মেয়র কামালের প্রচেষ্টায় নগর ভবনের সংগ্রামীদের চূড়ান্ত জয়

রুবেল খান ॥ যে কোন মূহুর্তে চাকরি হারিয়ে বেকার হওয়ার শংকা থেকে মুক্ত হয়েছে নগর ভবনের অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগ পাওয়া ৫৮ কর্মকর্তা-কর্মচারী। যোগদানের তিন বছর পর তাদের কাছে আকাঙ্খিত ও জীবনের সবচেয়ে আনন্দময় প্রাপ্তি নিয়োগ “স্থায়ীকরন” হয়েছে।
নিয়োগ পেয়ে চাকুরিচ্যুত ও আদালতের নির্দেশনা পেয়েও যোগদান করতে না পারার সংগ্রাম এবং বর্তমান মেয়রের সুদৃষ্টির করনে নিয়োগ পাওয়ার পরেও আবার ষড়যন্ত্রের দূর ভাবনায় পড়ে তারা।
পোড় খাওয়া এসব কর্মকর্তা কর্মচারীদের অজানা শংকা আর হতাশার সকল ষড়ন্ত্রের মেঘ থেকে নতুন দিনের সূচনার কৃতিত্ব মেয়র আহসান হাবিব কামালকে দিয়েছে তারা। স্থায়ী করনে শুধু কর্মকর্তা-কর্মচারী নয়, সুখের হাসি ফুটেছে তাদের স্ত্রী, সন্তান এবং মা-বাবার মুখেও।
নগর ভবনের প্রশাসনিক দপ্তর সূত্র জানিয়েছে, মহানগর বিএনপি’র সভাপতি এ্যাড. মজিবর রহমান সরোয়ার বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র থাকা কালে ১৩৩ জনকে অস্থায়ী ভিত্তিতে “মাষ্টার রোলে” নিয়োগ দেয়া হয়। তবে ওয়ান এলেভেনের সময় কাউন্সিলর আওলাদ হোসেন দিলু ভারপ্রাপ্ত মেয়র থাকা কালে নোটিশের মাধ্যমে তাদের চাকুিরচ্যুত করে।
তখন অমনিশার নিশার মধ্যেও আলোর দেখা পাওয়ার ক্ষীন সম্ভাবনা নিয়ে চাকুরি হারা কয়েক কর্মকর্তা-কর্মচারী সকলের পক্ষে আদালতে সংগ্রাম শুরু করে। উচ্চ থেকে সর্বোচ্চ আদালতে গিয়ে নিজেদের পক্ষে রায় পায়। কিন্তু তৎকালীন মেয়র তাদের নগর ভবনের কাছেও ঘেষতে দেননি।
অসহায় ও করুন আকুতি যখন ব্যর্থ তখন তারা নতুন দিনের আশায় জুয়ার মতো চাকুরি নিয়ে বাজি ধরে। দুঃসময়েও সেই বাজিমাত করে সংগ্রামের, ধৈর্ষ্যর আর চেষ্টার ফল হিসেবে নতুন মেয়র আহসান হাবিব কামাল তাদের যোগদানের সুযোগ করে দেন। সেই অস্থায়ী ভিত্তিতে পাওয়া নিয়োগ বহালে শান্তি ছিল। তবে ষড়যন্ত্রের কাটায় বিদ্ধ হওয়ার ভয়ও ছিল।
গত তিন বছর ধরে নামে মাত্র বেতনের তৃপ্তি দীর্ঘশ্বাসে পরিনত হয় যখন দেখে একইভাবে সাবেক প্রয়াত মেয়র শওকত হোসেন হিরনের সময় দেয়া নিয়োগপ্রাপ্তদের অর্ধেক পরিমান বেতন। এমনকি শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও কর্মক্ষেত্রে থাকার কষ্ট।
পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন অধ্যায়ের সমাপ্ত ঘটালেন বরিশাল সিটির মেয়র আহসান হাবিব কামাল। তার কঠোর প্রচেষ্টায় ৭৫ জনের মধ্যে ৫৮ জন নিয়মিত হয়েছে। বাকিদেরকেও নিয়মিত করতে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন বর্তমান নগর পিতা আহসান হাবিব কামাল। তার তৎপরতায় চাকুরীতে নিয়মিত হওয়া কর্মচারীরা এখন থেকে স্কেল অনুযায়ী বেতন পাবেন বলে জানিয়েছেন ট্রেড লাইসেন্স শাখার পরিদর্শক আনিছুর রহমান।
তিনি জানান, বর্তমান মেয়র আমাদের জন্য যে কাজটি করেছেন তা কখনই ভোলার নয়। তাই তার প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন তিনি।
এদিকে চাকুরী ফিরে পাওয়া একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী অভিযোগ করে বলেন, সিটি মেয়র’র প্রচেষ্টায় তিন বছর পর আমরা চাকুরীতে নিয়মিত হলেও এখন আবার আমাদের নিয়ে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে একটি প্রভাবশালী মহল। এ মহলটির সাথে সিটি কর্পোরেশনের কয়েকজন জড়িত হয়েছে।
তারা বিগত মেয়র শওকত হোসেন এর আমলে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধার পাশাপাশি নানা প্রকার অনিয়ম এবং দুর্নীতি করেছে। বতর্মান মেয়রের আমলে তারা দুর্নীতি না করতে পারায় নিয়মিত হওয়াদের পাশাপাশি সিটি মেয়র আহসান হাবিব কামাল’র বিরুদ্ধে নানা ধরনের চক্রান্ত করছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।