যুবকের বিভাগীয় সমন্বয়কারী সহ ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ নগরীর ভেনাস শপিং কমপ্লেক্সের ষ্টল মালিকদের জোরপূর্বক বেদখল করার হুমকী দেওয়ায় যুবক হাউজিং এন্ড রিয়েল এষ্টেট ডেভেলপমেন্ট লিঃ বরিশাল বিভাগীয় সমন্বয়কারী একেএম আব্দুল মজিদ সায়েস্তাবাদী সহ ৮ জনের বিরুদ্ধে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার ডিক্রি চেয়ে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গতকাল সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে ষ্টল মালিক আবুল কালাম আজাদসহ ১৫ জন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। আদালতের বিচারক মোঃ ইউসুফ হোসেন মামলাটির আদেশ দানের পরবর্তী দিন ধার্যের নির্দেশ দেন। মামলায় অভিযুক্ত অন্যান্যরা হলো নগরীর নাজির মহল্লার ভাষানচর কুটিরের রাশিদা আক্তার চৌধুরী ও তার স্বামী নুরে আলম চৌধুরী, মেহেন্দিগঞ্জের সাত হাজার বিঘার মৃত শরীফ আলী খানের ছেলে মোঃ সাইদুল হক, সদর উপজেলার হায়াত সারের আঃ মালেক হাওলাদারের ছেলে মোঃ মাসুম হাওলাদার, ভাটিখানা জোড় মসজিদ রোডের মৃত আব্দুল হাশেম তালুকদারের ছেলে আঃ কাদের তালুকদার, বিএম কলেজ রোড বৈদ্যপাড়ার মৃত মতলেব হাওলাদারের ছেলে গোলাম কিবরিয়া বাচ্চু ও উত্তর আমানতগঞ্জের মৃত অহেদুজ্জামানের ছেলে সামসুজ্জামান টুটুল। আদালত সূত্র জানায় ১৯৮৫ সালে নগরীর কেবি হেমায়েত উদ্দিন রোডের ভেনাস শপিং কমপ্লেক্স গড়ে তোলেন মশিউর রহমান চৌধুরী। এ সময় সেখানে ষ্টল বরাদ্দ দিলে ১৯৮৭ সালে বর্তমান ষ্টল মালিকরা দোকান বরাদ্দ নেয় এবং ম্যানেজিং ডাইরেক্টর মোঃ মশিউর রহমান চৌধুরীর সাথে চুক্তিতে আবদ্ধ হয়ে জামানত বাবদ টাকা রেখে সুনামের সাথে ব্যবসা পরিচালনা করেন। পরে ২০০৫ সালে ১৮ মার্চ ভেনাস শপিং কমপ্লেক্স দেড় কোটি টাকায় যুবক হাউজিং এন্ড রিয়েল এষ্টেট ডেভেলপমেন্ট লিঃ’র কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়। এতে মশিউর রহমান চৌধুরী পূর্ববর্তী ষ্টল মালিকদের যুবকের সাথে নতুন চুক্তিতে আবদ্ধ হতে বললে যুবক তাদের নতুন অস্থায়ী ঘর ভাড়ার চুক্তিনামা সম্পাদন করে দেয়। এছাড়া ইতিপূর্বে ঘরভাড়া চুক্তিতে যে জামানত রক্ষিত ছিল তা যুবকের পক্ষে পূর্ববর্তী মালিক মশিউর রহমান চৌধুরীর কাছ থেকে বুঝিয়া নিয়া ষ্টল মালিকদের সাথে নতুন চুক্তি করেন যুবক। চুক্তি অনুসারে রূপালী ব্যাংক কেবি হেমায়েত উদ্দিন রোড শাখার ষ্টল মালিকরা তাদের মালিকভাড়া পরিশোধ করে আসছিলেন। এদিকে যুবক হাউজিং এন্ড রিয়েল এষ্টেটের সকল কার্যক্রম সরকার বন্ধ করে দিলে ষ্টল মালিকরা তাদের মাসিক ভাড়া ব্যাংকে জমা দিতে সন্দিহান হয়ে পড়েন। পরে তারা আদালতের শরনাপন্ন হলে আদালত তাদের মাসিক ভাড়ার টাকা ব্যাংকে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন। বর্তমান সময়ে ষ্টল মালিকরা তাদের ষ্টল ভাড়ার টাকা ব্যাংকে জমা দেওয়ার প্রেক্ষিতে যুবকের কিছু অসাধু কর্মকর্তা পরস্পর যোগসাজসে ওই সকল ষ্টল গুলো আত্মসাতের জন্য ষ্টল মালিক ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদের হুমকী দেয়। এ ঘটনায় গতকাল মামলায় অভিযুক্তরা বিবাদীরা যাতে স্টল মালিকদের জোর পূর্বক বেদখল করিতে না পারে, অথবা কোন প্রকার অবৈধ অনুপ্রবেশ করিতে না পারে তন্মর্মে যুবক হাউজিং এন্ড রিয়েল এষ্টেটের কর্মকর্তা একেএম আব্দুল মজিদ সায়েস্তাবাদীসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার ডিক্রি পেতে মামলা দায়ের করেন।