যুগ্ম মহাসচিবের সংবর্ধনা নিয়ে বিএনপিতে গ্রুপিং

রুবেল খান ॥ কেন্দ্রিয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব এ্যাড. মজিবর রহমান সরোয়ারকে সংবর্ধনা দেয়া নিয়ে নগরীতে বিএনপিতে ফের গ্রুপিং শুরু হয়েছে। এই অঞ্চল থেকে পাঁচ জন নেতা কেন্দ্রিয় কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদ পেলেও মজিবর রহমান সরোয়ারকে একক ভাবে সংবর্ধনার উদ্যোগে প্রকাশ্য গ্রুপিং এর সৃষ্টি হয়েছে। সংবর্ধনা নিয়ে বিএনপি’র একটি অংশ বিরোধীতা ও বর্জন করছেন। যদিও বিএনপি’র এমন সংকটময় মুহুর্তে সংবর্ধনার নামে আনন্দ উচ্ছাস করার পক্ষপাতিত্ব নন বলে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে দাবী বিএনপির দক্ষিন জেলার একটি অংশের।
সূত্রমতে, সদ্য ঘোষনা হওয়া বিএনপি’র কেন্দ্রিয় কমিটির আংশিক পদে নেতাদের নাম ঘোষনা হয়। প্রথম ধাপে যুগ্ম মহাসচিব পদে বিএনপি’র বরিশাল মহানগরের সভাপতি ও কেন্দ্রের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যাড. মজিবর রহমান সরোয়ার এবং যুবদলের কেন্দ্রিয় কমিটির সভাপতি ও বিএনপি জাতীয় কমিটির যুব বিষয়ক সম্পাদক সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল এর নাম ঘোষনা হয়।
একই দিন বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক পদে মহিলা দলের নেত্রী এ্যাড. বিলকিছ আক্তার জাহান শিরিন এর নামটিও ঘোষনা করেন কেন্দ্রিয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তাছাড়া দ্বিতীয় দফায় গত ১৮ এপ্রিল বরিশাল বিভাগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক পদে জেলা (উত্তর) বিএনপি’র সাধারন আকন কুদ্দুসুর রহমান ও ঝালকাঠি জেলা বিএনপি’র সাবেক সহ-সভাপতি মাহাবুবুল আলম নান্নু’র নাম ঘোষনা করা হয়েছে।
এদিকে দক্ষিনাঞ্চল থেকে ৫ জনকে কেন্দ্রিয় কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদ দেয়া হলেও শুধুমাত্র এ্যাড. মজিবুর রহমান সরোয়ারকে সংবর্ধনার আয়োজন করেছে বরিশাল বিএনপি’র একটি অংশ। যা নিয়ে বরিশালে বিএনপি’র মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, বিলকিস জাহান শিরিন, আকন কুদ্দুস এবং মাহবুবুল আলম নান্নু সমর্থকদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের অভিযোগ মজিবর রহমান সরোয়ার অনুসারীরা দলের মধ্যে বিরোধ এবং বিভাজন জিইয়ে রাখতেই সকলকে বাদ দিয়ে এমন সংবর্ধনার আয়োজন করেছেন। আর তাই মজিবর রহমান সরোয়ারের একক সংবর্ধনা বর্জন করেছেন তারা।
বিএনপি’র নেতৃবৃন্দ জানান, মজিবর রহমান সরোয়ার অনুসারী নেতৃবৃন্দ তাকে বিভাগীয়ভাবে সংবর্ধনার দেয়ার বিষয়ে ঘোষনা দিয়েছে। কিন্তু তার এই সংবর্ধনায় বিভাগীয় পর্যায়ের বেশিরভাগ নেতা-কর্মী একমত নয়। বরিশালের ৬ জেলার কিছু নেতারা মিটিং করে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। শুধু তাই নয়, বরিশাল উত্তর ও দক্ষিণ জেলা শাখা বিএনপি’র বিশাল একটি অংশ এই সংবর্ধনাকে অযৌক্তিক দাবী করে তা বর্জনের ঘোষনা দিয়েছেন।
এ বিষয়ে বিএনপি’র বরিশাল জেলা (দক্ষিণ) এর সভাপতি এবায়দুল হক চান বলেন, দল এখন অনেকটা বিপদগ্রস্থ অবস্থায় রয়েছে। আমাদের এখন একটাই লক্ষ্য তা হলো বর্তমান অগনতান্ত্রিক সরকারের পতন ঘটিয়ে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত করা।
তাছাড়া তিনি বলেন, দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া এবং সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান সহ অংসখ্য নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলার খড়গ ঝুলছে। ষড়যন্ত্রমুলক মামলায় হয়রানির শিকার হচ্ছেন তারা। তারেক রহমান দেশে ফিরতে পারছেন না। এমনকি সরকার বিরোধী আন্দোলন করতে গিয়ে বরিশালের অনেক নেতা-কর্মী হামলা মামলায় জর্জরিত হয়ে পালিয়ে আছেন। পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করার চেষ্টা করছে। তাই দলের এমন পরিস্থিতিতে এমন সংবর্ধনা অযৌক্তিক বলে দাবী করেন তিনি।
এবায়দুল হক চান বলেন, আমি মজিবুর রহমান সরোয়ারের বিপক্ষে নই। তবে তাকে একক ভাবে সংবর্ধনা দেয়ার পক্ষে আমি নই। কারন বরিশাল বিভাগে তিনি ছাড়াও আরো ৪ জন কেন্দ্রিয় কমিটিতে পদ পেয়েছেন। তাছাড়া এ্যাড. মজিবর রহমান সরোয়ার আওয়ামী লীগের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে যুগ্ম মহাসচিব হয়নি। যে তাকে একক ভাবে সংবর্ধনা দিতে হবে। ম্যাডাম তাকে ঐ পদে মনোনিত করেছেন। তার পরেও সংবর্ধনা দিতে হলে সবাইকেই দেয়া উচিৎ।
তিনি বলেন, কেন্দ্রিয় কমিটি এখন পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ ঘোষনা হয়নি। এখনো উপদেষ্টা, ভাইস চেয়ারম্যান ও সদস্য সহ অন্যান্য পদে নেতাদের নাম ঘোষনা হয়নি। পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে বরিশাল বিভাগে আরো অনেকের নাম শোনা যাচ্ছে। তারা কমিটিতে আসলে নেতৃবৃন্দ চাইলে তাদের সকলকে এক সাথে সংবর্ধনা দেয়া হবে। তাও আলোচনা সাপেক্ষে।
এদিকে এবায়দুল হক চান এর বক্তব্যের বিরোধীতা করে বিএনপি’র বরিশাল (উত্তর) জেলার সভাপতি মেজবাহ উদ্দিন ফরহাদ বলেন, মজিবর রহমান সরোয়ারকে বিভাগীয় ভাবে সংবর্ধনা দেয়া হচ্ছে। এখানে এবায়দুল হক চানের একার কথায় কিছু আসে যায় না।
পদ পওয়া অন্যাদের বাদ দিয়ে শুধুমাত্র মজিবর রহমান সরোয়ারকে সংবর্ধনার আয়োজনের কারন জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। যারা আয়োজন করেছে তারাই ভালো জানেন। আয়োজকদের মাঝে আপনার নাম রয়েছে বলে প্রশ্ন করা হলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, পর্যায়ক্রমে তাদেরকেও দেয়া হবে।
বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটিতে সদ্য পদ পাওয়া সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যাড. বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন বলেন, এই মুহুর্তে সংবর্ধনার বিষয়ে আমি একমত নই। কেননা, বর্তমান সরকারের আমলে নেতাকর্মীরা এতটাই আতঙ্কিত যে, ঘর থেকে বের হওয়াটাই তাদের জন্য কষ্টকর হয়ে দাড়িয়েছে। তবে নেতাদের জন্য কর্মীদের ভালোবাসা থাকতেই পারে। সে ভালবাসার স্থান থেকে নেতাদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা-অভিনন্দন জানাতে পারে। এর বেশি কিছু বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন তিনি।