যুবলীগ নেতা লিখনসহ দুইজনকে কুপিয়ে জখম

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ র‌্যাবের হাতে অস্ত্রসহ আটক মামলায় জামিনে বের হওয়া যুবলীগ নেতা কামরুজ্জামান লিখন সহ দুই জনকে কুপিয়ে জখম করেছে সন্ত্রাসীরা। গত রবিবার গভির রাত ২টার দিকে নগরীর কাশিপুর ইছাকাঠি এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। যুবলীগ নেতা লিখন ওই এলাকার আব্দুল মান্নান খানের ছেলে। এছাড়া আহত অপর যুবলীগ নেতা রাজিব হোসেন ওরফে পন্ডিত রাজিব নগরীর গোরস্থান রোডের বাসিন্দা। এদের কুপিয়ে জখম করার সঠিক কারন জানা যায়নি। তবে এলাকাবাসীর দাবী মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করেই দুই যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে জখম করেছে তাদের প্রতিপক্ষ মাদক ব্যবসায়ীরা।
এদিকে সন্ত্রাসী হামলায় আহত দুই যুবলীগ নেতার মধ্যে গতকাল সোমবার উন্নত চিকিৎসার জন্য লিখনকে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এর পূর্বে রাতেই তাদের দুইজনকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে স্থানীয়রা। শেবাচিম হাসপাতালের সার্জারী বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসকরা জানিয়েছেন ধারালো অস্ত্রের আঘাতে লিখনের হাত এবং পায়ের রগ কেটে গেছে। এছাড়া রাজিবের অবস্থাও গুরুতর।
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, দীর্ঘ দিন যাবত ইছাকাঠি এলাকার বাসীন্দা ক্ষমতাসীন দলের যুবলীগ নেতা পরিচয়দানকারী মাদক ব্যবসায়ী সজল, মামুন, অপু, দিপু, মিল্টন সহ তাদের সহযোগিদের সাথে মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রন নিয়ে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও বর্তমান যুবলীগ সদস্য লিখনের বিরোধ চলে আসছিলো। সম্প্রতি তাদের সাথে লিখনের বাকবিতন্ডাও হয়েছে।
এরই সূত্র ধরে গত রোববার গভির রাতে একই এলাকার মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রকারী সজল, মামুন, অপু, দিপু ও মিল্টন সহ ১০/১২ জন মিলে লিখন এবং তার সাথে থাকা যুবলীগ নেতা রাজিবকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে।
লিখনের অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় তার সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে অপর আহত যুবলীগ নেতা রাজিব হোসেন পরিবর্তনকে জানান, রোববার রাতে তিনি ও লিখন মহানগর আওয়ামী লীগ ও কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লার বাসায় ছিলেন। কাজ সেরে সেখান থেকে বাড়ি ফিরতে রাত ২টা বেজে যায়।
রাজিব জানায়, লিখন ও তিনি রাতে বাসায় ফেরার পথে কাশিপুর এলাকার ইছাকাঠি তাদের বাড়ির কাছে বহুমুখি সমবায় সমিতির সামনে স্থানীয় সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী সজল ও মামুন সহ উল্লেখিত সহ আরো ১০/১২ জন তাদের উপরে অতর্কিত হামলা চালায়। এসময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাদেরকে এলোপাথারী কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে রাস্তায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। তখন তাদের ডাক চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এসে তাদেরকে উদ্ধার করে শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করে দেন।
এদিকে শেবাচিম হাসপাতালের সার্জারী বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. এএসএমএস সারফুজ্জামান রুবেল, পরিবর্তনকে জানান, লিখনের শরীরের বিভিন্ন স্থানে কোপের জখম এবং দুই হাত ও পায়ের রগের পাশাপাশি হাড় কেটে গেছে। এছাড়া অপর আহত রাজিবের একই অবস্থা। কিন্তু শেবাচিমে আধুনিক যন্ত্রপাতি না থাকায় এখানে তাদের পূর্নাঙ্গ চিকিৎসা দেয়া সম্ভব নয়। তাই প্রাথমিক চিকিৎসা ও রক্তক্ষরন বন্ধ করে উন্নত চিকিৎসার জন্য দু’জনকেই ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে প্রেরন করা হয়েছে।
আহতদের পরিবারের দাবী ষড়যন্ত্র এবং পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে লিখন ও রাজিবকে কুপিয়ে জখম করেছে। এই ঘটনায় উল্লেখিত সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করবেন বলে জানান তারা।
মহানগরীর বিমানবন্দর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মতিয়ার রহমান জানান, খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পাশাপাশি আলামত যা পেয়েছেন তা সংরক্ষন করেছেন। কিন্তু দুপুর পর্যন্ত এই ঘটনায় কেউ থানায় অভিযোগ দেয়নি। মামলা বা অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
উল্লেখ্য, সন্ত্রাসী হামলার শিকার যুবলীগ নেতা লিখনকে সম্প্রতি অস্ত্র সহ আটক করে র‌্যাব। এই ঘটনায় র‌্যাব বাদী হয়ে থানায় একটি মামলায় দায়ের করেন। ওই মামলায় কয়েকদিন পূর্বে জামিনে বের হয় লিখন।