রাজাপুরে শিক্ষক প্রশিক্ষণের ভাতার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

রাজাপুর প্রতিবেদক ॥ রাজাপুরে রিসোর্স সেন্টারের শিক্ষা বিভাগের সহকারী ইন্সট্রাক্টর শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ভাতার লাখ লাখ টাকা আত্মসাত করেছে বলে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। শিক্ষকদের অভিযোগের ভিত্তিতে বরিশাল প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ তদন্ত কমিটি গঠন করলেও সেই তদন্তের মাধ্যমে সুফল না পেয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রনালয়ের অতিরিক্ত সচিব জ্ঞানানন্দ বিশ্বাসের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। গতকাল সকালে উপজেলার দেড় শতাধিক শিক্ষক ওই সচিবের গ্রামের বাড়ি উপজেলার বিশ্বাসবাড়িতে উপস্থিত হয়ে এ লিখিত অভিযোগ প্রদান করেন। এ সময় তিনি অভিযুক্তের সঠিক বিচারের আশ্বাস দেন। ভুক্তভোগী শিক্ষকদের অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪-১৫ অর্থ বছরে ১৭/০২/২০১৫ থেকে ২৩/০৫/২০১৫ তারিখ পর্যন্ত উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা রিসোর্স সেন্টারের ইন্সট্রাক্টর মনির হোসেন শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ভাতার লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন। বেশ কয়েকটি প্রশিক্ষণে ২৫ জন করে শিক্ষকদের জনপ্রতি তিন হাজার ৭৮০ টাকা বরাদ্দ থাকলেও প্রশিক্ষণার্থীদের স্বাক্ষর রেখে তিন হাজার ১০০ টাকা দিয়ে বাকি টাকা আত্মসাৎ করেন তিনি। ওই প্রশিক্ষণে ব্যাগ বাবদ ৫০০ টাকা বরাদ্দ থাকলেও ২০০ টাকা মূল্যের ব্যাগ দিয়ে বাকি টাকা তিনি আত্মসাৎ করেন। প্রশিক্ষণের নাশতার টাকার একটি বড় অংশ তিনি কেটে রাখেন। অংশপ্রহণকারীদের কোর্স ম্যাটেরিয়াল বাবদ প্রত্যেকের নামে বরাদ্দ ৩০ টাকা থেকে চার টাকা মূল্যের একটি কলম দিয়ে বাকি টাকা আত্মসাৎ করেন। সাপোর্ট সার্ভিস ভাতা বাবদ ২০০ টাকা থেকে প্রত্যেকের কাছ থেকে ২০ টাকা করে কেটে রাখা হয়। এ ছাড়া বিজ্ঞানের তিনটি ব্যাচ, শারীরিক শিক্ষার চারটি ব্যাচ, লিডারশিপের তিনটি ব্যাচ, গণিত, বাংলা, ইংরেজি প্রাক প্রাথমিক প্রশিক্ষণে ব্যাপক অনিয়ম করে শিক্ষকদের লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করা হয় ইন্সট্রাক্টর মনির হোসেনের বিরুদ্ধে। এর আগে উপজেলার অর্ধশতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা এ বিষয়ে বরিশাল প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের উপপরিচালকসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিলে শিক্ষা বিভাগের সহকারী ইন্সট্রাক্টরের অভিযোগ তদন্তে পিরোজপুর পিটিআই সহকারী সুপারিনটেনডেন্ট এসএম আলমগীর হোসেনকে প্রধান করে কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রধান এসএম আলমগীর কাছেও ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শিক্ষকরা ব্যাপক অভিযোগ তুলে ধরেন। কিন্তু তারপরেও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা রিসোর্স সেন্টারের ইন্সট্রাক্টর মনির হোসেনের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। শিক্ষক নজরুল ইসলাম চাঁন, হুমায়ূন কবির, সাইফুল সাইলাম, খলিলুর রহমান, শফিকুল ইসলাম, মহসিন উদ্দিনসহ একাধিক ভুক্তভোগী শিক্ষকরা অভিযোগে বলেন, প্রথম থেকেই ওই কর্মকর্তা শিক্ষকদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণের ভাতা থেকে টাকা আত্মসাৎ করে আসছে। কেউ প্রতিবাদ করলে পরবর্তী প্রশিক্ষণ থেকে তার নাম কেটে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হতো। তার দুর্নীতিতে শিক্ষকরা অসহায়। তার দুর্নীতির বিরুদ্ধে এখন সবাই সোচ্চার হয়েছে। আমরা আমাদের টাকা ফেরত দেওয়ার পাশাপাশি ওই কর্মকর্তার বিভাগীয় বিচার দাবি করছি।’ তবে অভিযুক্ত সহকারী ইন্সট্রাক্টর মনির হোসেন নিজেকে নির্দোষ দাবি করে সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘এসব অভিযোগ সত্য নয়। আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।’ এ বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রনালয়ের অতিরিক্ত সচিব জ্ঞানানন্দ বিশ্বাস জানান, শিক্ষকদের লিখিত অভিযোগ পেয়েছি, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে