যৌতুকের জন্য ঝলসে গেছে নববধূ

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ অটোরিক্সা কিনতে যৌতুক না দেয়ায় সদ্য বিবাহীত নাজমা আক্তার (২৩) নামের এক গৃহবধূকে গরম চা নিক্ষেপ করে মুখমন্ডল ও ঊরু ঝলসে দিয়েছে তার স্বামী। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে বানারীপাড়া উপজেলার মাছরং গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। গরম চায়ে ঝলসে যাওয়া গৃহবধূকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মহিলা বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। একই সাথে বারবার এ নির্যাতনের ঘটনায় বানারীপাড়া থানায় মৌখিক অভিযোগ দেয়া ছাড়াও মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিয়েছেন ঐ গৃহবধূ।
জানাগেছে, বানারীপাড়া উপজেলার বাংলাবাজার গ্রামের মৃত চান মিয়া সরদারের মেয়ে নাজমা আক্তার। তিনি দীর্ঘ বছর প্রবাসে থাকার পর দেশে ফিরে আসে। পরবর্তীতে গত ৮ মাস পূর্বে পারিবারিক প্রস্তাবের মাধ্যমে একই উপজেলার মাছরং গ্রামের আবু মৃধার ছেলে আল আমিন এর সাথে বিয়ে হয়। বিয়ের সময় বিভিন্ন মালামালের পাশাপাশি যৌতুক হিসেবে ২০ হাজার টাকা দেয়া হয় আল আমিন মৃধাকে।
এদিকে বিয়ের মাস খানে যেতে না যেতেই একটি অটোরিক্সা কেনার বায়না ধরে যৌতুক লোভি স্বামী আল আমিন। এজন্য স্ত্রীকে তার বাবার বাড়ি থেকে অটোরিক্সা কেনার টাকা এনে দিতে বলে। এতে অসম্মতি প্রকাশ করলে আল আমিন, তার বাবা আবু মৃধা এবং মা মিনারা বেগম গৃহবধু নাজমার উপর অমানষিক নির্যাতন শুরু করে। সময় যতই বাড়ে তার উপরে শারীরিক এবং মানষিক নির্যাতনের ষ্ট্রিম রোলার আরো বেড়ে যায়।
নাজমা জানান, এমন অবস্থায় গত ২ মাস পূর্বে অটোরিক্সা কেনার টাকা না পেয়ে গৃহবধুর মুখমন্ডলে গুরো মরিচ মেখে দেয়। এর পরেও খ্যান্ত হয়নি যৌতুক লোভি পাষন্ড স্বামী এবং শ্বশুর-শাশুড়ী। গতকাল বৃহস্পতিবার পূনরায় অটোরিক্সা কেনার জন্য স্ত্রীকে বাবার বাড়ি থেকে টাকা এনে দিতে বলে। তখন নাজমা তার এবং বাবা মায়ের কাছে টাকা নেই বলে জানায়। এতে ক্ষিপ্ত যৌতুক লোভি পাষন্ড স্বামী আল আমিন চুলায় থাকা গরম পাতিল ফুটন্ত চা সহ নাজমার মুখমন্ডলে নিক্ষেপ করে। এতে তার শরীর এবং ঊড়– সহ পায়ের কিছু অংশ গরম পানিতে ঝলসে যায়।
এদিকে ঘটনার পর গৃহবধূকে চিকিৎসা না করিয়ে ঘরের মধ্যে আটকে রাখে। খবর পেয়ে বোন লিপু আক্তার তাকে তার স্বামীর বাড়ি থেকে উদ্ধারের পর শেবাচিম হাসপাতালের বার্ণ ইউনিটে ভর্তি করে দেয়। একই সাথে বিষয়টি থানা পুলিশকে অবহিত করেন তিনি।
বার্ণ ইউনিটের দায়িত্বরত চিকিৎসক জানান, গরম পানিতে নাজমার মুখমন্ডল এবং ঊড়– সহ পায়ের অংশে প্রায় ২০ ভাগ ঝলসে গেছে। তবে ৭২ ঘন্টা না যাওয়া পর্যন্ত শারীরিক অবস্থা সম্পর্ক কিছু বলা সম্ভব নয়।
গৃহবধু নাজমা জানান, তিনি বরবর এই নির্যাতনের বিচার চান। এ জন্য তিনি স্বামী এবং শ্বশুর-শাশুড়ির বিরুদ্ধে মামলা করবেন বলেও জানিয়েছেন।