রহস্যজনকভাবে যুবলীগ কর্মী নিখোঁজ

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ নগরী থেকে এক যুবলীগ কর্মী রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়েছে। গত রোববার রাত থেকে নগরীর নিউ সাকুলার রোড এলাকার বাসিন্দা যুবলীগ কর্মি মঞ্জুর মোর্শেদ মুরাদের হদিস পাচ্ছে না তার পরিবার ও ঘনিষ্টজনরা। এমনকি তার ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বর বন্ধ থাকায় থেকে তার চাচা মো. হুমায়ুন কবির কোতয়ালী মডেল থানায় একটি সাধারন ডায়রী করেছেন।
নিখোঁজ মুরাদ নিউ সাকুলার রোড পেস্কার বাড়ি বেলায়েত মঞ্জিলের ভাড়াটিয়া ও নবগ্রাম রোড আস্তাকাঠি এলাকার নাসিরউদ্দিন মাষ্টারের ছেলে।
পরিবার দাবি করেছে, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও ব্যবসায়ীক বিষয় নিয়ে মুরাদের সাথে কয়েকজনের বিরোধ রয়েছে। বিরোধের জের ধরে তাকে পরিকল্পিতভাবে অপহরন করা হয়েছে।
তবে কোতয়ালী মডেল থানার ওসি শাখাওয়াত হোসেন জানান, জিডির তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মজিবুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও স্থানীয়দের কাছ থেকে স্বাক্ষ্য নিয়েছে। সকলে তাকে গতকাল সোমবার খুব ভোরে দেখেছে বলে জানিয়েছে। তার মোবাইল ফোনের কল লিষ্ট পাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে বলা যাবে।
ওসি আরো জানান, মুরাদের কাছে বেশ কয়েকজন টাকা পাবে। এ নিয়ে দ্বন্ধ রয়েছে। প্রকৃত কি রহস্য রয়েছে, তা উদ্ধারে চেষ্ঠা করছে পুলিশ বলে জানিয়েছেন তিনি।
পরিবারের সদস্যরা জানান, মঞ্জুর মোর্শেদ মুরাদের ছোট ভাই’র চিকিৎসা জনিত কারনে পরিবারের সবাই ঢাকায় রয়েছে। এজন্য কিছুদিন ধরে মুরাদ ভাড়াটিয়া বাসায় একা থাকতো। শনিবার রাতে মুরাদের সাথে তাদের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ হয়। রোববার সকালে বাসায় তালা দিয়ে দিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে যায়। বের হবার সময় প্রতিবেশিদের সাথে কুশল বিনিময়ও করেছে। এরপর থেকে তার কোন সন্ধান পাচ্ছে না পরিবারের স্বজনরা।
ঘটনাটি সন্দেহজনক এবং পরিকল্পিত দাবী করে পরিবারের সদস্য অভিযোগ করেন, ঘটনার আগের রাতে ১০ অক্টোবর রাতে অজ্ঞাত পরিচয়ে দুই ব্যক্তি নিউ সাকুলার রোড এলাকায় মুরাদের নাম পরিচয় সম্পর্কে খোজ নেয়। এসময় তারা মুরাদ প্রশাসনের লোক কিনা সে বিষয়েও জিজ্ঞাসাবাদ করে। মুরাদ রাতেই বিষয়টি তার আত্মিয় স্বজন এবং কাছের বন্ধুদের মোবাইল ফোনের মাধ্যমে অবহিত করেন।
এছাড়া মুরাদের সাথে দলীয় কোন্দলের পাশাপাশি ব্যবসায়ীক এবং অর্থনৈতিক বিরোধ রয়েছে। তার কাছে নগরীর চিহ্নিত ফেন্সি ব্যবসায়ী নূরে আলম টাকা পায়। এ টাকা আদায়ে কয়েক মাস পূর্বে সদ্য আওয়ামী লীগে যোগ দেয়া শাহজাহান মোস্তানের ছেলে মিরাজ ফেন্সি ব্যবসায়ী নূরে আলমের পক্ষ নিয়ে মুরাদকে হুমকি দেয়। এ ঘটনার সূত্র ধরে মুরাদ নিখোঁজ হতে পারে বলেও ধারান পরিবারের সদস্যদের। তাছাড়া নিউ সাকুলার রোড এলাকায় একটি ঠিকাদারী কাজ নিয়েও বিরোধ ছিলো বলেও উল্লেখ করেন তারা।