রমজানকে পূজি করে বেপরোয়া কাচাবাজার

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ আজ থেকে শুরু হচ্ছে রমজান। এই রমজানকে পূঁজি করে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে কাচাবাজারের সিন্ডিকেটরা। আর সিন্ডিকেটের কারসাজিতে রমজানের একদিন আগেই কাচাবাজারে দ্রব্য মূল্য অনেকাংশে বেড়ে গেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সপ্তাহের শেষ দিন নগরীর বেশ কয়েকটি বাজার পরিদর্শন করে সিন্ডিকেটের তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে। তবে টিসিবির ভোজ্য তেল, চিনি, ডাল, বুট সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করায় এসবের মূল্য কিছুটা স্থিতিশীল রয়েছে।
এদিকে পবিত্র মাহে রমজানকে পুঁজি করে বাজারের অবৈধ সিন্ডিকেট ঠেকানোর পাশাপাশি দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখতে আগামী ২/১ দিনের মধ্যে নামছে মনিটরিং টিম। জেলা প্রশাসনের নির্বাহী হাকিম এর নেতৃত্বে প্রতিটি বাজারে মনিটরিং এর পাশাপাশি ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হবে। জেলা প্রশাসনের প্রশাসনিক বিভাগের কর্মকর্তারা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে পবিত্র মাহে রমজানের একদিন পূর্বে গতকাল বৃহস্পতিবার নগরীর নতুন বাজার, পোর্ট রোড, সাগরদী বাজার, সরকারী সৈয়দ হাতেম আলী কলেজ চৌমাথা বাজার ও বাংলাবাজার সহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখাগেছে, অধিকাংশ নিত্য প্রয়োজনীয় পন্যের খুচরা মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে এর কারন হিসেবে পাইকার ও জাতীয় বাজেটের প্রভাবের দোহাই দিচ্ছেন খুচরা বিক্রেতারা।
বর্ধিত নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য মূল্যের মধ্যে রয়েছে ছোলা বুট, মুড়ি, পিয়াজ, আদা, ধনেপাতা, আলু, ভেশন, মশুর ডাল, বেগুন ও পোটল, শশা, কাকরোল, কাচা মরিচ, কড়লা, মিষ্টি কুমারের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব দ্রব্যের প্রতিটি আইটেমে প্রকার ভেদে সর্ব নি¤œ ৪ টাকা থেকে ৫০ টাকা করে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ৩/ ৪ দিন পূর্বেও এসব পন্য-দ্রব্যের মূল্য কিছুটা সহনশীল ছিলো। তবে উল্লেখিত নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের মধ্যে শুধু মাত্র ছোলা বুট, মশুর ডাল, সয়াবিন তেল ও চিনি সরকার নির্ধারিত মূল্যে টিসিবি বিক্রি করায় এর মূল্য বাজারে কিছুটা সহনশীল অবস্থায় রয়েছে।
এদিকে শুধু মাত্র তরি-তড়কারিতেই নয়, মূল্য বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে মাছ, মাংস ও ডিমের বাজারেও। প্রকার ভেদে প্রতিটি পন্যের মূল্য অনেকটা আকাশ চুম্বি হয়ে গেছে। তরি-তরকারির থেকেও কয়েক গুন বেশি মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে মাছ, মাংস ও ডিমের বাজার।
তথ্য খুঁজতে গিয়ে জানাগেছে, হাসের ডিমের মূল্য এখন পর্যন্ত না বাড়লেও দেশি মুরগীর ডিমের মূল্য হালিতে বেড়েছে ৬টাকা। এমনকি বেড়েছে দেশি ও বিদেশী মুরগীর দামও।
খাসির মাংস ৫শত, গরুর ৩৫০ থেকে ৩৬০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। যা গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে অনেক বেশি বেড়েছে। প্রতি ১ কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি করা হচ্ছে ১৮০০ টাকা, ১ কেজির নীচে ১৫০০ এবং গ্রেড সাইজের ইলিশের কেজি বিক্রি করা হচ্ছে ২২ শত টাকা দড়ে। রুই, কাতল, বোয়াল, মৃগেল এবং দলীয় মাছের মূল্যও ধরা-ছোয়ার বাইরে।