ম্যানেজে চলছে অশ্লীলতা

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ পত্রিকায় লিখলে আর অশ্লীল নৃত্য’র ছবি ছাপলে কিছু আসে যায় না। আমরা প্রশাসনকে নগদ টাকা দিয়ে ম্যানেজ করেই অশ্লীল নৃত্য চালাচ্ছি। আর নর্তকিদের নগ্ন দেহ না দেখালে দর্শক আসে না।
গতকাল আজকের পরিবর্তনে বরিশাল আন্তর্জাতিক বানিজ্য মেলার ভ্যারাইটি শো আর যাত্রা মঞ্চের ছবিতে নর্তকিদের অশ্লীল নৃত্য এবং সংবাদ প্রকাশের পরে দিনভর মেলার মাঠে এমনই দম্ভক্তি সোনা যায় অশ্লীলতা পরিচালনাকারীদের মুখ থেকে। আর এমন মন্তব্য করে গতকাল সোমবারও সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বানিজ্য মেলার ভ্যারাইটি শো, ম্যাজিক, পুতুল নাচের মঞ্চে নর্তকীদের নগ্ন শরীরে অশ্লীল নৃত্যে উপভোগ করেছে দর্শকরা। শুধু তাই নয়, মাত্র পাঁচ থেকে ১০ টাকার বিনিময়ে নর্তকিদের শরীরের গোপন অঙ্গ ১৫ থেকে ১৮ বছর বয়সি কিশোর দর্শকদের স্পর্শ করার দৃশ্য দেখে হতবাক হয়েছেন অন্যান্য দর্শকরাও।
এদিকে এত কিছুর পরেও নিরব দর্শকের ভুমিকা পালন করছেন প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিরা। এমনকি পত্রিকায় প্রকাশিত নর্তকিদের নগ্ন ছবি আর অশ্লিলতার রঙ্গ মঞ্চে ছবি ও সংবাদ প্রকাশের পরেও প্রশাসনের টনক নড়েনি। বানিজ্য মেলার যাত্রা, ভারাটি শো (বিচিত্রা অনুষ্ঠান) বা অন্যকোন বিনোদন মূলক আয়োজনকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সামাজিক বিনোদন বলা হচ্ছে। বেশ কয়েকজন দর্শক গতকাল প্রশ্ন তুলেছেন আর কত খোলামেলা হলে অশ্লীলতার পর্যায়ে পৌছাবে?
গতকাল সোমবার নগরীর বান্দ রোড মেরিন ওয়ার্কশপ মাঠের বানিজ্য মেলার নামে চলমান বিচিত্রানুষ্ঠান, ম্যাজিক শো, পুতুল নাচ এবং যাত্রা প্যান্ডেলে দেখাগেছে, প্রতিদিনের ন্যায় গতকালও নর্তকিদের অশ্লীল নৃত্যের চিত্র। প্যান্ডেলের চার পাশে আয়োজকদের পাশাপাশি পুলিশ সদস্যদের কড়া পহারায় ভেতরে এমন নগ্নতা উপভোগ করছে দর্শকরা। ১২ থেকে ১৮ যেকোন বয়সের কিশোর, যুবক থেকে শুরু করে সকল বয়সের মানুষ টাকার বিনিময়ে অশ্লীলতা উপভোগ করতে পারছে।
বিচিত্রানুষ্ঠান দেখে বের হওয়া নগরীর সিএন্ডবি রোড এলাকার বাসিন্দা শাহজাহান সিকদার বলেন, একটু নাচ দেখার জন্য ভেতরে ঢুকে ছিলাম। কিন্তু যা দেখলাম তা ঘরের বউ দেখাতে লজ্জা পায়। তার পরে আবার ১০ টাকা দিয়ে একটু বেশি আনন্দও নিতে পেরেছি। শুধু আমি নই যাত্রার, বিচিত্রানুষ্ঠান (ভ্যারাটি শো), পুতুল নাচ কিংবা ম্যাজিক শো প্রতিটি বিনোদনের প্যান্ডেলের দর্শকরাই প্রকাশ্যে নর্তকিদের নিয়ে আনন্দ ফুর্তিতে মেতে উঠছে। তবে কেউ ছবি তুললে তাকে মার ধর করে মোবাইল কিংবা ক্যামেরা যাই হোক তা রেখে দিচ্ছে আয়োজক ও পুলিশ সদস্যরা। এমন বাস্তবতা দেখা নগরীর নাজিরের পুল এলাকার আমির আলী বলেন, যে আসা করে বিচিত্রানুষ্ঠান এবং যাত্রা দেখতে ঢুকেছিলাম। তার থেকে বহু গুন বেশিই দেখিয়ে দিয়েছে আয়োজক এবং নর্তকিরা। তবে একটি সভ্য সমাজে এমনটি কখনই কাম্য নয় বলেও মন্তব্য করেন এই দর্শক।
এদিকে গতকাল সোমবার দৈনিক আজকের পরিবর্তন পত্রিকার প্রথম পাতায় নর্তকিদের নৃত্যের পাশাপাশি নগ্ন ছবি সহ সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। গতকাল এই সংবাদটি ছিলো বরিশাল নগরী, বানিজ্য মেলা এবং কাশিপুর আনন্দ মেলায় টক অব দ্যা টাউন। সবার মুখেই ছিলো গতকাল হয়তবা পুলিশ প্রশাসন এবং ক্ষমতাসীন দলের নীতি নির্ধারকরা এমন অশ্লীলতা চলতে দিবে না।
সাধারন মানুষের মুখে এমন কথা সোনা গেলেও মেলার আয়োজকদের দম্ভোক্তি ছিলো পুরোপুরি ক্লিন ইমেজে। তারা দম্ভের সাথে বলতে থাকেন, পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হলে কিছু হয় না। কারন যারা বন্ধ করবে তাদের (প্রশাসনকে) মোটা অংকের টাকা দিচ্ছি অশ্লীলতা দেখানোর জন্য। যখন মোটা অংকের উৎকোচ নেয়, তখন তারা বিষয়টি এমনিতেই এড়িয়ে যাবেন। তাই পত্রিকায় আরো বেশি করে লেখা হলেও আমাদের কিছুই আসে যায় না। এদিকে গতকালের প্রকাশিত সংবাদে মেট্রো পলিটন পুলিশ কমিশনার শৈবাল কান্তি চৌধুরী সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদককে সাথে বলেন, যাত্রা বা ভ্যারাইটি শো সহ কোথাও অশ্লীল নৃত্য হচ্ছে না। আমাদের পুলিশ সদস্যরা তা প্রতিনিয়ত পর্যবেক্ষন করছেন। এমনকি অশ্লীলতা হয়ে থাকলে তা পত্রিকায় ছবি সহ প্রকাশের জন্যও বলেন এই কর্মকর্তা। তবে তিনি ব্যবস্থা নিবেন।
উল্লেখ্য, যাত্রা জুয়ার বিরুদ্ধে নগরীতে প্রথম মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান করেছিলেন যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতা সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ। তার নেতৃত্বে নগরীতে সর্বশ্রেণির জনগন মানববন্ধনে অংশ নিয়েছিল।