যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী নির্যাতনে ডিবি’র এএসআইর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারী পরোয়ানা

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ স্ত্রীর দায়েরকৃত মামলায় বিএমপি’র গোয়েন্দা শাখায় কর্মরত এএসআই আমিনুলের বিরুদ্ধে গতকাল মঙ্গলবার গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করেছে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালত। যৌতুকের দাবীতে স্ত্রীকে নির্যাতন করে তাড়িয়ে দেয়ায় বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) গোয়েন্দা শাখায় কর্মরত এএসআই আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে গত মাসে স্ত্রী তানিয়া হক নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতে মামলা দায়ের করেন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালেরর বিচারক মামলাটি মেট্টোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তদন্তে গৃহবধূ তানিয়ার অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় গোয়েন্দা শাখায় কর্মরত এএসআই আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।
মামলার বাদী নির্যাতিতা গৃহবধূ তানিয়া হক মামলার এজাহারে অভিযোগ করেন ২০০৮ সালে পারিবারিক সিদ্ধান্তে আমিনুলের সাথে তার বিয়ে হয়। বিয়ের সময় ১০ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ দু’ লাখ টাকা আমিনুলকে দেয়া হয়। বিয়ের পর থেকেই সে যৌতুকের জন্য তানিয়াকে নির্যাতন করতে থাকে। আমিনুলের নির্যাতন থেকে রেহাই পেতে পিত্রালয় থেকে বিভিন্ন সময় ৩ লাখ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত যৌতুক এনে স্বামীর হাতে তুলে দিয়েছেন। তানিয়ার গর্ভে সাদিয়া পারভীন নামে এক শিশু কন্যা জন্ম নিলে অনেক নির্যাতন সহ্য করেই সন্তানের মায়ায় স্বামীর সংসারে থেকে যান। কিন্ত যতই দিন যাচ্ছে নির্যাতনের মাত্রা ততই বাড়িয়ে দিচ্ছে যৌতুক লোভী পুলিশ স্বামী আমিনুল ইসলাম। যৌতুকের দাবীতে স্বামীর নির্দয় নির্যাতনের কথা বিএমপি’র উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর) সোয়েব আহমেদ ও সিটি এসবি’র ওসি রফিকুল ইসলাম সহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছিলেন নির্যাতিতা গৃহবধূ তানিয়া হক। উচ্চ কর্মকর্তারা তার স্বামী এএসআই আমিনুল ইসলামকে বুঝিয়ে শুনিয়ে সুখের সংসার করার উপদেশ দিলেও সে উল্টো কাজটিই করতো। বরং উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে নির্যাতনের কথা বলায় তানিয়ার উপর নির্যাতনের মাত্রা আরো কয়েক গুন বেড়ে যায়। আত্মীয় স্বজন থেকে শুরু করে নানান পর্যায়ের লোকের স্মরনাপন্ন হয়েও তানিয়া কোন সুফল পাননি। বরং দিনে দিনে স্বামী আমিনুল নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। গত ১ ফেব্রুয়ারী নতুন করে ২ লাখ টাকা যৌতুক এনে দেয়ার জন্য তানিয়াকে মারধর করে তার অবুঝ শিশু কন্যা সহ বাসা থেকে বের করে দেয় অমিনুল। নিরূপায় তানিয়া সেই থেকে পিত্রালয় বসবাস করার পাশাপাশি স্বামীর সংসারে ফেরার জন্য নানান মহলে ধর্ণা দিয়েছেন। আমিনুল যৌতুক ছাড়া তানিয়াকে স্ত্রী হিসেবে গ্রহনে অস্বীকৃতি জানায়। শেষ পর্যন্ত সে আদালতের স্মরণাপন্ন হয়েছেন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালত অভিযোগের সত্যতা পেয়ে বিএমপি’র গোয়েন্দা শাখায় কর্মরত এএসআই আমিনুলের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করে।
এএসআই আমিনুল ইসলামের সহকর্মীদের মাধ্যমে জানা গেছে – আমিনুল পরকিয়া প্রেমে আসক্ত হওয়ার কারনে স্ত্রীকে বরদাশত করতে না পেরেই এমন নির্যাতন করেছেন। তানিয়া সরে গেলেই সে চুটিয়ে প্রেম করতে পারে। আমিনুলের পরকিয়া প্রেমের পথে কাটা হয়ে দাড়িয়েছিল তানিয়া। তাই তার উপর প্রায়ই নির্দয় নির্যাতন চালাতো এএসআই আমিনুল। মাঝে মধ্যে পুলিশী ক্ষমতার ভয় দেখিয়ে বলতো তানিয়ার বাপ-মা চৌদ্দগোষ্টিও কিছু করতে পারবে না আমিনুলকে। হতভাগ্য তানিয়া এখন তার ৫ বছরের শিশু সন্তান সাদিয়া কে নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়ছেন। না পারছেন নতুন সংসার গড়তে না পারছেন নিজের গর্ভের সন্তানকে দূরে ঠেলে দিতে। আবার স্বামীর সংসারও যেন তার জন্য একটি টর্চার সেলে রূপ নিয়েছে।