যে কারনে নিষ্ক্রিয় বরিশাল বিএনপি

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ টানা অবরোধে বলতে গেলে পুরো ঝিমিয়ে পড়েছে বরিশাল বিএনপি। দেশের অন্যান্য জেলা ও মহানগরে কম বেশি অবরোধের পক্ষে মিছিল সমাবেশ থাকলেও দক্ষিনাঞ্চলে কোন ধরনের কর্মসূচি নেই। পুরো মাঠই ফাঁকা। অধিকাংশ নেতারা রয়েছে আত্মগোপনে। যারা প্রকাশ্যে আছেন তারা রাগে ক্ষোভে মাঠে নামার চেষ্টা করছেন না। দলে ত্যাগের বিবেচনায় যথাযথ মূল্যায়ন না পাওয়ার কারনে অনেক নেতাকর্মীই মাঠে নামতে চাইছেন না। তারা বলছেন ক্ষমতামলে যারা দল থেকে সুযোগ সুবিধা নিয়েছেন এখন তারাই মাঠ চাঙ্গা রাখুক। মূলত পাওয়া না পাওয়ার হিসেব মিলাতে গিয়ে ফলাফল শূন্য হওয়ায় এখানকার আন্দোলনের মাঠ একেবারে শূন্য হয়ে গেছে। বিশেষ করে মহানগর বিএনপির অনেক নেতা পুলিশী ঝামেলামুক্ত থাকার পরেও মাঠে নামার চেষ্টা করছেন না। কেন মাঠে নামছেন না এমনটার কারন খুঁজতে গিয়ে জানা গেছে প্রত্যাশীত মূল্যায়নের ক্ষেত্রে শীর্ষ নেতৃত্বের খামখেয়ালী থাকায় তারা কোন ধরনের কর্মসূচিতে যোগ দিচ্ছেন না। গত ৬ জানুয়ারী থেকে সারাদেশে অবরোধের ডাক দেন বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া। এখনো অবরোধ অব্যাহত আছে। এর সাথে চলছে হরতালও। একমাত্র বরিশাল ছাড়া অন্য সব জায়গায়ই কম বেশি সক্রিয় বিএনপির নেতাকর্মীরা। অথচ বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে খ্যাত বরিশালেই কেবল এর প্রভাব নেই। অনেকে বলছেন অন্যান্য বিভাগের চেয়ে এখানে রাগ ক্ষোভ অনেক বেশি। সেই কারনেই চাঙ্গা হচ্ছেনা আন্দোলন। বিশেষ করে মহানগর বিএনপির বড় পদে থাকা অনেক নেতা ইচ্ছে করেই মাঠে নামছেন না। কমিটির সাংগঠনিক পদে থাকা সাবেক ভারপ্রাপ্ত মেয়র আলতাফ মাহমুদ সিকদার প্রায় এক বছর ধরে দলীয় কর্মসূচিতে আসছেন না। অথচ কমিটি গঠনের পূর্বে তার সরব উপস্থিতি ছিলো দলীয় সব কর্মকান্ডে। কেন আসছেন না তার কারন খুঁজতে গিয়ে জানা গেছে সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র নির্বাচন নিয়েই মূলত তার ক্ষোভের সূত্রপাত হয়। নাম প্রকাশে এক বিএনপি নেতা জানান, সিটি কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র হিসেবে তিন মাস দায়িত্ব পালনকালে দলের অনেক নেতাকর্মীদের সুবিধা করে দিয়েছেন আলতাফ মাহমুদ সিকদার। এমনকি তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে চাকুরী হারানো ৩৯ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর চাকুরী ফিরিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা করেন তিনি। এত কিছুর পরেও এবারের ১ নং প্যানেল মেয়র হাতছাড়া হয় তার। অভিযোগ উঠেছে বিএনপির এক শীর্ষ নেতার ষড়যন্ত্রের কারনেই প্যানেল মেয়র আলতাফকে হারতে হয়। ১ নং প্যানেল মেয়র নির্বাচিত হন কেএম শহীদুল্লাহ। সেই থেকে কোন ধরনের কর্মসূচিতে আসছেন না আলতাফ মাহমুদ। এমনটা শুধু আলতাফের ক্ষেত্রেই নয়। অনেক বিএনপি নেতারাই সঠিক মূল্যায়ন না পেয়ে রাজনীতি ছেড়ে দিয়ে ব্যবসা-বনিজ্যের দিকে মন দিয়েছেন। সময়ের সাথে সাথে সবার বুদ্ধি-বিবেচনায় পরিবর্তন এসেছে। বার বার হোচট খেয়ে এখন অনেকেই ঝুকি নিতে চাইছেন না। তারা বলছেন ক্ষমতামলে যারা টাকা কামিয়েছেন তারা নিরাপদে চলে গেছেন। আজকে যারা মাঠে মার খাচ্ছে তাদেরই একদিন দল হয়তো চিনবেনা। তাই শুধু শুধু মাঠে মার খেতে রাজী নন অধিকাংশ নেতাকর্মীরা।