যানজট কমাতে খোড়াখুড়ি ও অবৈধ অটোরিক্সা বন্ধের সিদ্ধান্ত

সাইফ আমীন ॥ নগরীতে ভয়াবহভাবে বেড়েছে যানজট। এই কারনে ৫ মিনিটের গন্তব্যে যেতে নগরবাসীর অর্ধ ঘন্টা পার করতে হচ্ছে। ব্যস্ততম সময়ে যানযটের কারনে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে নগরবাসী। তাদের দাবি, বৈধ ও অবৈধভাবে চলাচলকারী অটোরিক্সার চালকদের ট্রাফিক পুলিশের আশকারায় যাত্রী উঠানো নামানোয় যানযটের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। এছাড়াও রয়েছে রাস্তা খোড়াখুড়ি। এ থেকে রক্ষায় উদ্যোগও নিয়েছে নগর কতৃপক্ষ। তাই ১ জুলাই থেকে অবৈধভাবে চলাচলকারী অটোরিক্সা বন্ধ করার ঘোষনা দিয়েছে। আর ঈদের পূর্ব পর্যন্ত খোড়াখুড়ি বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার বৃষ্টির প্রকোপ কিছুটা কমে গেলে ঈদ বাজারে ক্রেতার আগমন শুরু হয়েছে। ফলে নগরীর চকবাজার, সদর রোড, কাকলীর মোড়, জেলখানার মোড় সহ কয়েকটি এলাকায় সকাল ৮টার পরই যানজট শুরু হয়। দুপুর ৩টার পর যানজট কমলেও একই অবস্থার পুনারবৃত্তি ঘটে বিকেল থেকে। নগরীতে যানজটের জন্য প্রধানত দায়ী করা হয় অটোরিক্সার বেপরোয়া চলাচল।
যাত্রীদের অভিযোগ অটো চালকরা নগরীতে নিজেদের ইচ্ছেমত চলাচল করে। কোন আইন না মেনে যেখানে সেখানে থামিয়ে যাত্রী উঠা-নামা করায়। এছাড়াও কোন সংকেত না দিয়ে সংযোগ সড়কে প্রবেশ করে। এতে যেমন ছোট ছোট দুঘর্টনা ঘটে। এই নিয়ে রাস্তার মধ্যে তর্ক-বিতর্কে জড়ানোয় যানজটের সৃষ্টি হয়। কিন্তু ট্রাফিক পুলিশ তাদের বেপরোয়া কর্মকান্ডে কোন ব্যবস্থা নেয় না। যার কারনে চালকরা কোন নিয়ম তো মানেই না, বেপরোয়া আচরন করে।
অভিযোগ রয়েছে, বৈধ অবৈধ সকল অটোরিক্সা চালককে ট্রাফিক পুলিশকে টাকা দিতে হয়। ওই টাকা নেয়ায় ট্রাফিক পুলিশ তাদের আশকারা দেয়। অভিযোগকারীরা জানিয়েছে, অটো চালাতে কোন টোকেন লাগে না। প্রতি অবৈধ অটোতে ১ থেকে ২ হাজার টাকা মাসোয়ার দেয়।
সংশ্øিষ্ট সূত্র গুলো জানায়, বিসিসি লাইসেন্সপ্রাপ্ত অটোরিক্সা রয়েছে ২ হাজার ৬১০টি। কিন্ত নগরীতে কি পরিমান অটোরিক্সা রয়েছে তার কোন সঠিক পরিসংখ্যান নেই কারো কাছে। ধারনা করা হচ্ছে ৮ সহস্রাধিক অটোরিক্সা চলছে নগরীতে।
অটোরিক্সার নিয়ন্ত্রনহীন চলাচল এবং সেখানে-সেখানে অটোরিক্সা দাড় করিয়ে যাত্রীর তোলায় নগরীর সবগুলো সড়কেই যানজটের সৃস্টি হচ্ছে। লঞ্চঘাট, নথুল¬াবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল, রূপতালী বাস টার্মিনাল, জেলখানার মোড়, সিঅ্যান্ডবি রোড চৌমাথায় অটোরিক্সার অঘোষিত পার্কষ্টান্ডের কারনে ওই পথ দিয়ে যানবহন চলাচল দুরূহ হয়ে পড়েছে।
বিসিসির যানবাহন শাখার সুপারেটেন্ডেট মোঃ মাইনুল ইসলাম জানান, তারা অবৈধ অটোরিক্সা চলাচল বন্ধ করে দেওয়ার জন্য আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়ে নগরীতে মাইকিং করেছেন। ১ জুলাই থেকে অবৈধ অটোরিক্সা চলাচল বন্ধে অভিযান শুরু হবে।
এদিকে, বিসিসির ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট প্রকল্পের পানি সরবরাহ পাইপ স্থাপনের জন্য নগরীর সবগুলো সড়ক খোড়াখুরি করায় যানজটের অন্যতম কারন চিহিৃত করেছেন সাধারন জনগণ। বিশেষ করে ঈদ মৌসুমের মধ্যে নগরীর প্রধান সড়ক সদর রোড, ফকিরবাড়ি রোড সহ গুরুত্বপূর্ন সড়কগুলো খোড়াখুড়ি করায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।
বিসিসির পানি শাখার প্রধান প্রকৌশলী কাজী মনিরুল ইসলাম স্বপন জানান, ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টের কাজ করাচ্ছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। কাজ শেষে প্রকল্পটি বিসিসির কাছে হস্তান্তর করা হবে। জুনের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার জন্য সড়কের নিচে পাইপ স্থাপনে ঠিকাদার তরিঘরি করছিল। ঈদ মৌসুমে যানজটের বিষয়টি বিবেচনায় এনে সদর রোডে পাইপ স্থাপনের কাজ বন্ধ রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।