যে কোন মূহুর্তে বন্ধ হয়ে যেতে পারে মেহেন্দিগঞ্জ স্বাস্থ্য কেন্দ্র

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ যে কোন মুহুর্তে বন্ধ হয়ে যেতে মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি। ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের হাতে চিকিৎসক মারধর ও হাসপাতাল ভাংচুরের ঘটনার বিচার না করায় এ শংকা দেখা দিয়েছে। ফলে বিষয়টি নিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্তা ব্যক্তিদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে।
জানাগেছে, গত ১৩ সেপ্টেম্বর মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নাসির হোসেন নামের এক মুমূর্ষু রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা আবুল কালাম ও রোগীর দালাল হিসেবে পরিচিত বাহাউদ্দিনসহ ১০/১২জন কর্তব্যরত চিকিৎসক খালিদ মাহমুদকে লাঞ্ছিত ও মারধর করে। একপর্যায় তারা হাসপাতালের আসবাবপত্রও ভাংচুর করে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। এমনকি সংশি¬¬ষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সামনেই স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা আবুল কালামসহ তার সহযোগীরা এ ভাংচুরের ঘটনা ঘটায় বলে চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে দাবী করা হয়েছে। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে ১৫ সেপ্টেম্বর নির্যাতনের শিকার চিকিৎসক খালিদ মাহমুদ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। মামলায় স্বেচ্ছাসেবক লীগর নেতা আবুল কালাম ও রোগীর দালাল নামে পরিচিত বাহাউদ্দিনসহ ১০/১২জনকে অজ্ঞাতনামা আসামী করা হয়। কিন্তু রহস্যজনক কারনে মামলা দায়েরের পর থেকে এ পর্যন্ত আসামীদেরকে আটক করেনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উজ্জ্বল কুমার দে। গত ১৬দিনেও ওই ঘটনায় একজন আসামীও আটক না হওয়ায় হতাশ চিকিৎসক কর্মকর্তারা। স্থানীয় সংসদ সদস্যর লোক হওয়ায় আসামীদের গ্রেফতার এবং ঘটনার বিচার হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেছেন একাধিক চিকিৎসক। তার মধ্যে গতকাল এমপি পঙ্কজ দেবনাথ এর কাছে চিকিৎসকরা তাদের নিরাপত্তাহীতার প্রশ্ন তুললে উপস্থিত উপজেলা ভাইসচেয়ারম্যান খোরশেদ আলম ভুলু এমবিবিএস ডাক্তাররা না থাকলেও চিকিৎসক (পরিবার পরিকল্পনা) দিয়ে এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি চলবে বলে উসকানি দেয়। যার ফলে চিকিৎসকদের মধ্যে আরো চাপা ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পাশাপাশি পূর্বের ঘটনায় এখন পর্যন্ত হামলাকারীদের বিচার না হওয়ায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন সেখানকার চিকিৎসকরা। সৃষ্ট অপ্রীতিকর ঘটনার সুষ্ঠু বিচার না হলে কর্মবিরতির ডাক দেয়া হবে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। প্রয়োজন বোধে বিচারের দাবীতে তারা হাসপাতালটি বন্ধ করে দেয়ার হুমকিও দিয়েছেন। তবে বিষয়টি সমাধানে ১৬ দিন পর সংসদ সদস্য পংকজ দেবনাথ ৫সদস্যর একটি তদন্ত টিম গঠন করে দিয়েছেন।
কর্মকর্তা জানান, সম্প্রতি স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোঃ নাসিম বরিশালে আসলে মেহেন্দিগঞ্জে চিকিৎসক নেই বলে সংশি¬¬ষ্ট আসনের সংসদ সদস্য পংকজ দেবনাথ দাবী করেন। এরই প্রেক্ষিতে সদ্ব্য ৩৩তম বিসিএস’র মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত বেশ কয়েকজন চিকিৎসককে ওই উপজেলায় নিয়োগ করা হয়। কিন্তু ওই সংসদ সদস্যের কথিত লোকজনই সেই নিয়োগপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের উপর হামলা চালানোর বিষয়টি দুঃখজনক। তিনি আরো বলেন, প্রত্যন্ত এলাকা বলে মেহেন্দিগঞ্জে চিকিৎসকরা থাকতে চান না। এরপর আবার চিকিৎসকের উপর ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের হামলার ঘটনা ঘটলে সেখানে আগামীতে কোন চিকিৎসক খুঁজে পাওয়া যাবে না। তাই দ্রুত বিষয়টি সুরাহার দাবী জানান মেহেন্দীগঞ্জ স্বাস্থ্য কেন্দ্রের চিকিৎসক ও কর্মকর্তারা।