রমজানে কৃত্রিম সংকট ও ভেজাল রোধে জেলা প্রশাসনের নানা পদক্ষেপ গ্রহন

সিদ্দিকুর রহমান ॥ রমজানে নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য দ্রব্যের সংকট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত তদারকিসহ ভ্রাম্যমান আদালত কার্যক্রম পরিচালনা গ্রহণ করেছে জেলা প্রশাসন। এছাড়াও রমজানে মানসম্পন্ন পন্য বাজারজাত করন এবং খাদ্য, ফলমূল এবং শাক-সবজিতে ভেজাল ও রাসায়নিক দ্রব্য মেশানো বন্ধ করার জন্য সকল ব্যবসায়ীদের প্রতি আহবান জানানো হয়েছে।
জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, রমজান মাসকে সামনে রেখে এক শ্রেনীর কালো বাজারী ও অসাধু ব্যবসায়ী খাদ্য দ্রব্যের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি অধিক মুনাফা অর্জনের চেষ্টা করে। এতে সীমিত আয়ের মানুষদের উপর প্রভাব পড়ে।
তাই কালো বাজারী অসাধু ব্যবসায়ীরা যাতে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করতে না পারে সেই জন্য জেলার সকল গুরুত্বপূর্ন বাজারে সর্বদা ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করবে প্রশাসন। এছাড়াও নিত্য প্রয়োজনীয় পন্য বিক্রয়ে মজুদ অটুট রাখে তা নিরবিচ্ছিন্নভাবে সরবরাহ করে বাজার স্থীতিশীল রাখার জন্য জেলা প্রশাসনের বাজার মনিটরিং কমিটি কঠোর অবস্থানে থাকবে। রমজানে যত্রতত্র ইফতারির দোকান গড়ে উঠা এবং পঁচা বাসী খাবার বিক্রি বন্ধে কাজ করবে এই কমিটি। টিসিবির মাধ্যমে সরকার নির্ধারিত মূল্যে পন্য বিক্রি নিয়মিত তদারকি করবে কমিটি। পুরো রমজানে নগরীতে ট্রাকে ঘুরে ঘুরে চিনি, ছোলা বুট, সয়াবিন তেল, চিড়া ও ডাল বিক্রি করবে টিসিবির নির্ধারিত ডিলাররা।
রিক্সা চালক মধু মিয়া জানান, দোকানের চেয়ে ট্রাকের পন্যর দাম কম। কিন্তু পন্য পরিমাপের ডিজিটাল পদ্ধতি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি।
তবে মুদী ব্যবসায়ীরা বলেন, ওজন পরিমাপের ব্যাটারীর বিদ্যুতে চলা ডিজিটাল যন্ত্রে ত্রুটি হলে কম বেশি হয়। এই সমস্যা থেকে পরিত্রানের জন্য ডিজিটাল পরিমাপ যন্ত্রের সাথে সাথে দাড়িপাল্লা রাখার পরামর্শ দিয়েছেন মুদী ব্যবসায়ী।
বাজার ব্যবস্থাপনা মনিটরিং বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোঃ সেলিমুজ্জামান জানান, পূর্বের বছরের মতো এবারও বাজার নিয়ন্ত্রনে কাজ করা হবে। ব্যবসায়ীরা যাতে কোন ধরনের পন্য অতিরিক্ত মজুদ রেখে কৃত্রিম সংকটে না ফেলতে পারে সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখা হচ্ছে। বর্তমান বাজেটের ফলে বাজারের কোন পন্য দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধিতে প্রভাব পড়বে না বলে আশা ব্যক্ত করেন।
বাজার মনিটরিং সার্বিক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট কাজী হোসনে আরা জানান, সকল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটদের রমজানকে ঘিরে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনার নোটিশ দেয়া হয়েছে। যাতে রমজানে যত্রতত্র স্থানে ইফতারি বিক্রির দোকান না গড়ে উঠে এবং পচাবাসী খাবার বিক্রি না করতে পারে সেজন্য কঠোর হওয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এছাড়াও খাদ্য দ্রব্যের ভেজাল, কৃত্রিম রং মিশ্রিত করা না হয় এবং নোংরা পরিবেশে সেমাই, গুড় সহ নানা দ্রব্য সামগ্রী তৈরি করতে না পরে সেদিক কঠোর নজরদারি রাখার নির্দেশনা রয়েছে। নিয়মিত বাজার মনিটরিং কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হবে। বাজার মনিটরিংকালে প্রচলিত আইন, আদেশ বিধি বিধান অমান্যকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত অব্যাহত থাকবে।