যৌতুকের জন্য নির্যাতনের শিকার গৃহবধূর আত্মহত্যার চেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবদক॥ নগরীতে যৌতুকের দাবীতে নির্যাতনের শিকার গৃহবধূর আত্মহত্যার চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে আত্মহত্যার চেষ্টাকারী গৃহবধুর নাম মোর্শেদা আক্তার(রুবি)। সে কাউনিয়া শেরেবাংলা নগর হাউজিং এলাকার সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট মোতাহার গাজীর মেয়ে। রুবি দুই সন্তানের মা। বর্তমানে সে শেরে বাংলা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন রয়েছে। নির্যাতনকারী স্বামীর নাম মোঃ মনির হাওলাদার। সে একই এলাকার আব্দুর রাজ্জাক হাওলাদার এর ছেলে। শেবাচিমে চিকিৎসাধীন মোর্শেদা আক্তার অভিযোগ করে জানায়, ২০০১ সালের পহেলা জানুয়ারী ভালবাসার টানে ঘর ছেড়ে মনিরের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। বরিশাল ছেড়ে পাড়ি জমান রাজধানীর উদ্দেশ্যে। মিরপুর এলাকায় বাসাভাড়া করে থাকতেন তারা। তবে কিছুদিনের মধ্যেই প্রকাশ পায় মনিরের আসল চেহারা। প্রথমে যৌতুকের দাবী অতঃপর সেই দাবীতে নির্যাতন শুরু করে মনির। পরিবারে কারো সাথে যোগাযোগ না থাকায় রুবি তখন দারস্থ হয় তার এক আত্মীয়ের যিনি ঢাকায় বসবাস করতেন। প্রতিনিয়তই টাকার দাবীতে নির্যাতন হত তার ওপর। নির্যাতন থেকে মুক্তি পেতে অতঃপর পরিবারের দারস্থ হয়ে ৩ লক্ষাধিক টাকা বিভিন্ন সময়ে মনিরকে নিয়ে দেয় রুবি, তবে এতেও তার নির্যাতন থামেনি উল্টো বেড়েছে। নির্যাতনের মাত্রা চরমে পৌছায় যখন সে অন্তঃসত্ত্বা হয়। এ সময় নির্যাতন চলে মা ও সন্তান উভয়ের ওপর। কখনোও হাত, কখোনো লাঠি আবার কখনও লোহার রড দিয়ে মারধর করত মনির। এজন্য বেশ কয়েকবার তাকে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তিও থাকতে হয়েছে। এই নির্যাতন মনির তার পরিবারের পরামর্শেই করত জানায় রুবি। রুবির নেয়া যৌতুকের টাকায় কেনা সিএনজি রিক্সায়ই মনিরের আয়ের উৎস্য ছিল। গত ৮ মাস পূর্বে রুবি পুনরায় অন্তঃসত্ত্বা হয় তখন মনির আবারো চড়াও হয়। তুচ্ছ কারনে তাকে বেধরক মারধর করে যৌতুক দাবী করে। এ ঘটনায় রুবি ৮ আগস্ট ২০১৪ তারিখে মিরপুর থানায় সাধারন ডায়েরী করে। এরপর রুবি তার পিত্রালয়ে ফিরে আসে। মনির সেখানে এসে ভাল হয়ে যাওয়ার কথা বলে রুবিকে পুনরায় তার বরিশালের বাড়িতে নেয়। সেখানে শুরু হয় নতুন মাত্রায় নির্যাতন তবে দাবী পুরোনো। এই নির্যাতনে যোগ দেয় মনিরের বোন তন্নি, শিমু, শ্বশুড় আঃ রাজ্জাক এবং শাশুড়ি বকুল বেগম। বাধা দেয়াতে পরিবার এর সদস্যদের ওপরে চড়াও হয় মনির সহ এলাকার প্রভাবশালী সন্ত্রাসীরা। তাদের মারধর, হামলা, প্রাণনাশের হুমকিও দিয়েছে বেশ কয়েকবার বলেন রুবি। তাকে ঘর থেকে তাড়িয়ে দিয়ে সন্তানদের আটকে রেখেছে বলে অভিযোগ করে সে। অতঃপর গত বৃহস্পতিবার তার স্বামীর বাড়িতেই গলায় ফাস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন তিনি। রুবির পরিবারবর্গ জানায, রুবি আত্মহত্যার চেষ্টা করতে বাধ্য হয়েছে। তাকে বাধ্য করেছে শ্বশুড়বাড়ীর লোকজন। বৃহস্পতিবার বিকেলে আত্মহত্যার চেষ্টা করা রুবিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়ার সময় বাধা দেয় তার শ্বশুড়বাড়ির লোকজন। একইসাথে চালায় হামলা। অতঃপর কাউনিয়া থানা পুলিশে খবর দিলে পুলিশ এসে উদ্ধার করে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বর্তমানে প্রাননাশের হুমকি দেয়া সহ বিভিন্ন ধরনের ঝামেলা করছে মনির, পিতা আব্দুর রাজ্জক, চাচা মতিন সহ এলাকার প্রভাবশালী সন্ত্রাসীরা। এই ঘটনায় নারী নির্যাতনের মামলা দায়ের করা হয়েছে।