রাজাপুরে ভরা মৌসুমেও মিলছে না ইলিশ

রাজাপুর প্রতিবেদক ॥ রাজাপুরের বিষখালিসহ জেলার ৩ নদীতে ভরা মৌসুমেও ইলিশের দেখা নেই। জেলেদের জালে ইলিশ ধরা না পড়ায় জেলেদের পরিবারে দেখা দিয়েছে হতাশা। এ উপজেলায় ১ হাজার ৫৪ জন নিবন্ধিত ইলিশ জেলে থাকলেও ভাতা পাচ্ছে মাত্র ২’শ ১৮ জন। মাছ বাজারগুলোতে ইলিশের আমদানি না থাকায় অলস সময় কাটাচ্ছেন মহাজন ও আড়তদাররাও। জানা গেছে, অধিকাংশ জেলেরাই সুগন্ধা, বিষখালী ও হালতা নদীতে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করেন। কিন্তু মাছ ধরার নিষিদ্ধ সময় শেষে জেলেরা দলে দলে নদীতে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা জাল ফেলেও ইলিশের দেখা পাচ্ছে না। বাবুল, বাদশা, জমিরসহ একাধিক জেলেরা জানান, নদীতে ইলিশ মাছ ধরা না পড়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন তারা। দিন-রাত নদীতে জাল ফেলে যে ক’টি মাছ পাওয়া যাচ্ছে তা দিয়ে ইঞ্জিনচালিত নৌকার তেল খরচও উঠছে না। অন্যদিকে জেলেদের দাদন দিয়ে এখন বেকায়দায় পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। মাছ ধরা না পড়ায় জেলেরা মহাজনের দাদনের টাকা পরিশোধ করতে পারছেন না। জেলেরা বিভিন্ন ব্যাংক ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে নৌকা ও জাল কিনে নদীতে নেমেছেন। কিন্তু সারাদিন জাল ফেলেও মাছ না পাওয়ায় তারা নিরাশ হয়ে বাড়ি ফিরছেন। হতাশায় এখন অনেক জেলেই নদীতে যাচ্ছেন না, নদীর তীরে নৌকায় বসে অলস সময় কাটাচ্ছেন। অন্য কোনো আয়ের উৎস না থাকায় বেকার হয়ে পড়েছেন উপজেলার জেলেরা। বেশিরভাগ জেলে আবার ব্যাংক ও এনজিও ঋণের কিস্তির ভয়ে বাড়িতে যাচ্ছেন না। বর্তমানে জেলেরা পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। এদিকে নদীতে যে যৎ সামান্য ইলিশ জেলেদের জালে ধরা পড়ছে তার দাম সাধারণ ক্রেতাদের ধরা ছোঁয়ার বাইরে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সুগন্ধা, বিষখালি ও হালতা নদীর গভীরতা ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাওয়ায় ইলিশের প্রজনন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়। এর ফলে নদীতে ভরা মৌসুমে ইলিশ মাছের আকাল দেখা দিয়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, মৌসুমের দু’মাস অতিবাহিত হলেও নদীতে ইলিশ ধরা না পড়ায় জেলেসহ সবার মাঝে হতাশা বিরাজ করছে। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মুক্তা রাণী সরকার জানান, এ উপজেলায় ১ হাজার ৫৪ জন নিবন্ধিত ইলিশ জেলে রয়েছে। এদের মধ্যে ২’শ ১৮ জন ভাতা পাচ্ছে। তিনি জানান, নদীর গভীরতা কমে যাওয়া এবং প্রজনন শেষে ইলিশ ও জাটকা সাগরে চলে যাওয়ায় জেলেদের জালে ইলিশ কম ধরা পড়ছে।