রাজাপুরে হামলা ও লুটপাট করে দোকান দখল ॥ শিশুসহ আহত-৭

রাজাপুর প্রতিবেদক ॥ রাজাপুরের পুটিয়াখালি বাজারে এস্কেন্দার আলী মীরের ৩টি দোকান হামলা চালিয়ে লুটপাট করে দখলে নিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া ভাড়াটিয়া আবুল কালামের ঘর দখলে নেওয়ার জন্য তার ১০ মাস বয়সী শিশু নুসরাতকে নির্মমভাবে কাঁদায় নিক্ষেপসহ তার পরিবারের লোকজনকে মারধর ও শ্লীলতাহানি করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের নারী ও শিশুসহ ৭ আহত হয়। প্রতিপক্ষরা আবুল কালামের স্ত্রী জায়েদা কেগম (৪০), তার মেয়ে বিএম কলেজের ছাত্রী খালেদা আক্তার(১৯), বড়ইয়া ডিগ্রি কলেজের ছাত্রী রিপা আক্তার(১৭) কে মারধর করে এবং শ্লীলতাহানি করে। এ ঘটনায় অপরপক্ষেরও আমজেদ (৭৫) ও মমতাজ (৫৫) আহত হয়। আহতদের মধ্যে শিশু নুসরাত, তার মা জায়েদা ও অপরপক্ষের মমতাজ বেগম স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি। এ ঘটনায় একই পক্ষের ঘর মালিক এস্কেন্দার আলী মীর ও ভাডাটিয়া আবুল কালাম প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে রাজাপুর থানায় পৃথক লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। দোকান মালিক এস্কেন্দার আলী মীর জানান, ২ মৌজার ক্রয়সূত্রে ও ফরায়েজ সূত্র ৭৭ শতাংশ জমি এস্কেন্দার আলীর। যা প্রায় ৪০ বছর ধরে ভোগ করে আসছে। কিন্তু স্থানীয় প্রতিপক্ষ আমজদ ও তার লোকজন ওই জমির দোকান দখলের পায়তারা চালালে ঝালকাঠি আদালতে মামলা (১৯৫/১৫ (রাজা) করি। আদালতে মামলা চলকালীন অবস্থায় পুলিশ শালিস মানিয়ে দেয় এবং দোকান পুলিশের জিম্মায় নেয়। কিন্তু পুলিশের জিম্মায় থাকা অবস্থায় ওই দোকান গতকাল প্রতিপক্ষ আমজাদের জামাতা আল-আমিনের নেতৃত্বে ২০/৩০ জন ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীরা ভাড়াটিয়া আবুল কালামের দোকানের তালা ভেঙ্গে ভাংচুর লুটপাট চালিয়ে দখলে নেয়। ভাড়াটিয়া আবুল কালাম জানান, এতে তার টেইলার্স ও কাপড়ের দোকানের কয়েক লাখ টাকার মালপত্রসহ দোকনঘরটি দখলে নেয় এবং বসতঘর দখলের চেষ্টা করলে কালামের পরিবারের সদস্যরা বাধা দিলে তাদের মারধর করে। আবুল কালামের স্ত্রী জায়েদা কেগম জানান, তার ১০ মাস বয়সী শিশু কন্যা নুসরাতকে কোল থেকে টেনে নিয়ে উঠানের কাঁদা মাটিতে নিক্ষেপ করে। এতে শিশুটি আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে ভয়ে স্তব্দ হয়ে যায়। তারা এমনভাবে দলবল দিয়ে হামলা চালায় আমরা সবাই হতভম্ব হয়ে যাই। তবে অভিযুক্ত আমজাদ ও জামাতা আল-আমিন মারধর ও লুটপাটের অভিযোগ অস্বীকার করে ওই জমি তাদের দাবি করে জানান, স্থানীয় শালিশের মাধ্যমে রায় ও রোয়েদাদ পেয়ে আমরা ঘরে উঠে যাই। এ বিষয়ে রাজাপুর থানার পরিদর্শক (ওসি) শেখ মুনীর উল গিয়াস জানান, অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।