যুবদলের মিছিলে পুলিশের লাঠিচার্জ ॥ বাঁধার মুখে স্বেচ্ছাসেবক দলের সড়কে অবস্থান

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ কুমিল্লায় বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির প্রতিবাদে নগরীতে পুলিশী বাঁধা উপেক্ষা করে বের হওয়া যুবদলের বিক্ষোভ মিছিলে লাঠিচার্জ করেছে পুলিশ। এতে দক্ষিণ জেলা যুবদলের সভাপতি এ্যাড. পারভেজ আকন বিপ্লব ও সাধারন সম্পাদক এ্যাড. এএইচএম তসলিম উদ্দিনসহ কমপক্ষে ১০ জনের মত নেতা-কর্মী আহত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর অংশ হিসেবে সদর রোডে নগরীর অশ্বিনী কুমার হলের সামনে কর্মসূচি পালন কালে এই ঘটনা ঘটেছে।
এছাড়া পুলিশের বাঁধা উপেক্ষা করে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত দফায় দফায় সদর রোডে অশ্বিনী কুমার হলের সামনে ও বিএনপি’র দলীয় কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বরিশাল জেলা ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক ও ছাত্রদল। এছাড়া বিকালে মহানগর যুবদল ও জেলা ছাত্রদলের একাংশ পৃথকভাবে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে। গতকাল সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত দিনভর বিএনপি’র বিক্ষোভ কর্মসূচির ফলে মিছিলের নগরীতে পরিনত হয় সদর রোড সহ আশ-পাশের এলাকা। উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে বিএনপি’র রাজনৈতিক মহলে।
সকালে দক্ষিণ জেলা যুবদলের বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ যোগ দিতে দলীয় নেতা-কর্মীরা মিছিল সহকারে দলীয় কার্যালয়ের সামনে এসে অবস্থান নেয়। পরবর্তীতে সেখানে দক্ষিণ জেলা যুবদলের সভাপতি এ্যাড. পারভেজ আকন বিপ্লব এর সভাপতিত্বে সংক্ষিপ্ত প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এসময় দক্ষিণ জেলা যুবদলের সাধারন সম্পাদক এ্যাড. এইচএম তসলিম উদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যাড. হাফিজ আহমেদ বাবলু সহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশ পরবর্তীতে দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে যুবদল নেতা-কর্মীরা। এসময় পুলিশ তাদের বাঁধা দেয় এবং ব্যানার ছিনিয়ে নেয়। পুলিশের বাঁধা উপেক্ষা করে দলীয় নেতা-কর্মীরা সদর রোডে মিছিল শুরু করলে পুলিশ তাতে লাঠিচার্জ শুরু করে। এক পর্যায় মিছিলটি পন্ড হয়ে গেলে নেতা-কর্মীরা দলীয় কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে সরকার বিরোধী শ্লোগানের মাধ্যমে বিএনপি’র চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জারিকৃত গ্রেপ্তারী পরোয়ানা ও ষড়যন্ত্রমুলক মামলা প্রত্যাহারের দাবী জানান।
দক্ষিণ জেলা যুবদলের সভাপতি এ্যাড. পারভেজ আকন বিপ্লব গনমাধ্যমকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে বলেন, কুমিল্লা জেলা জজ আদালতে দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বিএনপি’র চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা ষড়যন্ত্রমুলক মিথ্যা, বানোয়াট মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। এরই প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর অংশ হিসেবে বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে শান্তিপূর্ন ভাবে মিছিল বের করতে গেলে সরকারের পেটোয়া পুলিশ বাহিনী নেতা-কর্মীদের উপর লাঠিচার্জ করে।
তিনি বলেন, সরকার তার পেটোয়া পুলিশ বাহিনী দিয়ে নেতা-কর্মীদের উপর জুলুম নির্যাতন এবং দেশ নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে সরকার বিএনপিকে দমিয়ে রাখতে চায়। বেগম খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার করে গনতন্ত্রকে রুদ্ধ করা যাবে না। দেশের গনতন্ত্র ও জনগনের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনতে বিএনপি লড়াই করে যাবে।
এদিকে যুবদলের মিছিলে বাঁধা প্রদানের পর পরই দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে জেলা ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দল। দলটির বরিশাল জেলা শাখার আহ্বায়ক, মহানগর বিএনপি’র সহ-সভাপতি ও বিসিসি’র প্যানেল মেয়র আলহাজ্ব কেএম শহিদুল্লাহ, মহানগর শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক, মহানগর বিএনপি’র যুগ্ম সাধারন সম্পাদক ও কাউন্সিলর মীর জাহিদুল কবীর জাহিদ, যুগ্ম আহ্বায়ক মাহাবুবুল আলম পিন্টু, মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আমিনুল ইসলাম লিপন ও জাবের আবদুল্লাহ সাদি’র নেতৃত্বে মিছিলটি হল চত্ত্বর অতিক্রম করতে চাইলে পুলিশ তাদের বাঁধা দেয়। এ নিয়ে পুলিশের সাথে বাকবিতন্ডা এবং ধাক্কা ধাক্কির এক পর্যায় রাস্তার উপর বসে পড়েন স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা-কর্মীরা। পরবর্তীতে সেখানে প্রায় আধা ঘন্টার মত অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ এবং সরকার বিরোধী শ্লোগান দেয় নেতা-কর্মীরা। এসময় অন্যান্যদের মধ্যে ছাত্রদল নেতা মশিউর রহমান মঞ্জু, রাশেদুজ্জামান, ভুইয়া মামুন, বিপ্লব হাওলাদার, কামাল হোসেন, রবিউল আউয়াল শাহিনপ্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।
অপরদিকে একই সময় বেলা ১১টার দিকে দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল বরিশাল জেলা ও মহানগর শাখার একাংশের নেতা-কর্মীরা। মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক খন্দকার আবুল হাসান লিমন এর সভাপতিত্বে বিক্ষোভ সমাবেশে কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক, মহানগর শাখার সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও বিএনপি’র মহানগর শাখার সহ-ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক আফরোজা খানম নাসরিন সহ অন্যান্য নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। ছাত্রদল মিছিল বের করতে চাইলে তাতেও পুলিশ বাঁধা প্রদান করলে মিছিলটি পন্ড হয়ে যায়। তবে দলীয় কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন তারা। এছাড়া জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম সুজন’র নেতৃত্বে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। নগরীর বগুরা রোডে অনুষ্ঠিত হওয়া এই বিক্ষোভ মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত প্রতিবাদ সামাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এসময় নেতৃবৃন্দ বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারী পরোয়ানা সহ দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহারের দাবী জানান।
এছাড়া বিকালে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে মহানগর যুবদল। মহানগর যুবদলের সভাপতি আক্তারুজ্জামান শামীম এর নেতৃত্বে নগরীর জেলখানার মোড় থেকে শুরু হওয়া মিছিলটি হাসপাতাল রোড প্রদক্ষিণ করে। তবে এতে মহানগর কমিটির সাধারন সম্পাদক মাসুদ হাসান মামুনকে দেখা না গেলেও সহ-সভাপতি মাকসুদুর রহমান মাসুদ, যুগ্ম সাধারন সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম জাহান, সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান পলাশ সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলন। মিছিল শেষে এক সংক্ষিপ্ত প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে বেগম খালেদা জিয়া’র বিরুদ্ধে দেয়া গ্রেপ্তারী পরোয়ানা ও ষড়যন্ত্রমুলক মামলা প্রত্যাহারের দাবী জানান নেতৃবৃন্দ।