যাত্রী চাহিদা থাকলেও ঈদের আগে-পরে বিশেষ কোন ফ্লাইট দিলনা বিমান ॥ যাত্রীদের বিমান বন্দরে যাতায়াতের ব্যবস্থাটিও বন্ধ

বিশেষ প্রতিবেদক ॥ রাষ্ট্রীয় বিমান চলাচল সংস্থার দায়িত্বশীল মহল বরিশালবাশীর সাথে পুরনো আচরনই শুরু করেছে বলে অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে। যাত্রী চাহিদা থাকা সত্বেও পুনরায় বরিশাল সেক্টর থেকে জাতীয় পতাকাবাহী বিমান’কে তুলে দেয়ার ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। অতি সম্প্রতি একটি বেসরকারী আকাশ পরিবহন সংস্থা বরিশাল সেক্টরে সপ্তাহে ৪টি ফ্লাইট নিয়ে যাত্রা শুরুর পরে থেকেই বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স-এর দায়িত্বশীল মহলে যথেষ্ট উদাশীনতা পরিলক্ষত হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি বিভিন্ন মহল থেকে বিমান-এর সদর দফরের দায়িত্বশীল মহলকেও অবহিত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এমনকি বর্তমানে দেশের বাইরে থাকা বিমান
মন্ত্রী দেশে ফিরলে বিষয়টি তাকেও অবহিত করার কথা জানিয়েছেন একাধীক যাত্রী। বরিশাল বিমান অফিসের উদাসীনতা ও অবহেলায় এবার ঈদে দক্ষিনাঞ্চলের ঘরমুখি মানুষ চরম হতাশ ও ক্ষুব্ধ। ঈদের আগেÑপরে রাজধানী ঢাকা থেকে দেশের সবকটি গন্তব্যে বিমান-এর বিশেষ ফ্লাইট চলাচলের ব্যবস্থা করা হলেও ব্যতিক্রম শুধু বরিশাল সেক্টর। অথচ ঢাকা ও সন্নিহিত এলাকা থেকে বরিশাল আসার জন্য ঈদের আগে একটি টিকেট সংগ্রহে সাধারন মানুষ হণ্যে হয়ে ঘুরেছেন বিভিন্ন পরিবহন সংস্থার অফিসে। কিন্তু বিমান বরিশাল সেক্টরে কোন ফ্লাইট দেয়ার চিন্তাও করেনি। অপরদিকে ঈদের আগে-পরে ঢাকা থেকে সব গন্তব্যে ভাড়া এক হাজার টাকা পর্যন্ত হ্রাস করা হলেও বরিশাল বিমান অফিস থেকে তার কোন তথ্যও জানান হয়নি যাত্রীদের। শণিবার ঈদের আগে ঢাকা থেকে বরিশালমুখি শেষ ফ্লাইটটি ছিল বুধবার বিকেলে। সাধারন যাত্রীগন শেষ কর্ম দিবস বৃহস্পতিবার বিকেলে বা শুক্রবারে সকালে বরিশাল সেক্টরে ১টি বিশেষ ফ্লাইট দেয়ার দাবী জানালেও সে কথা কতৃপক্ষ কানে তোলেন নি। এমনকি ঈদের পরবর্তি দিন রবিবারের ফ্লাইটটি সকালের পরিবর্তে বিকেলে বা সোমবার সকালে দেয়ার অনুরোধও জানান হয়। কিন্তু কতৃপক্ষ নিজেদের স্বার্থে যাত্রীদের এসব দাবী উর্ধতন কতৃপক্ষকে জানাননি বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে ঈদের পরের দিন রবিবার সকালে বিমান ফ্লাইট বরিশাল থেকে মাত্র ১৯ জন যাত্রী নিয়ে ঢাকা যায়। অথচ ঐদিন বিকেলেই বেসরকারী ইউএস বাংলার ফ্লাইটে ৬৭ জন যাত্রী বরিশাল থেকে ঢাকায় পৌছে।
যশোর, রাজশাহী ও সৈয়দপুর সেক্টরে ঈদের আগে ও পরে একাধীক বিশেষ ফ্লাইটে যাত্রী পরিবহন করা হলেও বরিশাল সেক্টর থেকে কোন চাহিদাই পৌছেনি বিমান সদর দফÍরে। এমনকি এক সপ্তাহ আগে থেকে বিমান-এর জেলা ব্যবস্থাপক বরিশালে অনুপস্থিত ছিলেন। স্টেশন ম্যানেজারকেও খুজে পাওয়া যায়নি। তার দাপ্তরিক সেল ফোনটি পর্যন্ত বন্ধ পাওয়া যায় গত কয়েকদিন যাবত। গতকালও বরিশাল বিমান অফিসে ফোন করে জেলা ব্যবস্থাপক ও স্টেশন ব্যবস্থাপককে পাওয়া যায়নি।
অভিযোগ রয়েছে, রাষ্ট্রীয় জনগুর”ত্বপূর্ণ এ আকাশ পরিবহন সংস্থার দায়িত্বশীল কর্মকর্তাগন বরিশাল সেক্টরে যাত্রীদের চাহিদার বিষয়টি ওয়াকিবাহল থাকলেও সে সম্পর্কে উদাসীন। ফলে ঈদের আগের মত পরিবর্ত দিনগুলোতেও কর্মজীবীদের রাজধানীতে পৌছে দিতে বরিশাল সেক্টরে কোন বিশেষ ফ্লাইটের ব্যবস্থা করা হয়নি। খোজ নিয়ে জানা গেছে, আগামী বুধবারের ফ্লাইটের সব টিকেট বিক্রী ইতোপূর্বেই শেষ হয়ে গেছে। এর পরেও বহু যাত্রী বুধবারের ফ্লইটে একটি টিকেটের জন্যে বিমান অফিসে বার বারই স্বশরিরে হাজির হয়ে ও টেলিফোনে খোজ খবর নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। অথচ ঈদ পরবর্তী একটি বিশেষ ফ্লাইট বরিশালÑঢাকা সেক্টরে চলাচল করলে অনেক যাত্রী কিছুটা নির্বিঘেœ রাজধানীতে পৌছতে পারতেন। এমনকি আগামী রবিবারের ফ্লাইটেও মাত্র কয়েকটি আসন খালি ছিল গতকাল বিকেল পর্যন্ত। আজকের মধ্যেই সেসব শুণ্য আসনের টিকেট বিক্রীও শেষ হয়ে যেতে পারে বলে মনে করছেন ওয়াকিবাহাল মহল।
কিন্তু এর পরেও বরিশাল বিমান অফিসের দায়িত্বশীলদের টনক নড়েনি। গতকাল পর্যন্ত জেলা ব্যবস্থাপক ও স্টেশন ব্যবস্থাপক বরিশালে ছিলেন না।
অপরদিকে মহানগরী থেকে ১৫ কিলোমিটার দুরে বরিশাল বিমান বন্দরে যাত্রীদের যাতায়তে বিমান কতৃপক্ষের তত্ববধানে একটি গাড়ীর ব্যবস্থা করার নির্দেশ থাকলেও সে বিষয়েও উদাসীন স্থানীয় কতৃপক্ষ। ফলে বিমান-এর বরিশাল সেক্টরের যাত্রীদের দূর্ভোগ এখনো চরেমে। একজন যাত্রী আকাশ পথে বরিশাল বিমান বন্দরে পৌছে সেখান থেকে এ নগরীতে পৌছতে চরম দূর্ভোগের সাথে বিড়ম্বনারও শিকার হচ্ছেন। অর্থও গচ্চা যাচ্ছে প্রচুর। উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের নির্দেশে মাস দুয়েক আগে একটি বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের মিনিবাস বিমান অফিস থেকে বিমান বন্দর পর্যন্ত যাত্রী পরিবহনের কাজ শুরু করলেও সে বাহনটি বিকল হবার পরে কতৃপক্ষ বিকল্প কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেন নি। বেসরকারী ঐ প্রতিষ্ঠানটি ১শ টাকার বিনিময়ে মহানগরী থেকে বিমান বন্দরে যাত্রী পরিবহন করছিল। কিন্তু বরিশাল অফিস থেকে বিমান বন্দরে যাত্রী পরিবহনের ব্যবস্থাটি সম্পর্কে স্থানীয় বিমান কতৃপক্ষ কোন যাত্রীকে অবহিত করেননি বলেও অভিযোগ রয়েছে।
অপরদিকে গত এপ্রিলে বরিশাল সেক্টরে জাতীয় পতাকাবাহী বিমান ফ্লাইট চালু হবার পর থেকে বরিশাল সেলস অফিসে বিক্রয় ও বিপননের দায়িত্বে একমাস করে কর্মীদের ঢাকা থেকে পাঠান হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব কর্মীরা সপ্তাহের ফ্লাইটের দুদিন ছাড়া বেশীরভাগ সমাই অফিসে অনুপস্থিত থাকছেন। কাউন্টারে একজন কর্মী টেলিফোন রিসিভ করা ও উপস্থিত যাত্রীদের টিকেট ইস্যু করে সব দায়িত্ব শেষ করছেন। যাত্রীদের বিমান বন্দরের যাতায়াতের যানবাহনের ব্যবস্থা সহ বরিশাল বিক্রয় অফিস থেকে দেশ-বিদেশের যেকোন গন্তব্যের টিকেট বিক্রী ও তা রি-কনফার্ম করার যে সুযোগ বরিশাল বিমান অফিসে রয়েছে, তাও যাত্রীদেরকে অবহিত করা হয়না বলে অভিযোগ রয়েছে।
এসব মিলিয়ে ‘বরিশাল সেক্টর থেকে জাতীয় পতাকাবাহী বিমান কি আবারো ডানা গোটানোর পায়তারা করছে’ কিনা সে ব্যপারেও দক্ষিনাঞ্চলবাশীর মনে পুনরায় সন্দেহ দানা বাঁধতে শুরু করেছে বলে অভিযোগ অনেকের। এসব বিষয়ে গতকাল বরিশাল বিমান অফিসে জেলা ব্যবস্থাপক ও স্টেশন ব্যবস্থাপককে টেলিফোন করা হলেও ‘তারা নেই’ বলে জানান হয়। ‘কবে নাগাদ এসব কর্মকর্তাবৃন্দ বরিশালে থাকবেন’, তাও বলতে পারেন নি কর্তব্যরত বিমান কর্মীগন।