বরিশাল মহানগর যুবদলের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

জুবায়ের হোসেন॥ যুবদলের নিষ্ক্রিয় নেতাকর্মীদের সক্রিয় করতে কমিটি গঠনের উদ্যোগকে বর্তমান কমিটি সাধুবাদ জানালেও প্রকাশ করেছেন দুঃখ। তাদের দাবী “তারা নিষ্ক্রিয় ছিলেন না”। তাদের নিষ্ক্রিয় হতে বাধ্য করা হয়েছে। যুবদলের ব্যানারে কোন কর্মসূচী পালন করা না হলেও মূল দলের কর্মসূচীতে সক্রিয় ছিলেন তারা।
তবে তাদের দাবীকে পুরো পুরোই ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছেন যুবদলের নেতৃবৃন্দসহ দলের দিক নির্দেশনা দানকারী নেতা। তাদের মতে কাগজে কলমে থাকলেই চলে না থাকতে হবে রাজপথে সংগ্রামে। একই সাথে রাজনৈতিক ভাবে নিষ্ক্রিয় করার অভিযোগকে রাজনৈতিক দূর-দর্শিতার অভাব বলেও জানিয়েছেন তারা।
গতকাল শনিবার দৈনিক আজকের পরিবর্তনে “নিষ্ক্রিয় নগর যুবদলের নতুন কমিটির গুঞ্জন” শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সেখানে বরিশাল মহানগর যুবদলের তৃণমূল এর একটি সূত্রের অভিযোগ ছিল কেন্দ্রীয় যুবদলের সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল স্বাক্ষরিত মহানগর যুবদলের কমিটির ব্যাপারে। অভিযোগে বলা হয় যে কোন দলীয় কর্মসূচীতে নিষ্ক্রিয় ছিলো ঐ কমিটির সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক।
এই অভিযোগের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে কমিটির সাধারন সম্পাদক আক্তারুজ্জামান শামীম পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, বরিশাল যুুবদলের রাজনীতির বৈধ পদ পদবী নিয়ে থাকলেও তাদের রাখা হয়েছে কোনঠাসা করে। নিষ্ক্রিয় তারা ছিলেন না। তাদের নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। ৫ জানুয়ারী সরকারের অবৈধ নির্বাচন বাতিলের দাবীর আন্দোলনে তিনি ছিলেন প্রকাশ্য রাজপথে। এজন্য তাকে মামলা হামলার শিকার হতে হয়েছে। এছাড়াও দলীয় বিভিন্ন কর্মসূচীতে দলীয় কার্যালয়ে স্ব-শরীরে ছিলেন তিনি। তবে তার সক্রিয়তা নিয়ে যারা অভিযোগ করেছে তারা দলের নয়, ব্যক্তি কেন্দ্রীক রাজনীতি করেন বলে দাবি করেছের শামীম।
এছাড়াও তারা বিভিন্ন কর্মসূচীতে উপস্থিত হলেই ঐ সকল নেতাকর্মী দ্বারা বিভিন্নভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন সাধারন সম্পাদক।
উদাহরন হিসেবে আকাতারুজ্জামান শামীম জানান, পূর্বে তিনি যুবদলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন করতে গিয়ে রাজনৈতিক রোষানলে পড়ে দলীয় কর্মীদের হামলার শিকার হয়েছেন। এছাড়াও কর্মসূচীতে অংশ নিলে তাদের নাম বলা, বক্তৃতা দেয়াতো দূরের  কথা তাদের মঞ্চে দাঁড়ানোর সুযোগ পর্যন্ত দেয়া হয় না।
তিনি আরও বলেন আমাদের নিষ্ক্রিয় করার চেষ্টা করা হলেও আমরা নিষ্ক্রিয় নই। আমরা আমাদের মত রাজনীতি করি। বর্তমান কমিটিতে সম্ভাব্যদের বিষয়ে তিনি বলেন, যাদের নামের গুঞ্জন উঠেছে তাদের পূর্বে অনেক বিতর্কিত ইতিহাস রয়েছে। এছাড়াও তাদের মধ্যে অনেকেই আছে অন্য সংগঠনে। তাদের ঐ সংগঠনের দায়িত্বই ঠিকভাবে পালন করতে পারছেন না। কিভাবে তারা যুবদল সামলাবেন।
এছাড়া এখন মারামারি করে টিকে থাকাতো সম্ভব নয় কারন সেই বয়সটি আর নেই। তার এই বক্তব্যের প্রতি তীব্র নিন্দা জানিয়ে ২৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও মহানগর যুবদলের আহবায়কের দায়িত্ব পালন করা জিয়া উদ্দিন সিকদার বলেন, আক্তারুজ্জামান শামীমের রাজনৈতিক দূরদর্শিতার অভাব রয়েছে বিধায় এমন কথাগুলো বলেছেন। তাদের এমন অভিযোগ বিএনপির কোন নেতাকর্মীরাই মেনে নেবে না। এটি কোন রাজনৈতিক নেতার বক্তব্য হতে পারে না। রাজনীতি দেশ ও দশের স্বার্থে নেতার স্বার্থে নয়। যার অবস্থান তাকেই করে নিতে হয়। হাত ধরে কেউ অবস্থান করে দেয় না।
তিনি আরও বলেন, মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল গঠিত কমিটি দেয়ার দিন ক্ষণটাই ছিল অশুভ। তাই এর থেকে ভাল কিছু আশা করা উচিত না। কমিটি গঠন যুবদলের ক্ষতিকরার একটি প্রচেষ্টা ছিল। ঐ কমিটি নামে মাত্র এর কোন কার্যক্রম নেই।
তিনি উদাহরণ স্বরূপ ব্যঙ্গ করে বলেন, কাজীর গরু খাতায় আছে গোয়ালে নেই। নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগে অভিযুক্তরা কখনই রাজপথে ছিল না। এমনকি তাদের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতেও ছিল অনুপস্থিত। আন্দোলন চলছে চলবে তাতে যদি পদবীতে থাকি তবেও দায়িত্ব পালন করবো আর না থাকলেও করব বলেন জিয়া।
মহানগর বিএনপির সভাপতি এ্যাডঃ. মজিবর রহমান সরোয়ার বলেন, বরিশালে যুবদলের কোন কমিটি আছে বলে জানা নেই। কারন তাদের কোন কর্মসূচীতে কখনই দেখা যায়নি। কমিটি কাগজ কলমে থাকলেই চলে না। মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের নিজস্ব লোকজন দিয়ে ঢাকায় বসে এই কমিটি করেছেন। সে বরিশালের ছেলে তার উচিৎ ছিল সবাইকে নিযে কমিটি করা। সে যদি ভিন্ন ভাবে করে তা আমার জানা নেই। আর কমিটি থাকলেই হবে না তার কার্যক্রম থাকতে হবে।
নিস্ক্রিয় করার প্রচেষ্টার প্রসঙ্গে এ্যাড. সরোয়ার বলেন, কার্যক্রম নিস্ক্রিয় করে কিভাবে, জাতীয় কার্যক্রম কেউ কিভাবে নিস্ক্রিয় করতে পারে। আর আমার পছন্দ অপছন্দের কোন বিষয় নেই। যে রাজপথে থাকবে সেই দলের জন্য গুরুত্বপূর্ন। আর যারা নিস্ক্রিয়তায় অভিযোগ অস্বীকার করেছে তাদের প্রসংগে তিনি বলেন, যে সকল সংগঠনের নুন্যতম অস্তিত্ব আছে তারাও ১০/২০ জন নিয়ে কর্মসূচী পালন করে না।
যুবদলের কমিটি সম্পর্কে বলেন, যুবদল এর কোন কার্যক্রম নেই তাই কমিটি খুব গুরুত্বপূর্ন। তবে আলাপ আলোচনার ভিত্তিতে কমিটি হোক এটাই আমাদের কাম্য।