রাজাপুরে গুজব ছড়িয়ে ব্যবসায়ীদের হয়রানির অভিযোগ

রাজাপুর প্রতিবেদক॥ রাজাপুরের গোশত ব্যবসায়ীদের নামে মিথ্যা গুজব ও বিভ্রান্তি ছড়িয়ে হয়রানির অভিযোগ পাওয়া গেছে। ব্যবসায়ীক দ্বন্দ্ব এবং বিভিন্ন সময় ফাও গোশত না দেয়া ও বাকি বিক্রি না করায় স্থানীয় একটি কুচক্রি মহল মিথ্যা গুজব ও বিভ্রান্তি ছড়িয়ে গত কয়েকদিন ধরে বিভিন্নভাবে হয়রানি করছে বলে অভিযোগ করেন উপজেলা সদরের ব্যবসায়ী মনির হোসেন ও কবির হোসেন। এদিকে ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধের এসব হয়রানি বন্ধ না হলে লাগাতর ধর্মঘটের ডাক দিবে বলেও হুমিক দিয়েছেন উপজলোর ব্যবসায়ীরা। এ সম্পর্কে মনির হোসেন ও কবির হোসেন বলেন, ভান্ডারিয়া বাজার থেকে সাতক্ষীরার ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কয়েকটি গরু ক্রয় করে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় টোম্পো ট্রলিতে করে রাজাপুরে আনা হয়। আনার সময় গরুগুলো বৃষ্টিতে ভিজে যায় এবং ট্রাকের অন্য গরুর পায়ের আঘাতে একটি গুরু দুর্ভল হয়ে পড়ে। গরুগুলো বাগড়ি বাজারে নিয়ে এলে বাজার ব্যবস্থাপনা পরিষদ ও ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দের উপস্থিতি ও তাদের পরামর্শে সুস্থ্য ও জীবিত একটি গরু জবাই করি এবং সদরের বাজারে নিয়ে ফ্রিজিং করে রাখা হয়। কিন্তু স্থানীয় ব্যবসায়ীক প্রতিপক্ষ ও একটি কুচক্রি মহল, যারা গরু জবাইয়ের সময়ে বাগড়ি বাজারে ছিলই না তারা প্রত্যক্ষদর্শী দাবি করে মিথ্যা গুজব ও বিভ্রান্তি ছড়িয়ে যুগান্তরসহ কয়েকটি জাতীয় ও আঞ্চলিক পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ করিয়ে আমাদের ব্যবসায়ীক সুনাম ক্ষুন্ন এবং ব্যবসায়ীদের হয়রানি করছে। এ বিষয়ে বাগড়ি বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ও বাজার ব্যবস্থাপনা পরিষদের সেক্রেটারি মো. জাকির হোসেন সিকদার বলেন, বাগড়ি বাজারের নিয়মিত ব্যবসায়ী মনির ও কবির গরু নিয়ে সন্ধ্যারাতে আসলে তার মধ্যে একটি গরু দুর্ভল মনে হলে আমিসহ ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দরা ওই গরুটিকে জবাই দেওয়ার পরামর্শ নেই। তখন ব্যবসায়ীরা ওই সুস্থ্য ও জীবিত গরুটিকে জবাই দেয়। জবাইয়ের সময় আমিসহ ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দর এবং বাগড়ি বাজারের বহু লোক উপস্থিত ছিলো। লোকজনে ওই গরুর কলিজা ও মাথা ওখান থেকেই ক্রয় করে নিয়ে রান্না করে খেয়েছে। উপজেলা সদরের বাজার কমিটির সেক্রেটারি মো. ইকবাল হোসেন বলেন, ওই জীবিত গরুর গোশত রাতে বাজারে এনে পরের দিন বিক্রির জন্য ফ্রিজিং করে রাখছিলো ব্যবসায়ীরা। এসময় বাজারের কিছু উচ্ছৃৃঙ্খল ও বখাটে ছেলেরা মিথ্যা গুজব ও বিভ্রান্তি ছড়িয়ে শান্ত বাজারের পরিস্থিতি ঘোলাটে করার জন্য পুলিশ খবর দিয়ে অযথা ব্যবসায়ীদের হয়রানি এবং বাজার কমিটির কিছু দ্বন্দ্বের প্রতিপক্ষেরাও বাজারে সুনাম ক্ষুন্নের জন্য ইন্দ্রন দিয়ে বাজারের সাধারন ব্যবসায়ী, ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ এবং ওই কুচক্রি মহলটি পুলিশ-প্রশাসনকেও হয়রানি করছে। এ বিষয়ে রাজাপুর থানার ওসি মাসুদুজ্জামান বলেন, প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে এটি স্থানীয় ব্যবসায়ীক দ্বন্দ্ব। তার পরেও গোশতের নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠিয়ে পরীক্ষার করে দেখা হচ্ছে আসল ঘটনা কি।