যানবাহন নিবন্ধনে হয়রানি ও অসদাচারণের শিকার

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ যানবাহনের নিবন্ধনের সরকারি কঠোরতার সুযোগ নিচ্ছে বেসর্রৌকারি ব্যাংক। বিআরটিএ’র নির্ধারিত তিনটি ব্যাংকের মধ্যে ২টিতে নিবন্ধন ফি জমা দিতে গিয়ে হয়রানির শিকার হচ্ছে যানবাহন চালকরা। অভিযুক্ত সিটি ব্যাংক ও এনআরবিসি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতি, গ্রাহকদের সাথে অসদাচরণ, সিরিয়াল না দেয়া, সিরিয়ালের জন্য টাকা নেয়া, তদবির লবিংয়ে সিরিয়াল হেরফের করা সহ বেশ কিছু অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। তবে নিজেদের দোষ ঢাকতে বিষয়গুলোকে মিথ্যা জানিয়ে উল্টো নানা বিষয় তুলে ধরে ব্যাংক কর্র্তৃপক্ষ গেয়েছেন তাদের সাফাই। অভিযোগকারীরা তাদের বিস্তারিত অভিযোগে জানায়, প্রশাসন কর্তৃক রেজিষ্ট্রেশন বিহীন যানবাহন এর আটক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকেই বিআরটিএ তে পড়ে লম্বা লাইন। নিবন্ধন, ফিটনেস, নবায়ন ও ড্রাইভিং লাইসেন্সের ফি জমা দেয়ার জন্য হয় এই ভীড়। টাকা জমা দেয়ার জন্য নগরীর বিআরটিএ’র নির্ধারিত ব্যাংক তিনটির মধ্যে সিটি ব্যাংক ও এনআরবিসি ব্যাংক এর কর্তা কর্মচারীরা গ্রাহকদের সাথে অসদাচরণ করেন বলে জানায় অভিযোগকারীরা। তারা আরও জানায়, স্বজনপ্রীতির বিষয়টি। ফি জমা দিতে আসারা যদি তাদের চেনামুখ হয় তবে কাজ হয়ে যায় চোখের পলকে। তারা গ্রাহকদের সাথে খারাপ আচরন করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তাদের ইচ্ছেমত যাকে তাকে সিরিয়াল দিয়ে দিচ্ছেন। সাধারণরা লাইনে থাকলে প্রশাসন, বড় সরকারি অফিস এর কেউ এলেই একটি নয় একসাথে অনেকগুলো কাজ সহজেই হয়ে যায় তাদের দ্বারা। এমনকি তারা মোবাইল ফোনের তদবিরেও দিচ্ছেন সিরিয়াল। এছাড়া ব্যাংকের নি¤œ পর্যায়ের কর্মচারীরা টাকার বিনিময়ে আগে সিরিয়াল পাইয়ে দিচ্ছেন বলেও জানায় অভিযোগকারীরা। বিভাগের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা ও নগরীর বাসিন্দা অভিযোগকারীরা বলেন, অনেকেই ফি জমা দিতে এসেছেন দুদিন আগে। তবে সিরিয়াল না পাওয়ায় ও বাসস্থান দূরে হওয়ায় থাকছেন আবাসিক হোটেলে। যে অবস্থা তাতে কদিন থাকতে হবে তাও বলতে পারছেন না। ব্যাংক কর্তৃপক্ষের এমন অসদাচরনের জন্যই তাদের এই বিড়ম্বনা হচ্ছে বলেও জানান তারা। এ বিষয়ে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ এসেছে সিটি ব্যাংকের সদর রোড শাখার বিরুদ্ধে। এখানে গ্রাহকরা অভিযোগ করেছেন, ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনে দাড়িয়ে থাকলেও ক্যাশ কাউন্টার পর্যন্ত পৌছাতে পারছেন না কিন্তু কিছু গ্রাহককে সবার সামনেই অবৈধ সুবিধা দেয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ব্যাংকের ম্যানেজার বেশ কিছু গ্রাহকের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছে বলে একাধিক গ্রাহক পরিবর্তনকে জানিয়েছেন। এব্যাপারে বরিশাল শাখার বিক্রয় ও সেবা ব্যবস্থাপক ফরাজি মুস্তাফিজুর রহমান পরিবর্তনকে জানান, অভিযোগগুলো মিথ্যে। গ্রাহকরা সিরিয়াল না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে এমন অভিযোগ করছে। তারা প্রতি সোমবার থেকে প্রতিদিন ৩৫ জনের ফী জমা নিচ্ছেন। প্রথম দিকে প্রশাসনের লোকজন ও সরকারি অফিস কর্মচারী পরিচয়ে প্রথমে সিরিয়ালে কাজ হয়েছে। তবে তিনি এখন তাদের না করে দিয়েছেন। একসাথে টাকা জমা নেয়ার চাপ পড়ায় এমন বিড়ম্বনা হচ্ছে। তারাও প্রচুর কাজের চাপে আছেন এবং চাপ থেকে বাঁচার জন্য বিআরটিএ’র কাছে আরও কিছু ব্যাংক নির্ধারনের জন্য আবেদনও জানিয়েছেন। এছাড়া তারাও গ্রাহকদের ভোগান্তি কমানোর জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।