেন পথচারীরা। অনেক সময় কামড়িয়ে আহত করছে পথচারীদের। শুধুমাত্র নগরীই নয়, রাস্তায় চলাচলকারী যানবাহনের উপরও ঝাপিয়ে পড়ছে বেওয়ারিশ কুকুরগুলো। শুধুমাত্র নগরীর ওয়ার্ড গুলোতে নয়, এমন ভয়াবহ পরিস্থিতি দেখে গেছে খোদ নগর ভবনের সামনেই। কুকুরের উপদ্রব থেকে নগরবাসীকে রক্ষায় কাউন্সিলরদের পক্ষ থেকে সিটি কর্পোরেশনে লিখিত অভিযোগ দেয়ার পরেও কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
নগরীর ২৭ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোঃ নুরুল ইসলাম বলেন, গত কয়েকদিনের ব্যবধানে এই ওয়ার্ডে গবাদী পশুসহ বেশ কয়েকজন পথচারীকে কামড়েছে বেওয়ারিশ কুকুর। এর মধ্যে গতকাল শুক্রবার ফজরের নামাজ পড়তে যাবার সময় ওয়ার্ডের কাজীপাড়া মসজিদের সামনে পিয়াস নামে এক যুবককে কামড়ে আহত করেছে কুকুর। এর আগে এলাকার খ্রিস্টান কলোনীর বাসিন্দা দেবা ও হিরো নামের দুজন কুকুরের কামড়ে আহত হয়। তাছাড়া স্থানীয় ওহাব নামে জনৈক ব্যক্তির গরুকে কামড়িয়ে জখম করে বেওয়ারিশ কুকুর। শুধুমাত্র ২৭ নং ওয়ার্ড নয়, এরকম প্রতি ওয়ার্ডের মানুষ কুকুর আতংকে দিশেহারা হয়ে পড়েছে।
কুকুরের প্রতিনিয়ত আক্রমনের শিকার হওয়া ব্যক্তি নগরীর মেডিকেল কলেজ লেন এর বাসিন্দা আফজাল হোসেন বলেন, প্রতিদিন অফিস থেকে রাতে বাসায় ফিরতে হয়। সদর রোড বিবির পুকুর পাড় থেকে শুরু করে বাসা পৌছানো পর্যন্ত কয়েকদফা কুকুরের আক্রমনের শিকার হতে হয়। আফজাল মন্তব্য করেন, বিসিসির কর্তা ব্যক্তিরা দামী গাড়িতে চড়েন। যে কারণে কুকুরের উপদ্রব কি তা বুঝছেন না। আর তাই পায়ে হেটে কিংবা রিক্সায় চেপে পথচলা সাধারণ নগরবাসীর ভোগান্তির কথা ভাববার সময় পাচ্ছেন না।
এদিকে নগরী ভাটারখাল এলাকায় কুকুরের কামড়ে আহত যুবক আল-আমিন বলেন, কুকুর নিধনের দায়িত্ব বিসিসির। কিন্তু তারা দীর্ঘদিন ধরে এই কাজ থেকে বিরত আছেন। এমনকি কুকুরের কামড়ে আহতদের বিনামূল্যে এ্যান্টিড্রাগ ভ্যাক্সিন দেবার কথা থাকলেও তাও দেয়া হচ্ছেনা। ফলে জলাতংক থেকে বাঁচতে হাজার হাজার টাকায় বাহির থেকে ভ্যাক্সিন কিনে তা শরীর পুশ করতে হচ্ছে।
এসব বিষয়ের স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান ডাঃ মতিউর রহমানের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে এই শাখা থেকে জানানো হয়, উচ্চ আদালতে জারি হওয়া একটি রিটে কুকুর নিধনের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। যে কারণে কুকুর মারা সম্ভব হচ্ছে না। তাছাড়া কুকুরের শরীরে দেয়ার জন্য যে ভ্যাক্সিন ছিল তাও সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। মানুষের শরীরে দেবার জন্য যে এ্যান্টিড্রাগ ভ্যাক্সিন ছিলো তাও অনেকবছর যাবত সরবরাহ হচ্ছেনা বলে সূত্রগুলো দাবী করেছেন।