রাতের আধারে জাটকা পাচার

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ পুলিশ, মৎস্য বিভাগের সহায়তায় প্রতিদিন রাতের আধারে লাখ লাখ টাকার নিষিদ্ধ জাটকা পাচার করছে বরিশালের বেশ কয়েকজন মৎস্য ব্যবসায়ী। তাদের সহযোগীতায় আছেন পুলিশ ও মৎস্য বিভাগের এক কর্মকর্তা। নগরীর পোর্ট রোডের কয়েকজন মাছ ব্যবসায়ী রাতের আধারে জাটকা পাঁচার করছে। বরিশাল নগরী থেকে পাচার করতে না পেরে তারা বেছে নিয়েছেন গৌরনদী উপজেলার শরিকল এলাকা। প্রতি রাতে শরিকল পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যদের সহায়তায় ট্রাকে ট্রাকে ইলিশ যাচ্ছে ঢাকায়। অনুসন্ধানে জানা গেছে নগরীর পোর্ট রোড এলাকার ব্যবসায়ী শাকিল, দেলোয়ার, নাইম, জাকির, নাসির মোল্লা, সেলিম,মিরাজ, সবুজ, ভাষান চরের মানিক কবির বাগ, ভাষান চর এলাকার দেলোয়ার বাখরজার মানিক, শাহিন গাজী, আলাল ঘরামী অবৈধ জাটকা পঁচার করছে। জাটকা আসছে ভোলার চরফ্যাশন, কালাইয়া, শিয়ালগুনী, মেহেন্দিগঞ্জ, ভাষানচর থেকে ট্রলারে করে জাটকা সংগ্রহ করে রাত ১২টার পরে নিয়ে আসা হয় শরিকল পুলিশ ফাঁড়ির কাছে। সেখানে অপেক্ষমান ট্রাকে মাছ তুলে রাত আড়াইটার দিকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা করা হয়। জাটকা নেয়া হয় ঢাকার কাওরান বাজার ও মাওয়া বাজারে। গড়ে প্রতিদিন ৪/৫টি ট্রাক জাটকা ভর্তি করে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে শরিকল ফাঁড়ি পুলিশকে মন প্রতি ২শ টাকা করে দেয়া হয়। স্থানীয় আওয়ামীলীগকেও একই হারে টাকা দিতে হয়। সাংবাদিক পরিচয় গোপন রেখে দু,ব্যবসায়ীকে ফোন দিলে মেলে এর সত্যতাও। পোর্ট রোডের ব্যবসায়ী দেলোয়ার ও শাকিল জানান, আগে আমরা বেলতলা এলাকা থেকে জাটকা নিতাম এখন প্রশাসনের নজরদারি বাড়ার কারনে রুট পাল্টিয়েছি। শরিকল পুলিশ ফাঁড়িতে টাকা দেয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন তিনি। এছাড়া মৎস্য বিভাগের এক কর্মকর্তাকে টাকা দেয়ার কথা স্বীকার করলেও কাকে দেন সেটা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন শাকিল ও দেলোয়ার। পোর্ট রোড আড়ৎদার এ্যাসোসিয়েশনের এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জাটকা পাচারের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, পত্রিকায় শত লেখালেখি হলেও জাটকা পাচার বন্ধ হবেনা। কারন যারা পাঁচার করছেন তারা সবাইকে ম্যানেজ করেই করছেন। আর এ কারনে সব জায়গায় অভিযান পরিচালনা করলেও শরিকল এলাকায় অভিযান হয়না। তিনি জানান, বরিশাল নৌ-পুলিশ ফাঁড়িকেও টাকা দিতে হয়। তবে কম আর বেশি। এ ছাড়া বন্দর থানা পুলিশও টাকার একটি ভাগ পান। সবদিক ঠিক রেখেই এ ধরনের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন ১৫ জন ব্যবসায়ী। শরিকল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোঃ ফোরকান জানান, এখান থেকে আগে জাটকা পাচার হতো এটা ঠিক। কিন্তু কিছু দিন পূর্বে আমরা একটি ট্রাক আটক করে ভ্রাম্যমান আদালতের সামনে হাজির করি। এ সময় জাটকা এতিমখানায় বিতরন এবং পাচারকারীদের দন্ড দেন ভ্রাম্যমান আদালত। ব্যবসায়ীরা এখন বাবুগঞ্জসহ অন্যান্য রুট দিয়ে জাটকা পাচার করছে।